আইনমন্ত্রীর আশ্বাস, রোজিনা অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন
সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রীর আশ্বাস, রোজিনা অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদল রাজধানীর গুলশানের আইনমন্ত্রীর অফিসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আশ্বাস দেন।

আইনমন্ত্রী সাংবাদিক নেতাদের বলেন, ‘ন্যায়বিচার অবশ্যই পাবেন, একটুকু আপনাদের বলতে পারি।’ এর আগে রাত ৯টার দিকে মন্ত্রীর বাসায় যান সাংবাদিক নেতারা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএসআরএফ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি মন্ত্রীকে অবহিত করেন সাংবাদিক নেতারা। নথি চুরির মামলাকে মিথ্যা বলে মন্ত্রীকে জানান তারা। মামলা প্রত্যাহার করে এই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তাতে সাংবাদিকদের অনাস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যতিরেকে আইন মন্ত্রণালয় বা অন্য কোন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা। এসময় সাংবাদিকদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনেন মন্ত্রী। এর জবাবে মন্ত্রী বলেন ‘নিশ্চয়ই আমরা সেটা নিয়ে আলোচনা করব’।

এসব দাবি জানানোর পর আইনমন্ত্রী আশ্বাস দেন রোজিনা ইসলাম শতভাগ ন্যায়বিচার পাবেন, কোনো অবিচার করা হবে না। এ ছাড়া কারাগারে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে রোজিনা ইসলামের কোনো অসুবিধা না হয় সেটিরও নিশ্চয়তা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডিজিটাল সিকিউটি অ্যাক্টে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা হয়নি বলে মন্ত্রী নিজে জানান।

আনিসুল হক বলেন, ‘যখন থানায় ছিল, তখনই বলেছি। দয়া করে এই আইনে (ডিজিটাল নিরাপত্তা) মামলা নিবেন না। পাঁচদিনের রিমান্ড নিয়েও আমরা রাষ্ট্রপক্ষ আর্গু করিনি।’ বাসভবনের ভেতরে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা শেষ করে বাইরে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যা হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাকে যেভাবে হ্যারেস করা হয়েছে, দেহ তল্লাশির নামে যে ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এর ছবি ও ভিডিও ফুটেজ আইনমন্ত্রীকে আমরা দেখিয়েছি। আমরা বলেছি ওই সময় যে কর্মকর্তারা এই নির্যাতন চালিয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করতে হবে। কিন্তু সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় লোকজন দিয়ে নয়। অন্য কোনো মন্ত্রণালয় দিয়ে করতে হবে।’

এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেন আইনমন্ত্রী তিনি বলেন, ‘এমন একটি ঘটনায় সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকদের দূরত্ব সৃষ্টি হোক, এমন কোনো কাজ হয়ে থাকলে সরকার তা দূরীকরণের চেষ্টা করবে।’ জামিনের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামি পরশুদিন জামিনের শুনানি, আদালত নিশ্চয়ই সবকিছু বিবেচনা করবে। আমিও প্রসিকিউশনকে মামলাটা খতিয়ে দেখার জন্য বলব।’

১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বারবার বলা হলেও দেওয়া হয়নি। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। 

ওই দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মঙ্গলবার (১৮ মে) পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। পাশাপাশি রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

Leave a Reply