অভিবাসীদের প্রাণ বাঁচাতে ভূমধ্যসাগরে নতুন জাহাজ
অভিবাসীদের ‍ুউদ্ধারে এগিয়ে এসেছে স্বাস্থ্য সহায়তা দানকারী এনজিও মেদসা সঁ ফ্রন্তিয়ের (এমএসএফ)।

অভিবাসীদের প্রাণ বাঁচাতে ভূমধ্যসাগরে নতুন জাহাজ

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। ছোট্ট নৌকায় চড়ে শত শত মানুষ ইউরোপে ঢুকতে প্রাণ হাতে নিয়ে সাগর পাড়ি দিচ্ছে। কেউ শেষ পর্যন্ত গন্তব্য পায়, কারও সাগরেই সলিল সমাধি হয়ে যায়। অভিবাসীদের ‍ুউদ্ধারে এগিয়ে এসেছে স্বাস্থ্য সহায়তা দানকারী এনজিও মেদসা সঁ ফ্রন্তিয়ের (এমএসএফ)।

ভূ-মধ্যসাগরে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম আবার শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। সাধারণত এনজিওটি বিভিন্ন উদ্ধার জাহাজে তাদের কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠিয়ে থাকে৷ তবে এবার তারা জেও বারো নামে নিজস্ব চার্টার জাহাজের মাধ্যমে মধ্য-ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা শরণার্থী এবং অভিবাসীদের জীবন বাঁচাতে শিগগিরই মধ্য ভূমধ্যসাগরে একটি নতুন উদ্ধারকারী জাহাজের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমএসএফ।

নরওয়েতে নিবন্ধিত এবং দুর্যোগকালে ব্যবহৃত এই উদ্ধার জাহাজটিকে উকনোই অ্যান্ড কো এস কোম্পানি থেকে ভাড়া নিয়েছে এমএসএফ।

জানা যায়, সঠিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে ৭৬.৯৯ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজটিকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মানদণ্ড অনুযায়ী, এমএসএফ কে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে । জেও বারো জাহাজটিতে পুরুষ এবং নারীদের জন্য আলাদা দুটি ডেক রয়েছে। এছাড়া একটি ক্লিনিক, একটি প্রসূতি রুম এবং পুরো স্বাস্থ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে একটি মেডিকেল কক্ষ আছে। জাহাজটিতে দুটি দ্রুতগামী মোটর চালিত নৌকা (আরএইচআইবিসএস) ‘র ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে সমুদ্রে জরুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা যায়।

মৃত্যু ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সালে ভূ-মধ্যসাগরে অভিবাসীদের বহনকারী নৌকার সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২১ সালেও এই ধারা অব্যাহত আছে। ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করতে গিয়ে বছরের শুরু থেকে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২২ এপ্রিল, নৌকা ডুবিতে অন্তত ১৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। লিবিয়া এবং মাল্টা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের সাহায্য আবেদন উপেক্ষা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানা যায়, ভূমধ্যসাগরে মানবিক উদ্ধারকাজে সক্রিয় অন্যান্য জাহাজগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ বর্তমানে তীরে নোঙর করা। ১লা মে ২৩৬ জন অভিবাসীকে উদ্ধারের পর ওশান ভাইকিং জাহাজটি বর্তমানে ইতালির অগাস্টায় রয়েছে। ৪৫৫ জন অভিবাসী নিয়ে সি ওয়াচ ৪ জাহাজটি এখন সিসিলিতে ইতালিয়ান কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে রয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ওপেন আর্মসের মত তাদের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি সংস্থা সি-আইয়ের উদ্ধারকারী জাহাজ অ্যালান কুর্দির মেরামতের কাজ চলছে স্পেনে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারগুলো ধীরে ধীরে মধ্য ভূমধ্যসাগরে সক্রিয় অনুসন্ধান এবং উদ্ধার অভিযান থেকে সরে এসেছে। অভিবাসীদের বিপদে সাহায্য করতে তাদের যে দায়িত্ব তা পালন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন এনজিওকে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে, যা অপরাধের সামিল৷ আমরা এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। অতিদ্রুত অনুসন্ধান এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ ইউরোপীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ।

Leave a Reply