টরন্টোতে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
কনসাল জেনারেল নাঈম উদ্দিন আহমেদ

টরন্টোতে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

ইমিগ্রেশন নিউজ : শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করেছে কানাডার টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

কনস্যুলেটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকালে বাংলাদেশ হাউসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর আলোচনা সভা হয়, সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্টারিও প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের সংসদ বিষয়ক সহকারী নর্ম মিলার। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সাসকাচুয়ান প্রদেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি উন্নয়ন মন্ত্রী জোডি ব্যাংকস।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং বঙ্গবন্ধুর উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানে। অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড এবং ম্যানিটোবা প্রদেশের ডেপুটি প্রিমিয়ার কেলভিন গোয়ের্তজেন এ বিশেষ ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নিবিড়ভাবে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

প্রধান অতিথি মিলার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ-মেয়াদী সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

”বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শন আমাদের জন্য এক অমূল্য শিক্ষা এবং বিশ্ব শান্তির জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘গতিশীল’ বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে সাসকাচুয়ানের উপমন্ত্রী জোডি ব্যাংকস বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য, কৃষি, গবেষণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।”

কনসাল জেনারেল নাঈম উদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে বলেন, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও ত্যাগের উদাহরণ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামী মানুষদের অনুপ্রেরণার এক মহান উৎস হয়ে থাকবে।

”বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শন আমাদের জন্য এক অমূল্য শিক্ষা এবং বিশ্ব শান্তির জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত।”অন্যদের মধ্যে এমএলএ ও ম্যানিটোবার সামরিক বিষয়ক বিশেষ দূত জন রেইস, অন্টারিও প্রিমিয়ারের বিশেষ উপদেষ্টা আনিশ দ্বিবেদী, ওন্টারিও রাষ্ট্রাচার প্রধান ক্যারা রাউসান, আলবার্টার রাষ্ট্রাচার প্রধান শ্যানন হ্যাগার্টি, ব্রিটিশ কলম্বিয়ার রাষ্ট্রাচার প্রধান লুসি লবমিয়ার, টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের প্রধান জেমস র‍্যামার, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কানাডার সভাপতি আমিন মিয়া, অন্টারিও আওয়ামী লীগের মোস্তফা কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ হোসেন মনা এবং টরন্টো ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মুনতাকা আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অন্টারিও, সাসকাচুয়ান, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা ও ম্যানিটোবা প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারাসহ কূটনীতিক, স্থানীয় কানাডিয়ান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে কনস্যুলেটের সকলের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়। জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কনস্যুলেট জেনারেলের পৃষ্ঠপোষকতায় ’নাচের পুতুল’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখানো হয়। সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজন শেষ হয়।

Leave a Reply