আসছে বাজেট, কতটুকু পাবেন প্রবাসীরা
আগামী জাতীয় বাজেটে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সর্বনিম্ন বরাদ্দ পাওয়া তিনটি মন্ত্রণালয়ের একটি।

আসছে বাজেট, কতটুকু পাবেন প্রবাসীরা

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :
আগামী জাতীয় বাজেটে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সর্বনিম্ন বরাদ্দ পাওয়া তিনটি মন্ত্রণালয়ের একটি। অথচ প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের খাত। এরপরও প্রবাসীদের উন্নয়নে সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। করোনায় অন্যদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রবাসীরাও। কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন অনেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১০ মাসেই রেমিট্যান্স (জুলাই-এপ্রিল) এসেছে ২ হাজার ৬৭ কোটি ডলারের বেশি। দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের খাত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। অথচ এই প্রবাসী কর্মীদের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ নেই বললেই চলে। বাজেটে যেসব মন্ত্রণালয় বরাদ্দ তালিকায় সবার তলানিতে থাকে তার মধ্যে অন্যতম প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (নিচ থেকে তৃতীয়)। চলতি অর্থবছরে এই মন্ত্রণালয় পেয়েছে ৬৪১ কোটি টাকা, যার বেশির ভাগই খরচ হয়েছে অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যয়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, প্রবাসীরা ব্যক্তি খাতের লোক। তারা যে অর্থ পাঠান, সরকার সেটি সরাসরি পায় না। তারপরও সরকার রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। তবে গবেষণার মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত।

গত বছরের মার্চে গোটা পৃথিবীতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে লাখ লাখ প্রবাসী কর্মী কাজ হারান। তাদের মধ্যে নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরতে বাধ্য হন দুই লাখের বেশি। এরপর জুনে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি ওঠে। এরপর কর্ম হারিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের জন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু বছর শেষে এই অর্থের মাত্র ১৪৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, গত বছরের সঙ্গে হিসাব করলে করোনার প্রায় দেড় বছরে অন্তত চার লাখ প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। যাদের দুই-তৃতীয়াংশই প্রায় নিঃস্ব। অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) সাম্প্রতিক এক হিসাব অনুযায়ী, করোনায় দেশে ফেরা প্রবাসী প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এ ছাড়া ভিসা করেও প্রায় দেড় লাখ ব্যক্তি বিদেশে যেতে পারেননি। ফলে তারাও সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

প্রায় একই সময়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক গবেষণায় জানায়, দেশে ফেরা প্রবাসীদের ৭০ শতাংশ জীবিকার সংকটে রয়েছেন। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলেও ৬১ শতাংশ পরিবার রেমিট্যান্স পায়নি। ৮৭ শতাংশের আয় নেই। ফলে তারা পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসফেরত ব্যক্তিদের নাম নিবন্ধন, প্রশিক্ষণের জন্য জেলায় জেলায় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আসন্ন বাজেটে রেমিট্যান্সের ওপর সরকারের প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভাষাগত অদক্ষতা, আইনকানুন না জানাসহ ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিদেশে অত্যন্ত নিম্ন মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হন। মালিকের নির্যাতন, বেতন না পাওয়াসহ নানা প্রতারণাও তাদের নিত্য সঙ্গী। এই অদক্ষতার কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার শুধু মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিকমানের দক্ষ শ্রমশক্তির অভাবে প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শ্রমবাজারে প্রবেশ করা যাচ্ছে । এ জন্য আসন্ন বাজেটে বড় বরাদ্দ দরকার। প্রবাসীরা যে রেমিট্যান্স পাঠান, সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ এবং সরকারের একটি অংশ বরাদ্দ দিয়ে একটি প্রকল্প করতে হবে। যেন প্রবাসীরা দেশে ফিরে নিঃস্ব না হয়ে যান। এ জন্য প্রবাসীরা বিদেশে যে কাজ করবেন, সেই কাজ যেন দেশেও এসে করতে পারেন, এ জন্য সে রকম প্রকল্প নিতে হবে।

Leave a Reply