গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে জেনেভায় মানববন্ধন
গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে জেনেভায় মানববন্ধন

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক:
১৯৭১ এ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্বর পাকিস্তান এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো। সেই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান।

তারই ধারাবাহিকতা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

ব্রোকেন চেয়ারের পাদদেশে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সুইজারল্যান্ড শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এসময় বিশ্বজুড়ে গণহত্যা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নিতে এবং একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স শাখা, সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ, ফ্রান্স আওয়ামী লীগ, সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সুইজারল্যান্ড বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সর্ব ইউরোপীয়ান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার নেতা-কর্মীরা।

সর্ব ইউরোপীয় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি শাখার সভাপতি তরুণ কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সুইজারল্যান্ড শাখার সভাপতি রহমান খলিলুর মামুনের সঞ্চালনায় এই মানববন্ধনে প্রবাসী সংগঠকরা গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, নির্মম ও বর্বরতার নিকৃষ্ট যে উদাহরণ সংঘটিত হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে, তা নজিরবিহীন। বাংলাদেশে যেখানে নিরীহ ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে সময় লাগবে কেন? গণহত্যার স্বীকৃতি আমাদের অধিকার।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কেবল সময়ের দাবি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য চেষ্টা চালাতে হবে। স্বীকৃতি দিয়ে শহীদের আত্মা যেন শান্তি পায়, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

সমাবেশ থেকে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর দ্রুত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে উদ্যোগ নিতে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে, সমাবেশের ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্মূল কমিটি কেন্দ্রীয় শাখার সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির ও সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে গণহত্যা দিবস পালনের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকায় গণহত্যা বিষয়ে বাংলাদেশে তেমন আলোচনা হয়নি।

তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী ও সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply