ইতালিতে আসা অভিবাসনপ্রত‌্যাশী‌দের শীর্ষে বাংলাদেশিরা
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মধ্য ভূমধ্যসাগরে চার হাজার ৮০ জন অভিবাসী মারা গেছেন৷

ইতালিতে আসা অভিবাসনপ্রত‌্যাশী‌দের শীর্ষে বাংলাদেশিরা

ই‌মি‌গ্রেশন নিউজ ডেস্ক :
চল‌তি বছর ইতা‌লি‌তে পা‌ড়ি দেওয়া আভিবাসনপ্রত‌্যাশী‌দের ম‌ধ্যে শী‌র্ষে বাংলা‌দে‌শিরা। প‌রিসংখ‌্যান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মে পর্যন্ত উত্তর আফ্রিকার উপকূল ছেড়ে প্রায় ১৩ হাজার ৩০০ মানুষ নৌকায় লাম্পেদুসা ও সিসিলিতে পৌঁছেছেন৷ নতুন আগতদের মধ্যে ১৭ শতাংশই বাংলাদেশি ৷

দেশভিত্তিক হিসাবে এরপরই রয়েছে তিউনিসিয়া (১৪ শতাংশ), আইভরি কোস্ট (১০ শতাংশ), ইরিত্রিয়া (৭ শতাংশ) থেকে আসা অভিবাসী৷ এছাড়া ছয় শতাংশ এসেছেন মিশর ও গিনি থেকে৷ এদের মধ্যে অনেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে নৌকায় করে ইতালির উপকূলে এসে পৌঁছান।
২০২১ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ইতালিতে ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী পাড়ি জমিয়েছেন৷ এই সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে তিনগুণ বেশি৷ গত সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে৷

চলতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়েছে৷ প্রতি সপ্তাহেই কয়েকশ মানুষ পৌঁছাচ্ছেন দেশটির সীমান্তে৷ শুধু জুনেই ৩৭৩ জন দক্ষিণ ভূমধ্যসাগর উপকূলে পৌঁছান৷ বিপজ্জনক উপায়ে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে মারাও গেছেন৷ সব মিলিয়ে গত পাঁচ মাসে দেশটিতে আসা শরণার্থী ও অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫ জনে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় তিনগুণ বেশি৷ ২০১৯ সালের প্রথম পাঁচ মাসের হিসাবে এটি সাতগুণ বেশি৷

এদিকে নতুন অভিবাসীদের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে ইইউ সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রোম৷ তাতে সাড়া দিয়ে গত মাসে আয়ারল্যান্ড দশজন আশ্রয়প্রার্থীকে স্বাগত জানানোর ঘোষণা দিয়েছে৷ ইউরোপীয় সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি ইতালি সরকার অভিবাসীদের চাপ সামলাতে তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার সঙ্গে চুক্তির চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে৷
ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, বাড়ছে প্রাণহানি।

ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক অভিবাসীই প্রাণ হারাচ্ছেন৷ চলতি মাসের শুরুতে লিবিয়া থেকে ৯০ অভিবাসী নিয়ে যাত্রা করা একটি নৌকা তিউনিশিয়া উপকূলে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে রেডক্রস৷ ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে ৭০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও কমপক্ষে ২৩ জন মারা গেছেন৷ তার আগের সপ্তাহে তিউনিশিয়া উপকূলে প্রায় ১২০ জন অভিবাসী মৃত্যুবরণ করেন। তারা সমুদ্র পথে ইটালি পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন৷

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন-ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ‘‘লিবিয়া ও টিউনিশিয়া থেকে ইউরোপ অভিমুখে যাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ এ বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার যাত্রার ঘটনা ঘটেছে৷ যেটি গত বছরের একই সময়ের চেয় ৭৩ শতাংশ বেশি। যাত্রাকালীন দেশগুলোতে শরণার্থীরা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছেন৷’’

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মধ্য ভূমধ্যসাগরে চার হাজার ৮০ জন অভিবাসী মারা গেছেন৷
(সূত্র: ইন‌ফোমাই‌গ্রেন্টস)

Leave a Reply