কেন আত্মঘাতী হয়ে উঠেছিল দুই তরুণ?
বাংলাদেশি পরিবারের ছয় সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনা দুদিন ধরে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

কেন আত্মঘাতী হয়ে উঠেছিল দুই তরুণ?

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

চমৎকার ফ্রেমে বাঁধা ছবি। সবার মুখে হাসি। এমন প্রাণবন্ত পরিবারটিতে হাতাশা? কেন? ভালোই তো ছিলেন তাঁরা। তাহলে কিসের মানসিক অবসাদ, যা আত্মঘাতী করেছিল দুই তরুণকে। পুরো পরিবারকে এভাবে শেষ করে দিল! যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যালেন শহরে ৪ এপ্রিল রাতে বাংলাদেশি পরিবারের ছয় সদস্যের লাশ উদ্ধারের পর এমন প্রশ্ন এখন সবার মনে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন যমজ ভাইবোন ফারহান তৌহিদ ও ফারবিন তৌহিদ (১৯), বড় ভাই তানভীর তৌহিদ (২২), মা আইরিন ইসলাম (৫৬), বাবা তৌহিদুল ইসলাম (৫৪), তানভীর তৌহিদের নানি আলতাফুন্নেসা (৭৭)। মা, বাবা, বোন ও নানিকে হত্যার পর দুই ভাই আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

প্রায় ২২ বছর আগে ডিভি ভিসায় তৌহিদুল আমেরিকায় আসেন। তৌহিদুলের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। পরিবার নিয়ে প্রথম দুই বছর নিউইয়র্কে ছিলেন তিনি। ২০ বছর আগে টেক্সাসে স্থানান্তরিত হন। প্রথমে তথ্যপ্রযুক্তিতে কাজ করতেন তিনি। সম্প্রতি সিটি ব্যাংকের ভালো পদে কাজ করছিলেন তৌহিদুল।

বাংলাদেশি পরিবারের ছয় সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনা দুদিন ধরে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। যুব-তরুণদের মধ্যে হতাশার কারণ, পরিবারের সঙ্গে সংযোগহীনতা, সাংস্কৃতিক সংঘাতসহ আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্র আইনের মতো বিষয়গুলো এসব সংবাদে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

অ্যালেন পুলিশ জানিয়েছে, ‘সুইসাইড নোট’ থেকে মনে করা হচ্ছে, ফারহান ও তানভীর হতাশা-মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। পরিবারকে লজ্জা ও কষ্ট থকে মুক্তি দেওয়ার জন্য দুই ভাই সবাইকে হত্যা করে নিজেরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ রয়েছে। সুইসাইড নোটে হত্যার পরিকল্পনার কথাও লেখা আছে।

তানভীর কিছুদিন আগে আইন সম্মতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিলেন বলে জানিয়েছে অ্যালেন পুলিশ। তারা ছয়জনের লাশ উদ্ধারের সময় বাড়িটিতে আগ্নেয়াস্ত্রও পায়। ছয়জনই গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও স্তব্ধ। তাঁরা বলেছেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সন্তানদের উল্লেখযোগ্য অংশকে হতাশা নীরবে গ্রাস করছে। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য ঘটনাগুলো মর্মান্তিক। সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য যুব-তরুণদের কথা আমাদের মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানে কাজে করতে হবে।

Leave a Reply