ইউরোপিয়ান কমিশনের বৃত্তি নিয়ে ইউরোপে উচ্চশিক্ষা

ইউরোপিয়ান কমিশনের বৃত্তি নিয়ে ইউরোপে উচ্চশিক্ষা

বিশ্বের যে কোনো শিক্ষার্থীর জন্য ইউরোপের উচ্চশিক্ষা আকর্ষণের কেন্দ্রে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও তেমনই। এই মহাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে ইউরোপিয়ান কমিশন কর্তৃক পরিচালিত ‘ইরাসমুস মুনডুস স্কলারশিপ’ প্রথম পছন্দ। ১৯৮৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই স্কলারশিপ গত ৩০ বছর ধরে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে সম্মানজনক বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর অধীনে ইউরোপের প্রত্যেকটি দেশে শিক্ষার্থীর নিজের পছন্দসই বিষয়ে পড়ালেখা ও গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে।

এর আওতায় প্রতিবছর কমবেশি ৮০-১২০ জন বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী তাদের উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গমন করে। এই বৃত্তি প্রাপ্তদের সম্পূর্ণ খরচ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বহন করে থাকে। ২০০৪ সালে এই বৃত্তি স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের দেয়া শুরু হলেও ২০১৮ সালে ইরাসমুস শুধু স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা করা হয়। অন্যদিকে মেরি-স্কডস্কা কুরি স্কলারশিপ (Marie-Sklodowska Curie scholarships) নাম নিয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামকে আলাদা করা হয়।

আবেদনের যোগ্যতা

পৃথিবীর যেকোনো দেশের ছাত্র-ছাত্রী তাদের স্নাতক সম্পন্ন করার পর এই বৃত্তিতে আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করে। কোন কোন ক্ষেত্রে স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র- ছাত্রী অনুমতি সাপেক্ষে আবেদন করতে পারেন। বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে মোট ১৩০টিরও বেশি প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন।

আবেদনে যা যা লাগবে

সাধারণত আবেদনের যা যা দরকার হয় তা আগ্রহী/সংশ্লিষ্ট প্রোগামের ওয়েবসাইটে বর্ণনা করা থাকে। তবে সাধারণত- পাসপোর্ট, স্নাতক নম্বরপত্র, টোফেল/আইইএলটিএস (অথবা, কোন কোন ক্ষেত্রে Medium of Instruction in English সার্টিফিকেট), সুপারিশপত্র (কোন কোন ক্ষেত্রে আবশ্যিক না), মটিভেশন লেটার, সিভি (ইউরোপাস ভার্সন), কোন কোন ক্ষেত্রে বর্ণণামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।     

আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদনের যথাযথ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট প্রোগামের ওয়েবসাইটে বর্ণনা করা থাকে। কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে তা জানার জন্য প্রোগামে-কোঅর্ডিনেটরের সাথে যোগাযোগ করা যায়। সাধারণ প্রক্রিয়া-

ধাপ-১ ইরাসমুস মুনডুস প্রোগ্রাম ক্যাটালগ দেখা (লিংক নিম্নে দেয়া আছে)

ধাপ-২ নিজের স্নাতক পড়াশুনার সাথে মিল রেখে পছন্দের প্রোগ্রাম বাছাই করা। প্রোগ্রামগুলোর ব্যাপারে পরিপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ  

ধাপ-৩ নিজে যোগ্য কি না সেটা পুনরায় নিশ্চিত হওয়া। প্রয়োজনে প্রোগাম-কোঅর্ডিনেটরের সাথে যোগাযোগ করা

ধাপ-৪  পছন্দের প্রোগ্রামগুলো থেকে সর্বোচ্চ ৩ টি প্রোগ্রাম বাছাই করা (৩ টি প্রোগ্রামের বেশি আবেদন করা যায় না)

ধাপ-৫ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও জমাদান উপযোগী করা

ধাপ-৬ অনলাইনে আবেদন জমাদান ও ফলাফলের জন্য আপেক্ষা

ইরাস্মুস মন্ডুস বৃত্তির সময়কাল

সাধারণত প্রতিবছর অক্টবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এই বৃত্তির জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে প্রোগামভেদে আবেদনের সময়কাল ভিন্নভিন্ন হয়ে থাকে যা প্রোগামগুলোর ওয়েবসাইটে দেয়া থাকে। ৬০, ৯০ অথবা ১২০ ইসিটিএস ক্রেডিট বা ১২-২৪ মাসের জন্য এই বৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে। 

বৃত্তির সুযোগ-সুবিধা

ইরাস্মুস মন্ডুস বৃত্তি শুধু আর্থিক বিবেচনায় সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ না, প্রোগ্রামগুলোর বিচিত্রতা এই বৃত্তিকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এই বৃত্তির অধীনে সর্বনিম্ন ১টি থেকে সর্বোচ্চ ৩ টি দেশের ৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফী, দেশ থেকে যাতায়াত খরচ, স্বাস্থ্যবীমা, লাইব্রেরী ও ল্যাবরেটরি খরচসহ অন্য যেকোন বাধ্যতামূলক খরচ এই বৃত্তি বহন করবে। এছাড়া ১০০০ ইউরো বা ১,০০,০০০ টাকা করে প্রতিমাসে দেয়া হয়ে থাকে।

বিস্তারিত জানতে: https://eacea.ec.europa.eu/erasmus-plus/library/scholarships-catalogue_en

তথ্যসূত্র-

১। Creative Leading Board- https://creativelivingabroad.com/blog/2017/3/29/the-ultimate-guide-on-how-to-apply-for-masters-scholarships-in-europe?

২। Erasmus Mundus Website- https://eacea.ec.europa.eu/erasmus-plus/library/scholarships-catalogue_en

৩। Erasmus Mundus Facebook Group

Leave a Reply