কড়াক‌ড়ির পরও থেমে নেই ইং‌লিশ চ‌্যা‌নেল পা‌ড়ি
মৃত্যুঝুকিঁ নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছার হার সাম্প্রতিক দিনগুলিতে বহুগুণ বেড়েছে।

কড়াক‌ড়ির পরও থেমে নেই ইং‌লিশ চ‌্যা‌নেল পা‌ড়ি

ই‌মি‌গ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

ইংলিশ চ্যানলের উভয়দিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সীমান্তে কড়া বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কমছে না অভিবাসী আগমনের সংখ্যা।মৃত্যুঝুকিঁ নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছার হার সাম্প্রতিক দিনগুলিতে বহুগুণ বেড়েছে। ইউরোপে গ্রীষ্মকাল আসায় সমুদ্রের আবহাওয়া ভালো এবং সাগর শান্ত থাকায় অভিবাসীরা ব্যাপক হারে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার তিনটি আলাদা নৌকায় ৮০ জন অভিবাসী ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, একই সময়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষ সমুদ্র অতিক্রমের চেষ্টারত ৪৬ জন অভিবাসীকে বাধা দিয়েছে।

একই দিন ভোরে, একটি ভাসমান নৌকাকে ফ্রান্সের উত্তরে ডানকের্ক উপকূলের মালো-লেস-বা সমুদ্র সৈকতে বাধা দিয়ে তীরে আনা হয়েছিল৷ পরবর্তীতে নৌকায় থাকা ত্রিশজন যাত্রীকে উদ্ধার করে ডানকের্ক বন্দরে নিয়ে আসে ফরাসি জাতীয় উদ্ধার অভিযান সংক্রান্ত অধিদপ্তর (এসএনএসএম) এর একটি দল। উদ্ধারের পরে তাদেরকে স্থানীয় অধিদপ্তর ও সীমান্ত পুলিশ (পিএএফ) এর দায়িত্বে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগের দিন সোমবার, সর্বমোট ১১০ জন অভিবাসীকে মাঝ সমুদ্রে বাধা দেয়া হয়, যার মধ্যে ৪০ জনকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে আনে। ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কঠোর সীমান্ত নীতি সত্ত্বেও, ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের সংখ্যা কমছে না৷ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫,০০৭ জন সমুদ্র অতিক্রম করেছেন।

গত বছরের একই সময়ে, কর্তৃপক্ষ ১,৮৪৫ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে। ২০২০ সালের শেষ ছয় মাসে আবার ব্যাপক হারে সমুদ্র পার হওয়া শুরু হয়। বছরের শেষে সীমান্ত পেরিয়ে ৮,৪১০ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘‘অপরাধী গ্যাংগুলো এই বিপজ্জনক ও অপ্রয়োজনীয় সমুদ্র পার করে দেয়ার নামে মানুষের জীবনের বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘সরকার পাচারের সঙ্গে জড়িত এসব অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সব ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে।’’

Leave a Reply