ইয়াঙ্গুন দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন

ইয়াঙ্গুন দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন

থাযথ মর্যাদার সঙ্গে ও উৎসবমুখর পরিবেশে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস–২০২০ উদ্‌যাপিত হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের কোভিড-১৯–সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণভাবে প্রতিপালন করে বাংলাদেশ দূতাবাস বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর দূতাবাসে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকার আনুষ্ঠানিক উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও এক মিনিটের নীরবতা পালন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর স্থিরচিত্র প্রদর্শনী এবং মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা। বিজয়ের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে একই দিন বিকেলে অনুষ্ঠিত একটি পৃথক অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে দূতাবাসে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্নারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী সকালে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন। রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইয়াঙ্গুনপ্রবাসী বাংলাদেশের নাগরিকেরা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এক মিনিটের নীরবতা পালনের মাধ্যমে জাতির পিতা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মদানকারী সব বীর শহীদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয় এ সময়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত দুটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত লিখিত বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। বিজয় দিবসের তাৎপর্যের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনায় দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ সভায় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, দুই লক্ষাধিক বীরাঙ্গনা এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার ও স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক এবং স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর অনন্যসাধারণ নেতৃত্ব ও অসামান্য অবদানের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা সব বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সব বাঙালির অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রদূত বিজয় দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি ও হৃদয়ে ধারণ এবং স্বাধীনতাবিরোধী সব অপশক্তিকে রুখে দিতে এক হয়ে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বিকেলে আয়োজিত পৃথক এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইয়াঙ্গুনে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনৈতিক কোরের ডিন। মিয়ানমার সরকারের কোভিড-১৯–সংক্রান্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে বঙ্গবন্ধু কর্নারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কয়েক মাস পিছিয়ে যায়। এ সময়ে মিয়ানমারে নিযুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। মিয়ানমার সরকারের কোভিড-১৯–সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধির কারণে অনুষ্ঠানে সীমিতসংখ্যক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর আমন্ত্রিত অতিথিরা বঙ্গবন্ধু কর্নারটি ঘুরে দেখেন।

এরপর সংক্ষিপ্ত একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করেন এবং দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু কর্নার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক। মিয়ানমারে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে সঠিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কর্নার অবদান রাখবে। বাংলাদেশের চলমান আর্থসামাজিক উন্নয়নের কয়েকটি দিক তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে তাঁর প্রদর্শিত পথে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু কর্নার ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply