টারজান ভিসা: প্রতারণা, দুর্ভোগ আর দুর্নামের অপর নাম

টারজান ভিসা: প্রতারণা, দুর্ভোগ আর দুর্নামের অপর নাম

টারজান ভিসা’ কাগজে-কলমে নেই, কিন্তু বাস্তবে আছে৷ উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশিরা টারজান ভিসার ঝুঁকি নিচ্ছে৷ বসনিয়ার জঙ্গলে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশিরাও এর শিকার৷

এরকম আরো অনেক ধরনের ভিসার নাম প্রচলিত আছে৷ ডলফিন ভিসা, ফ্রি ভিসা, বডি ভিসা…৷

‘বনের রাজা’ টারজান যেমন দড়ি বা লতা গুল্ম ধরে এক গাছ থেকে লাফিয়ে আরেক গাছে যায়, এক জঙ্গল থেকে আরেক জঙ্গলে যায়, টারজান ভিসার বৈশিষ্ট্যও সেরকম৷ মানব পাচারকারীরা ইউরোপ বা এশিয়ার কোনো উন্নত দেশে চাকরি দেয়ার নামে যুবকদের এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে যায় জাল ভিসায়৷ কখনো বিমানে, কখনো নৌকা বা জাহাজে, কখনো বাসে বা অন্য কোনো যানবাহনে৷ কখনো পায়ে হাঁটিয়েও তাদের নিয়ে যাওয়া হয়৷ তাদের পাড়ি দিতে হয় পাহাড়, বন, সমুদ্র বা মরুভূমি৷ যানবাহনে ঝুলে ঝুলে যেতে হয়, যেতে হয় নৌকা বা জাহাজের খোলে লুকিয়ে৷

২০১৭ সালের এপ্রিলে এই টারজান ভিসায় নৌপথে ইটালির সীমান্তে পৌঁছতে পেরেছিলেন নেত্রকোনার রনি সাহা ও তার সহযাত্রীরা৷ কিন্তু তারপরও ভাগ্য তাদের প্রতি সদয় হয়নি৷ আটক হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছিল৷ তারপর ২০১৮ সালের মে মাসে আইওএম-এর সহায়তায় আবার দেশে ফিরে আসতে পারেন৷

রনি বলেন, ‘‘আমরা ১৫০ জনের মতো ছিলাম৷ আমাদের ইটালি পাঠানোর কথা ছিল৷ জাল ভিসায় আমাদের প্রথমে জর্ডান, জর্ডান থেকে মিশর, মিশর থেকে লিবিয়া পঠানো হয় বিমানে করে৷ লিবিয়ায় গিয়ে কিছুদিন আমরা চরম কষ্টে ছিলাম৷ এরপর প্লাস্টিকের নৌকায় করে আমাদের ইটালির সীমান্তে পাঠানো হয়৷ সেখানে আমারা আটক হই৷ ইটালি আর ঢুকতে পারিনি৷ এরপর আমরা তুরস্কে যাই৷ সেখানে আমাদের আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়৷ তারপর আইওএম-এর সহায়তায় ২০১৮ সালের মে মাসে দেশে ফিরে আসি।

নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা রনি সাহা এই টারজান ভিসায় ইউরোপ যেতে দালালকে কয়েক দফায় ১২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন৷ কথা ছিল ইটালি নিয়ে তাদের চাকরি দেয়া হবে৷ তার পরিবার এই টাকা জোগাতে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে৷ এখন তিনি একটি মুদি দোকান চালায় তার এলাকায়৷ প্রতারক দালালদের চিনলেও মামলা করার সাহস করছে না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ভিসাই ছিল জাল৷ আসলে ইমিগ্রেশনের একটি অসাধু চক্রের সহায়তায় আমাদের পাঠানো হয়েছিল ভেঙে ভেঙে৷’’

সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশে যাওয়ার জন্য আছে ফ্রি ভিসা৷ আর নৌপথে বোট বা জাহাজের খোলে লুকিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থার নাম দেয়া হয়েছে ডলফিন ভিসা৷ আসলে এর কোনোটাই কাজ পাওয়ার ভিসা নয়৷ এই ভিসা দিয়ে গিয়ে কোনো কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই৷ আটক হয়ে জেলে থাকতে হয় বা ফিরে আসতে হয়৷

ডয়চে বেলে, জার্মানি 

Leave a Reply