অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন সংকটে অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশা
প্রায় ২০ বছর ধরে দেশটির দক্ষ পেশার তালিকায় শীর্ষস্থানীয় একটি পেশা অ্যাকাউন্ট্যান্ট।

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন সংকটে অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশা

কাউসার খান, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া :

স্থিতিশীল ও উন্মুক্ত অর্থনীতির দেশ অস্ট্রেলিয়া প্রতিবছরই দক্ষ পেশাদার ও শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৭ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে এসেছেন। এর মধ্যে অ্যাকাউন্টিং বিষয় জনপ্রিয়তায় তৃতীয়। প্রায় ২০ বছর ধরে দেশটির দক্ষ পেশার তালিকায় শীর্ষস্থানীয় একটি পেশা অ্যাকাউন্ট্যান্ট। গত ৩ বছরে প্রায় ৭ হাজার অ্যাকাউন্ট্যান্ট দক্ষ পেশাদার হিসেবে অভিবাসন নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

তবে দেশটির আর্থসামাজিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিবছরই অভিবাসন আইনে নানা পরিবর্তন আসে। পাশাপাশি কোন পেশায় কতজন অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা পাবেন, এরও একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা করা হয়। এ বছরের দক্ষ পেশার তালিকায় পিছিয়ে পড়েছে দেশটির জনপ্রিয় পেশা অ্যাকাউন্ট্যান্ট। একই সঙ্গে পয়েন্ট টেস্টভিত্তিক ভিসাগুলোয় বাড়তি পয়েন্টও প্রয়োজন পড়বে অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশাদারদের।

অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে ভিসা পাবেন কতজন

চলতি বছরের পরিবর্তিত অভিবাসন আইনে বড়সড় কোনো রদবদল আসেনি। অস্থায়ী ভিসাগুলোর মধ্যে দক্ষ পেশার তালিকায় এগিয়ে থাকছে জরুরি সেবা প্রদানকারী পেশাদারেরা এবং সুযোগ কমছে জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশাদারদের। এ বছর মাত্র প্রায় ১ হাজার দক্ষ অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভিসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এ পেশায় আবেদন গ্রহণ এবং ভিসা প্রদান ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

কোন ভিসাগুলোয় সুযোগ পাবেন অ্যাকাউন্ট্যান্ট

নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও তুলনামূলকভাবে চলতি বছরে রাজ্য সরকার মনোনীত ভিসা যেমন সাব ক্লাস ১৯০, ৪৯১ কিংবা ৪৯৪ এ ভিসাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যেকোনো পেশার ক্ষেত্রেই। এ ছাড়া সাব ক্লাস ১৮৬, ১৮৯ এবং বহুল জনপ্রিয় টিএসএস ৪৮২ ভিসাতেও আবেদন করা যাবে। তবে সাব ক্লাস ১৮৬ অর্থাৎ ব্যবসায় স্পনসর এই ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারলে সরাসরি দ্রুত সময়ে স্থায়ী ভিসা পাওয়া যায়। কারও যদি অ্যাকাউন্ট্যান্ট সম্পর্কিত ব্যবসার সঙ্গে পরিচয় অথবা যোগাযোগ করার সুযোগ থাকে তাহলে স্পনসর নেওয়া যায় কি না, চেষ্টা করা এখন উত্তম।  

পাশাপাশি গ্লোবাল ট্যালেন্ট ইনডিপেনডেন্ট প্রোগ্রাম (জিটিআই) নামেও একটি ভিসা রয়েছে। যদি কারও যোগ্যতা এমন হয় যে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় এক বছরে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলীয় ডলার বা তার বেশি বেতন পেতে পারেন, তবে এই জিটিআই ভিসায় আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে সাব ক্লাস ৪৯১ ভিসায় কুইন্সল্যান্ডে ১ লাখ ডলারের ব্যবসা কিনলেও স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ভিসা পাবেন অ্যাকাউন্ট্যান্টরা।

পয়েন্ট টেস্টভিত্তিক ভিসায় কত পয়েন্ট দরকার অ্যাকাউন্ট্যান্টদের

পয়েন্ট টেস্টভিত্তিক ভিসাগুলোয় সব পেশার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬৫ পয়েন্ট পেতে হয়। তবে অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ক্ষেত্রে যদিও সর্বনিম্ন ১০০ পয়েন্ট নিয়েও ভিসার জন্য আমন্ত্রণ না পাওয়ার নজিরও ইতিমধ্যে দেখা গেছে। অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশার বিকল্প কোনো পেশায় আবেদন করা যাবে কি চলতি অর্থবছর থেকে অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশায় ভিসা প্রাপ্তির সুযোগ কমিয়ে আনা হচ্ছে। এই পেশার বিকল্প কয়েকটি পেশা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, যেমন ফাইন্যান্স ম্যানেজার, ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ট্যাক্সেশন অ্যাকাউন্ট্যান্ট, এক্সটারনাল/ইন্টারনাল অডিটর ইত্যাদি। তবে অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশার চাহিদা কমিয়ে আনার অভিবাসন বিভাগের ঘোষণার পর বিকল্প পেশাগুলোর চাহিদাও কমে যাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আরও কোনো বিকল্প পেশা রয়েছে কি না, তা আবেদনকারীর পড়াশোনা ও কর্ম অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করছে।

*কাউসার খান: অভিবাসন আইনজীবী, অস্ট্রেলিয়া। kawsar.khan.au@gmail.com

Leave a Reply