ক্রো‌য়ে‌শিয়া নি‌য়ে বাংলা‌দে‌শি তরুণ‌কে বি‌ক্রি!
পরিচিত এক বাংলাদেশির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা তাঁর দেশে আসার সব ব্যবস্থা করে দেয়।

ক্রো‌য়ে‌শিয়া নি‌য়ে বাংলা‌দে‌শি তরুণ‌কে বি‌ক্রি!

ইমি‌গ্রেশন নিউজ ডেস্ক :
প্রথমে বাংলা‌দেশ থে‌কে ভারত নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দিল্লি থেকে করানো হয় ক্রোয়েশিয়ার ভিসা। পরে ফ্লাইটে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ক্রোয়েশিয়া পৌঁছান। কথা ছিল মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতনে রেস্তোরাঁয় দেবে। কিন্তু সেই চাকরি তাঁকে দেওয়া হয়নি। বরং শ্রমিক হি‌সে‌বে বি‌ক্রি ক‌রে দেওয়া হয়।
এ ক‌াহি‌নি ক্রোয়েশিয়াফেরত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলফাই আল হোসাইনের (২২)। ‌তিনি বলেন, ‘ভালো কাজ দেওয়ার নাম করে প্রথমে আমাকে ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবের একটি পাহাড়ে নিয়ে যায়। তারপর আমাকে গাছ কাটার অভিজ্ঞ লোক বলে বাংলাদেশি দেড় লাখ টাকায় এক মাসের জন্য স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দেয়। সিন্ডিকেটের লোকজন আমাকে কিনে নিয়েছে জানিয়ে বলে, বেতন দেবে না। বিষয়টি দেশে স্থানীয় এজেন্টকে জানানোর পর শুরু হয় নির্যাতন।’

১২ মে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে দেশে ফিরেছেন তিনি। এরপর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ করে গত বুধবার র‌্যাব কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মানব পাচার আইনে অভিযোগ করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সীতাকুণ্ডের পৌর সদরের আমিরাবাদ থেকে কামরুল হাসান চৌধুরী ও মঈনুল হাসান চৌধুরী নামের দুই ভাইকে আটক করেছেন র‍্যাব-৩-এর সদস্যরা। এরপর তাঁদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ধর্মপুর গ্রাম থেকে মো. নিজাম উদ্দিন ও ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে মো. জালাল উদ্দিন নামের আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জালাল উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন সাহারখোলা মামুদপুর গ্রামে।

আলফাই বলেন, দালালেরা তাঁকে স্থল অথবা জলপথে ইতালি যেতে প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি যেতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতন বাড়তে থাকে। তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে পরিচিত এক বাংলাদেশির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা তাঁর দেশে আসার সব ব্যবস্থা করে দেয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, মানব পাচারকারীরা প্রথমে ভুক্তভোগীকে ৪৫ দিনের টাইপ সি-১ ভিসা দেন। ভিসার মেয়াদ শেষের এক দিন আগে তাঁকে বিক্রি করে দেয়। মানব পাচারকারীদের থেকে মুক্ত হতে দেশে ফেরার জন্য কামরুল হাসানকে জানালে তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

র‍্যাব জানায়, ক্রোয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে করা মানব পাচার আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা র‌্যাবের কাছে মানব পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে জব্দ করা মুঠোফোন ও ল্যাপটপে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। কামরুল হাসান চৌধুরী ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে কাজ করেন। আট লাখ টাকার চুক্তিতে আলফাই আল হোসাইনকে ক্রোয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, এ ঘটনায় আলফাই আল হোসাইন বাদী মানব পাচার আইনে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

Leave a Reply