ক‌রোনার তো‌পে তছনছ শ্রমবাজার
ক‌রোনার তো‌পে তছনছ হ‌য়ে গে‌ছে বৈ‌দে‌শিক শ্রমবজার। বি‌দে‌শে কর্মী যাওয়ার সংখ‌্যা ক‌মে‌ছে আশঙ্কাজনক হা‌রে।

ক‌রোনার তো‌পে তছনছ শ্রমবাজার

ই‌মিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :
ক‌রোনার তো‌পে তছনছ হ‌য়ে গে‌ছে বৈ‌দে‌শিক শ্রমবাজার। বি‌দে‌শে কর্মী যাওয়ার সংখ‌্যা ক‌মে‌ছে আশঙ্কাজনক হা‌রে। গত দুই আ‌গেও যেখা‌নে অন্তত ৬০ হাজার শ্রমিক বি‌দে‌শে গে‌ছে তা এখন নে‌মে এসে‌ছে তলা‌নি‌তে। গত মাসে বিদেশে গেছেন মাত্র ১৪ হাজার ২০০ কর্মী।

সং‌শ্লিষ্টরা বলছেন, বড় শ্রমবাজারের মধ্যে আরব আমিরাত, ওমান, জর্ডান, সিঙ্গাপুর বন্ধ হয়ে আছে। হাতে ছিল সৌদি আরব। উড়োজাহাজ সেবা নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতায় এ বাজার নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ভিসা করেও যেতে পারছেন না কয়েক হাজার কর্মী।

জনশক্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা মহামারির প্রভাবে গত বছর বিদেশে কর্মী পাঠানো কমে যায় ৬৯ শতাংশ। গত ডিসেম্বর থেকে টানা চার মাস বাড়ার পর দুই মাস ধরে আবার কমছে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা।
গত বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে কর্মী পাঠানো বন্ধ ছিল। এরপর ধীরে ধীরে এটি শুরু হলে ডিসেম্বর থেকে সংখ্যাটি বাড়তে থাকে।

গত ৬ মাসে বিভিন্ন দেশে গেছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ জন। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ গেছেন সৌদি আরবে। দেশে নতুন করে করোনা বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে নানা বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। এরপর ১৩ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সব ফ্লাইট বন্ধের কথা জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আটকে পড়েন হাজারো প্রবাসী কর্মী। এরপর ১৭ এপ্রিল থেকে বিশেষ ফ্লাইট চালু হয়। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধের কারণে দূতাবাসে ভিসা প্রক্রিয়া, বিএমইটির স্মার্ট কার্ড বিতরণ বন্ধ থাকে বেশ কিছুদিন। এতে বিদেশে যাওয়ার গতি কমে যেতে থাকে।

এ‌দি‌কে সৌদি আরবে গমনেচ্ছু কর্মীদের জন্য গত ২০ মে থেকে কিছু শর্ত আরোপ করে সে দেশের সরকার। এতে বলা হয়, করোনার পূর্ণ ডোজ টিকা না নেওয়া থাকলে ৭ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এ ছাড়া হোটেলে প্রবেশের আগে এবং কোয়ারেন্টিন শেষে বের হওয়ার পর করোনার জন্য নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। এর ফলে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বাড়তি খরচের বোঝা আসে কর্মীদের ঘাড়ে।

রিক্রুটিং এজেন্সি ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, সৌদি আরব ছাড়া সব শ্রমবাজার বর্তমানে বন্ধ আছে। সৌদি আরবে যেতেও খরচ বেড়ে গেছে। নতুন কর্মীরা বাড়তি খরচ করে যেতে রাজি হচ্ছেন না।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, সৌদিগামী পুরোনো প্রবাসী কর্মীদের ২৫ হাজার টাকা করে ভর্তুকি দেবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। তবে নতুন কর্মীরা এ ভর্তুকি পাচ্ছেন না। তাঁদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়।

টি‌কিট নি‌য়েও ভোগা‌ন্তি পোহা‌তে হ‌চ্ছে প্রবাসী‌দের। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, ভোগান্তি কমাতে উড়োজাহাজ সংস্থা ছাড়াও ট্রাভেলস এজেন্সির কাছ থেকে কোয়ারেন্টিন প্যাকেজ নেওয়া যাবে। ৩০০ অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর ১৪ দিন পার হলে সৌদিতে গিয়ে কোয়ারেন্টিন করতে হবে না কর্মীদের। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসী কর্মীদের টিকা নিশ্চিত করা দরকার বলে মনে করছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

এর আগে কোয়ারেন্টিনে প্যাকেজের জন্য সরকারের কাছে ভর্তুকি চান প্রবাসীরা। ভোগান্তি কমাতে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। আর কোয়ারেন্টিন প্যাকেজের টাকা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আদায়ের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।

বি‌শেষজ্ঞরা বল‌ছেন, দেশের স্বার্থেই কর্মী পাঠানো প্রয়োজন। তাই সরকার চাইলে ভর্তুকি দিতে পারে। এ ছাড়া দ্রুত টিকা দিতে প্রবাসীদের জন্য আলাদা কেন্দ্র করার উ‌দ্যোগ নেওয়া যে‌তে পা‌রে।

Leave a Reply