কানাডা ইমিগ্রেশন, ইমিগ্রেশন কন্সালটেন্ট ও হালের এজেন্সি

কানাডা ইমিগ্রেশন, ইমিগ্রেশন কন্সালটেন্ট ও হালের এজেন্সি

হালের জনপ্রিয় এবং গরম খবর হলো কানাডা ইমিগ্রেশন। কিভাবে কানাডা যাওয়া যায়? এই সুযোগে স্বার্থবাদী মানুষগুলি ব্যাঙের ছাতা, পেঁয়াজপাতা টাইপ ওয়েবসাইট, এজেন্সি/ইউটিউব চ্যানেল/ ফেসবুক পেজ খুলে নেমে পড়েছেন। এরা যেখানেই যাবে সেখানেই দুনম্বরী করবে। এই যেমন অনেক কানাডিয়ান অভিবাসী (PR) বা সিটিজেন এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে। আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন- উনি কেমন বা তিনি কেমন? উনি তো ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে তথ্য দিচ্ছেন- তাহলে উনি তো  তাহলে সব জানেন। ভাই থামেন- আপনি কি কম্পাউন্ডার-কে MBBS করা  ডাক্তারের সমান মনে করেন? আপনি কি পাড়া-মহল্লার ইলেক্ট্রিসিয়ান আর বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারকে এক ভাবেন? 
তাহলে আপনাকে কিছু বলার নাই। আপনাদের কারনেই কম্পাউন্ডার থেকে হয়ে যাওয়া ডাক্তাররুপি ধান্দাবাজগুলী আপনাদের ধোঁকা দিচ্ছে। ধোঁকা খাবার পরে অনেকে বুঝতেও পারছেন না। যখন বুঝতে পারছেন- তখন আপনিই আসবেন বলতে যে ইমিগ্রেশন কন্সালটেন্ট মানেই ভুয়া। আপনি তো আসল নকলের পার্থক্যই জানেন না। ঠিক একারণেই বাংলাদেশে রোগীর থেকে ডাক্তার বেশি। 

তাহলে কথা হল- কিভাবে চিনব কে আসল কে ধান্দাবাজ? দুইটি প্রশ্ন করবেন যেখানেই যাবেন বা যার কাছেই যাবেন

১) আপনি কি কানাডিয়ান রেজিস্টারড আইনজীবী? অথবা

২) আপনার কি কানাডিয়ান অভিবাসনে কানাডিয়ান ডিগ্রি আছে? বা আপনি কি রেজিস্টারড?

এই দুটি প্রশ্নের একটিও যদি “হ্যাঁ” হয়- আপনি নিশ্চিতভাবে উনাকে দিয়ে কাজ করাতে পারেন। তবে যদি-

দুটি প্রশ্নই “না” হয়- উনি যতই ফেরেশতা হউন বা ফেরেশতার থেকেও পবিত্র হন না কেন- কোনও টাকা পয়সা লেনদেন করবেন না। এজেন্ট হলেও না।

এমন একাধিক ব্যক্তি আছেন যারা কানাডিয়ান PR বা সিটিজেন এবং ইউটিউব ভিডিও বানাচ্ছেন ও ফেসবুক পেজ চালাচ্ছেন। পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা শেয়ার করার নামে ছদ্মবেশে এবং কেউ কেউ সরাসরি ইমিগ্রেশন নিয়ে কাজ করে বা উপদেশ দেয় টাকার বিনিময়ে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ আছেন আরেক কাঠি সরেশ। শুরু করেছেন ফ্রী বলে- এখন বলছেন কিছুই ফ্রী না। এদের মতো দুমুখো মানুষকে বিশ্বাস করছেন!!!

=>ভাই উনি তো কানাডায় থাকেন- বাংলাদেশী আইনজীবী?- না। উনি বাংলাদেশে জাঁদরেল আইনজীবী হতে পারেন। কিন্তু কানাডায় না- যতক্ষণ পর্যন্ত না এখানে অফিসিয়ালি সার্টিফাইড হচ্ছেন।

=>ভাই উনি নাকি কানাডিয়ান আইনজীবীর সাথে কাজ করেন বা উনার সাথে আছেন- কথা তো একই। যাচ্ছেন ডাক্তারের চেম্বারে কিন্তু চিকিৎসা নিচ্ছেন কম্পাউন্ডারের থেকে।

=>ভাই উনি নিজে নিজে প্রসেস করে গেছেন। উনি ক্লিয়ার জানেন সব।– না উনি সব জানেন না। =>ভাই উনি তো অনেক ফ্রী ভিডিও বানাচ্ছেন- ফ্রী তথ্য দিচ্ছেন। উনি তো অনেক কিছু জানেন। – না। উনি সবকিছু জানেন না। এত কিছু ফ্রী দিচ্ছেন তো আপনার ফাইল টা ফ্রী করে দিচ্ছেন না কেন?

=>ভাই উনি তো একজন কন্সাল্টেন্টের এজেন্ট। অনেক ফেমাস- না। আপনি সরসরি কন্সাল্টেন্টের সাথে যোগাযোগ করবেন। টাকার বিনিময়ে হলেও। কিন্তু এজেন্টের সাথে কোনও লেনদেন না। শুধু তথ্য।

=>ভাই উনি তো ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন।– এশপের শেয়ালের গল্প পড়েছেন? শেয়ালের পাল্লায় পড়েন না। ভালো কথা শুনেন কিন্তু সাবধান- গলে যেয়েন না।

একটা কথা মনে রাখবেন- দুনিয়াতে কিছুই ফ্রী না। একটু গভীরভাবে ভেবে দেখেন- পিতামাতা-সন্তানের পবিত্র সম্পর্ক বলেন বা আল্লাহ-বান্দার সম্পর্ক বলেন- সবই লেনদেন। তাহলে আপনিই ভেবে দেখুন ফ্রী নামের মতলববাজদের আসল মতলবটা কি? অন্তর্নিহিত মতলব যদি টাকা হয় (আসলে সেটাই)- তাহলে শেয়ালরুপি মানুষের থেকে দূরে থাকুন এবং  যোগ্য মানুষের কাছ থেকেই উপদেশ নিন। জিনিস যেটা ভালো দাম তার একটু বেশি- ওয়ারেন্টিও পাচ্ছেন। বাকিটা আপনার সিদ্ধান্ত। 

এতকিছু জানার পরেও যদি শিক্ষিত-মূর্খের  মতো কাজ করেন- সেটি নেহায়েতই আপনার হঠকারিতা। 

দুইটি প্রশ্ন করুন- সতর্ক থাকুন।

শিহাব কাজী

Leave a Reply