জীবন আগে, কষ্ট হলেও ঘরে থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সকল মেহনতি মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী

জীবন আগে, কষ্ট হলেও ঘরে থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের জীবন আগে। বেঁচে থাকলে আবার সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া যাবে। তাই অসুবিধা হলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি লকডাউনে ঘরে বসে বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সময়ে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছার পাশাপাশি সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে পবিত্র মাহে রমজানের মোবারকবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। বিটিভিসহ বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

আগামীকাল শুরু হওয়া লকডাউনের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত সপ্তাহে দ্বিতীয় ঢেউ প্রবল আকার ধারণ করলে মানুষের চলাচলের ওপর কিছু কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হয়। আপনারা দেখেছেন, কোনোভাবেই সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাই আমাদের আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। আমি জানি, এর ফলে অনেকেরই জীবন-জীবিকায় অসুবিধা হবে। কিন্তু আমাদের সবাইকেই মনে রাখতে হবে, মানুষের জীবন সর্বাগ্রে। বেঁচে থাকলে আবার সবকিছু গুছিয়ে নিতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত বছর করোনাভাইরাস আঘাত হানার পর নানাবিধ বিরূপ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। এই মহামারি প্রতিরোধে যেহেতু মানুষের সঙ্গনিরোধ অন্যতম উপায়, সে জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। যার ফলে মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, গত বছর একটানা ৬২ দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ ছিল। এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলেনি। বিদেশের সঙ্গে চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এই অবস্থা শুধু দেশে নয়, বিশ্বের যেখানেই এই মরণঘাতী ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে, সেখানেই এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

নববর্ষ উদযাপনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত বছরের মতো এ বছরও আমরা বাইরে কোনো অনুষ্ঠান করতে পারছি না। কারণ, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ নতুন করে আঘাত হেনেছে সারা দেশে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের করোনাভাইরাস আরও মরণঘাতী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। পয়লা বৈশাখের আনন্দ তাই গত বছরের মতো এবারও ঘরে বসেই উপভোগ করব আমরা।’

প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, যুগে যুগে মহামারি আসে। আসে নানা ঝড়ঝঞ্ঝা, দুর্যোগ-দুর্বিপাক। এসব মোকাবিলা করেই মানবজাতিকে টিকে থাকতে হয়। জীবনের চলার পথ মসৃণ নয়। তবে পথ যত কঠিনই হোক, আমাদের তা জয় করে এগিয়ে যেতে হবে। এরপর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলেন, ‘আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত। গিরি গুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত। সৃজিব জগৎ বিচিত্রতর বীর্যবান। তাজা জীবন্ত সে নব সৃষ্টি শ্রম-মহান।

Leave a Reply