অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সম্মাননা
মা,বাবা ও ছোট বোনের সঙ্গে ঋভু মার্টিন, ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সম্মাননা

কাউসার খান,সিডনি, অস্ট্রেলিয়া :

ক্যাঙারু আর ক্রিকেট, সমুদ্র আর স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় এক বাংলাদেশি তরুণ নিজের চেষ্টায় হয়ে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা ছাত্রদের একজন। তা–ও চিকিৎসাবিদ্যায়। দেশটির নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় অসামান্য একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য তাঁকে দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যাকাল্টি মেডেল ২০১৯’ পুরস্কার। করোনাভাইরাসের চলমান স্বাস্থ্যবিধির কারণে একটু দেরিতেই পুরস্কার হাতে পেলেন বাংলাদেশি তরুণ ঋভু মার্টিন।

ঋভু মার্টিন এখন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব হেলথ অ্যান্ড মেডিসিন বিভাগের শেষ বর্ষের গবেষণা প্রকল্পের কাজ করছেন। প্রথমে তিনি ব্যাচেলর অব মেডিকেল সায়েন্সের শিক্ষার্থী ছিলেন না। ভিন্ন বিষয়ে স্নাতক শুরু করেছিলেন। তবে চিকিৎসক হওয়ার একটা স্বপ্ন সব সময়ই ছিল। সেই স্বপ্ন থেকেই একদিন নতুন করে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার জন্য ভর্তি সংগ্রাম শুরু করেন এবং একসময় নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাকও পেয়ে যান। সিডনি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়। পড়াশোনার জন্য সিডনিতে বসবাসরত পরিবার ছেড়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে উঠেছেন ঋভু। পড়ালেখার চাপে মাস ফুরালেও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি। বারবার মা–বাবাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন, ‘পরীক্ষা শেষ হলেই আসব।’

মহামারির সময়েও ঋভু বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিযুক্ত চিকিৎসকদের সহায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন। ‘ফ্যাকাল্টি মেডেল’ পুরস্কারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মাননার একটি। নিজের অর্জন নিয়ে ঋভু মার্টিন বলেন, ‘আমি জানতাম না যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। স্বপ্নপূরণের জন্য আমাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাওয়া উচিত, আমিও তা–ই করছি। এর মধ্যে এমন একটি প্রাপ্তি আমাকে আরও উৎসাহ দেয়।’

ঋভু মার্টিন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিপ্রবাসী অভিনেত্রী মৌসুমী মার্টিন এবং নাট্যব্যক্তিত্ব জন মার্টিনের প্রথম সন্তান। ছেলের এ অর্জনে পরিবারের সবাই খুবই খুশি। জন মার্টিন বলেন, ‘বিশ্বাসই হয় না আমার সেই ছোট্ট ছেলেটা এত বড় হয়ে গেছে, ডাক্তার হয়ে গেছে। কোনো এক সময় হয়তো অচেনা, অসুস্থ কোনো মানুষ আমার ছেলের দেওয়া চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে তাঁর বাড়ি ফিরবে, ভাবতেই পরম আনন্দ অনুভব করি।’

Leave a Reply