ঘি‌ঞ্জি প‌রি‌বেশে বসবাস, নির্যাত‌নের ভয়াবহ ক্ষত অ‌ভিবাসী‌দের শরী‌রে
লিবিয়ার কয়েকটি বন্দিশিবিরে আটক অভিবাসীদের উপর সহিংসতা ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)

ঘি‌ঞ্জি প‌রি‌বেশে বসবাস, নির্যাত‌নের ভয়াবহ ক্ষত অ‌ভিবাসী‌দের শরী‌রে

ই‌মি‌গ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

ক্যাম্পের রক্ষীদের নির্যাতনে তাদের কারও শরীরের হাড় ভে‌ঙে গে‌ছে। কারও শরীর কাটা-ছেঁড়া। কেউ কেউ গুরুতর জখম নি‌য়ে নানা ধরনের ট্রমায় ভুগছিল৷ এ চিত্র লি‌বি‌য়ার এক‌টি বন্দি‌শি‌বি‌রের। যেখা‌নে রাখা হ‌য়ে‌ছে ইউ‌রোপ যাওয়ার প‌থে উদ্ধার হওয়া অভিবাসী‌দের।

লিবিয়ার কয়েকটি বন্দিশিবিরে আটক অভিবাসীদের উপর সহিংসতা ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)৷ চিকিৎসা সেবাদানকারী আন্তর্জাতিক সংগঠনটি এ কারণে ত্রিপোলির দুইটি জনবহুল বন্দি শিবির থেকে নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মাবানি বন্দি শিবিরে ১৭ জুন এমএসএফ কর্মীরা ১৯ অভিবাসীকে চিকিৎসা দেন৷

বিবৃতিতে সংগঠনটি বলছে, মাবানির এই বন্দিশিবিরে দুই হাজারের বেশি অভিবাসীকে রাখা হয়েছে, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি৷ বিবৃতিত আরেক বন্দিশিবির আবু সালিমের পরিস্থিতিও তুলে ধরেছে এমএসএফ৷ ১৩ জুন আটককৃতদের উপর নিরাপত্তরক্ষীদের গুলি চালানোর খবর পেয়ে সংগঠনটির কর্মীরা সেখানে যান৷ কিন্তু গোটা এক সপ্তাহ তাদের ঢুকতে না দিয়ে আহতদের চিকিৎসা সুবিধা থেকে বিরত রাখা হয়৷

এমন পরিস্থিতিতে এই দুই বন্দিশিবির থেকে নিজেদের সেবা কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে এমএসএফ৷ যদিও সিদ্ধান্তটি খুব সহজ ছিল না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন সংগঠনটির লিবিয়া মিশন প্রধান বিয়াট্রিস ল্যু৷ তিনি বলেন, ‘‘অনবরত চলা সহিংসতা, শরনার্থী বা অভিবাসীদের উপর নির্যাতনের ঘটনা, সেই সঙ্গে আমাদের নিজেদের কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আমরা আর তা মেনে নিতে পারছি না৷’’

সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ায় এই অভিবাসী শিবিরগুলো এখন পুরোই বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ এর ফলে সেখানে অবস্থানরত অভিবাসীদের পরিস্থিতি বা তাদের উপর চালানো নির্যাতনের তথ্য পাওয়া দুরূহ হয়ে যেতে পারে৷

আফ্রিকা, এশিয়া মহাদেশ থেকে অনিয়মিত পথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অন্যতম এক রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে লিবিয়া৷ ইউরোপের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লিবিয়ার কোস্ট গার্ড চলতি বছর দেশটির সমুদ্র পাড়ি দিতে যাওয়া ১৪ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে৷ তাদের বেশিরভাগকেই ফিরিয়ে এনে বন্দিশিবিরগুলোতে আটক রাখা হয়৷ এমএসএফ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘বেশিরভাগ বন্দিশিবিরেই আলোবাতাস চলাচল বা প্রাকৃতিক আলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেই৷ কিছু শিবির এতটাই জনবহুল যে এক বর্গমিটার জায়গায় চারজনকে থাকতে হয়৷ সেখানেই তাদেরকে শোয়া বা ঘুমাতে বাধ্য করা হয়৷’’ পাশাপাশি পরিস্কার পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাবও রয়েছে৷

এদিকে চলতি সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এপি তাদের এক প্রতিবেদনে শারা-আল-জাওয়াইয়া বন্দিশিবিরে অপ্রাপ্তবয়স্ক আশ্রয়প্রার্থীদের উপর লিবিয়ার নিরাপত্তা রক্ষীদের যৌন নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে৷ ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আনা পিসোনেরো বলেন, লিবিয়ার বন্দিশিবিরে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য৷

(সূত্র : ইন‌ফোমাই‌গ্রেন্টস)

Leave a Reply