অভিভাবক ছাড়া অভিবাসী শিশুর এক চতুর্থাংশই বাংলাদেশি
ইতালিতে নিবন্ধিত সবচেয়ে বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অভিভাবকহীন অভিবাসী এসেছে বাংলাদেশ থেকে৷

অভিভাবক ছাড়া অভিবাসী শিশুর এক চতুর্থাংশই বাংলাদেশি

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :
উন্নত ও নিরাপদ জীবনের জন্য অভিভাবকেরা দেশান্তরী বড় ঝুঁকিটা নেয় সন্তানের জন্য। কিন্তু এমন এক বিপদসংকুল পথ যেখানে শেষ পর্যন্ত সবাই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। হয়তো মা-বাবা নৌকাডুবিতে মারা গেল, জীবিত উদ্ধার হয় শিশুটি। এ রকম অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে এক চতুর্থাংশই বাংলাদেশি।
ইতালিতে নিবন্ধিত সবচেয়ে বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অভিভাবকহীন অভিবাসী এসেছে বাংলাদেশ থেকে৷ শুধু ২০২০ সালে দেশটিতে পাড়ি জমানো এমন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীর ২২ দশমিক ৫ শতাংশই বাংলাদেশি৷ এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিচ্ছে সেভ দ্য চিলড্রেন৷
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ থেকে ইতালিতে আসা ১৮ বছরের কম বয়সী অভিবাসী রয়েছে মোট ৭ হাজার ৮০ জন, যাদের সঙ্গে তাদের অভিভাবক নেই৷ এই সংখ্যা ২০১৯ সালের চেয়ে প্রায় ১৭ ভাগ বেশি হলেও ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৩৪ ভাগ কম৷

ইতালিতে গত বছর পর্যন্ত নিবন্ধিত এমন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি, যাদের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫৮ জন৷ এটি ২০১৯ সালের তুলনায় ১৪ ভাগ বেশি৷ এরপরই রয়েছে তিউনিসিয়া থেকে আসা অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীরা, যাদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৪ জন৷

২০২০ সালে মোট ৩৪ হাজার ১৫৪ অভিবাসী ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছেন৷ তাদের মধ্যে চা ৪ হাজার ৬৮৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অভিভাবকহীন৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩১ দশমিক সাত শতাংশ এসেছে তিউনিসিয়া থেকে৷ এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ থেকে আসা অপ্রাপ্তবয়স্করা, যার হার সাড়ে ২২ শতাংশ৷ সোমালিয়া থেকে আসা এমন অপ্রাপ্তবয়স্কের হার ছয় দশমিক দুই শতাংশ৷

এ ধরনের শিশুদের জন্য সেভ দ্য চিলড্রেন হেল্পলাইন চালু করেছে। এর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সংগঠনটি জানায়, ভাষা, সংস্কৃতি ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কোন রকমের ধারণা না থাকা বিদেশের মাটিতে যে কারো জন্যই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ৷ মহামারির সময়ে ইতালির অভিবাসী শিশুদের জন্য তা আরো বড় সংকটের কারণ হয়ে উঠেছে, বলছে সেভ দ্য চিলড্রেন৷ এমন বাস্তবতায় তাদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে৷ সেই প্রেক্ষিতেই একটি হেল্পলাইন চালু করেছিল শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠনটি৷ ২০২০ সালে এর মাধ্যমে ১৮ বছরের নিচের ১ হাজার ১১৫ অভিবাসীকে সহায়তা দিয়েছে তারা৷

এই উদ্যোগে ২০২০ সালে তারা মোট ১ হাজার ২৭৬টি ফোন কল পেয়েছে৷ ফোন করে সহায়তা চাওয়াদের মধ্যে শিশুদের পাশাপাশি পূর্ণবয়স্করাও রয়েছেন৷ এর মধ্যে ১ হাজার ১১৫ জনকে সহায়তা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৭ জন ছিলেন পূর্ণবয়স্ক আর ৬০৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ সবচেয়ে বড় সহায়তার চাহিদা ছিল ভাষা সংক্রান্ত৷

সেভ দ্য চিলড্রেনের এই হেল্পলাইন কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালেই শিশু বয়স বা ১৮ বছর অতিক্রম করেছেন তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন৷ হেল্পলাইনে যেসব ভাষায় সহযোগিতা দেয়া হয় তার মধ্যে রয়েছে ইংরেজি, ফরাসি, আরবি, ফারসি, বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সোমালি প্রভৃতি৷

Leave a Reply