জাতীয় পরিচয়পত্র কেন দরকার, হারিয়ে গেলে করুণীয় কী?

জাতীয় পরিচয়পত্র কেন দরকার, হারিয়ে গেলে করুণীয় কী?

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নাগরিকত্বের পরিচয়। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে এটির জন্য নথিভক্ত হয়ে নাগরিক স্বীকৃতি ও পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হয়। নির্বাচন কমিশন তথ্য নথিভুক্তি ও পরিচয়পত্র সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে। ২০০৮ সালে নাগরিকত্ব পরিচয়পত্র কর্মসূচি এবং ২০১৬ সাল থেকে স্মার্ট পরিচয়পত্র প্রদান শুরু হয়। মূলত এনআইডি কার্ড প্রদান করার মাধ্যমে নাগরিকের ইলেক্ট্রনিক শনাক্তকরণ নিশ্চিত করা হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র কেন দরকার?

দেশের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি তো রয়েছেই, একজন নাগরিক হিসেবে যেকোনো কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র আবশ্যক। যেকোনো নাগরিক অধিকার ও সুবিধা যেমন  ড্রাইভিং লাইসেন্স, মটর যান রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট, জমি ক্রয়-বিক্রয়,ব্যাংক হিসাব খুলতে, ব্যাংক ঋণ নিতে, টিন সার্টিফিকেট, মোবাইল সিম, সরকারি অনুদান ও ভাতাসহ সবকিছুর জন্য এটি প্রয়োজন। যে সমস্ত কাজে জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে হতো, সেই কাজগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সম্পন্ন করতে পারবেন।কোনো কাজে যুক্ত হতে চাইলে বা চাকরি করতে চাইলে তাদের সত্যতা যাচাইকরণে জাতীয় পরিচয়পত্র অপরিহার্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল কাজে শিক্ষার্থীদেরকে জন্ম নিবন্ধন সনদ বা আইডি কার্ড ব্যবহার করতে হয়।জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির মাধ্যমে একজন ব্যক্তি দেশের নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রাপ্ত হোন।ফলে দেশের সকল কাজে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র কীভাবে পেতে পারেন?

জাতীয় পরিচয়পত্র পাওযার জন্য একজন নাগরিককে পরিচয় নিবন্ধন করতে হবে।পরিচয় নিবন্ধনের জন্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের কাছে আবেদন করতে হয়। সাধারণরত, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে পুরো দেশ থেকে আঠারো বছর বয়সে উপনীত সহ যারা পরিচয়পত্র পাননি তাদের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়।এছাড়া কেউ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইং এ কমিশনারের নিকট আবেদন করতে পারেন।নাগরিকদের তথ্য নথিভুক্ত হওয়ার পর তাদের স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানায় নিবন্ধন করা হয় এবং সে অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর প্রদান করা হয়।কোনো নাগরিক ইচ্ছে করলে সে যে স্থানে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয় সেই ঠিকানা অনুযায়ী পরিচয়পত্র পেতে পারেন।একজন নাগরিক নির্বাচন কমিশন কতৃক কেবল একটি পরিচয়পত্র প্রাপ্তির অধিকার রাখে এবং একাধিক পরিচয়পত্র গ্রহণ আইনত দন্ডনীয় ও নিষিদ্ধ। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির সময় থেকে সেটার মেয়াদ শুরু হয় এবং পরবর্তী পনের বছর পর্যন্ত থাকে।মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পরে নাগরিকগণ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আবেদন এবং ফি প্রদান করে পরিচয়পত্র নবায়ন করতে পারবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

১. এসএসসি বা সমমানের সনদ,

২. চেয়ারম্যান/পৌরসভার/নাগরিক সনদ,

৩. জন্মনিবন্ধন সনদ,

৪. চাকরির প্রমাণপত্র (যদি থাকে)

৫. পাসপোর্টের ফটোকপি  (যদি থাকে),

৬. নিকাহনামা(যদি থাকে)

৭. পিতা, স্বামী কিংবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি

 সকল কাগজপত্রের ফটোকপি প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে নিতে হবে।

পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে করণীয়

কোনো না কোনো কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে যেতে পারে বা চুরি হতে পারে। এই অবস্থায় সাথে সাথে নিকটবর্তী থানায় ভোটার নম্বর বা আইডি নম্বর উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে নিন। এর পর জিডির মূল কপিসহ প্রকল্প কার্যালয় থেকে নেওয়া আবেদনপত্র নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিতে হবে। প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়।

পরিচয়পত্রে ভুল থাকলে যা করণীয়

এক কপি সদ্যতোলা ছবি সাথে নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্প পরিচালকের কাছে আবেদনপত্র লিখুন। এটি পাবেন ঢাকার আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের নিচতলায়। ফরমটি পূরণ করে জমা দেয়ার পর একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হবে। আপনার সাথে থাকা রসিদ নিয়ে ওই তারিখে সেটি সংগ্রহ করতে হবে। পরিচয়পত্রে নিজের নাম বদল করতে হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা এর নিচে হলে তা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নাম পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের কপি নাম পরিবর্তনের জন্য প্রার্থীকে শুনানির দিন প্রকল্পের কার্যালয়ে কাগজপত্রের মূল কপিসহ হাজির হতে হবে।

Leave a Reply