অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ইতালি-ইইউর উদ্যোগ
ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে ইতালি ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ইতালি-ইইউর উদ্যোগ

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে ইতালি ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়াকে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দেশটিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসন বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি বিশেষ ‘হটলাইন’ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।

ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুসিয়ানা লামোরগেজে ও ইউরোপিয়ান কমিশনার ফর হোম অ্যাফেয়ার্স ইলভা ইয়োহানসন সম্প্রতি তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ ও প্রধানমন্ত্রী হিচেম মেচিচির সাথে সাক্ষাত করেন। রোম ও তিউনিশের মধ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বিষয়ক একটি হটলাইন স্থাপন করা হবে বলে জানান তারা। উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে হটলাইনটি দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার হবে বলে জানানো হয়।

উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো থেকে লিবিয়া ও তিউনিশিয়া হয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সেক্ষেত্রে ইতালি হয়ে উঠে তাদের ইউরোপের প্রবেশদ্বার। বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩৫০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতালির উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেশি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লুসিয়ানা লামুরগেজে জানান, চলতি বছর ইতালিতে নয় হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী এসেছেন লিবিয়া থেকে আর তিন হাজার এসেছেন তিউনিশিয়া থেকে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো থেকে লিবিয়া ও তিউনিশিয়া হয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সেক্ষেত্রে ইতালি হয়ে উঠে তাদের ইউরোপের প্রবেশদ্বার।

এদিকে করোনা অতিমারিতে বিশ্বের আরো অনেক দেশের মতোই তিউনিশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক। চলমান সমস্যা কাটাতে ইতালি ও ইইউ দেশটিতে বিনিয়োগ বাড়াবে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

ইউরোপিয়ান কমিশনার ফর হোম অ্যাফেয়ার্স ইলভা ইয়োহানসন বলেন, ‘মহামারির মন্দা কাটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তিউনিশিয়াকে বিনিয়োগের সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। এর ফলে দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে যা মহামারির অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে সহায়ক হবে।’

পাশাপাশি তরুণ তিউনিশায়নদের ইউরোপে বৈধভাবে অভিবাসনের কথা জানান ইয়োহানসন। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষেরই একটি লাভজনক অবস্থানে থাকা এবং বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরেনের অভিবাসন বিষয়ে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।’

এদিকে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে দু’দেশই নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানায়। ইতালি ও ইইউ প্রতিনিধিরা তিউনিশিয়ার কোস্টর্গাড কর্তৃপক্ষের সাথেও অবৈধ অভিবাসন বিষয়ে আলোচনায় বসে। ইইউ’র অর্থনৈতিক সহযোগিতায় তিউনিশিয়ার কোস্টগার্ডের সদস্যরা গত বছর ভূমধ্যসাগর থেকে ১৩ হাজার ৫০০ জন অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে।

তথ্যসূত্র : ইনফোমাইগ্রেন্টস

Leave a Reply