দালালচক্রের ফাঁদ এড়িয়ে বিদেশেগমন করবেন যেভাবে

দালালচক্রের ফাঁদ এড়িয়ে বিদেশেগমন করবেন যেভাবে

প্রত্যেকের স্বপ্ন আছে। স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে ছুটে চলে।দেশ-বিদেশে গিয়ে জীবন তরী ভেড়াতে চায়। বাংলাদেশ থেকে এভাবে কোটিরও বেশি লোক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হয়েছে। তারা কেউ উচ্চতর শিক্ষায় অথবা অধিকাংশই কর্মজীবনের জন্য। নতুন নতুন যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিন। তবে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে আবেগ তাড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সংকটে পড়ে যায়। ঘোরপাক  খায় দুষ্টুচক্রে।অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা হলো,যখন মানুষ তার স্বজাতির স্বপ্ন নিয়ে খেলা করে। নানা কুকৌশলে সংকটের মুখে নিয়ে যায়। কেড়ে নেয় সর্বস্ব।এমনকি বিপন্ন করে অমূল্য জীবন। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে এই প্রতারণা করে থাকে দালালচক্র। দিনের পর দিন এভাবে চলে আসছে। অনেক তরুণ উন্নত জীবনের  আশায় ঝুঁকিগ্রহণও করছে। এতে করে জীবন দিতে হয় মহাসমুদ্রে কিংবা পড়তে হয় অস্ত্রের  ‍মুখে।মধ্যপ্রাচ্যে থেকে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এমন নির্মমতার অগণিত ঘটনা নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। এমনকি করোনাকালেও থেমে নেই দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। এক্ষেত্রে চলতি বছরের মে মাসে লিবিয়ায় ২৬ জনের নৃশংস মৃত্যুর ঘটনা একেবারে সদ্য পাওয়া ঘটনা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর গবেষণা ২০১৮ সালের এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হচ্ছে, দেশের শ্রম বাজারে যে পরিমাণ জনসংখ্যা প্রবেশ করছে তার চার ভাগের এক ভাগই কর্মের উদ্দেশ্যে প্রবাসে গমন করছে। অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দের আশায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিটে-মাটি বিক্রি করে বৈধ/অবৈধ উপায়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। এর ফল হচ্ছে ভয়াবহ।সাগরে নৌকাডুবে হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীর সলিল সমাধি হচ্ছে।  আর যারা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় বিভিন্ন দেশের সীমান্ত পুলিশের হাতে আটক হয়ে নির্যাতন ও দীর্ঘ কারাবাসের শিকার হয়। পরে নিজেদের স্বপ্ন ও স্বর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হয়।

বিশ্ব গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গত ২০১৯ সালের ১০ মে ৩৭ জন সাগরেডুবে করুণ মৃত্যুর মুখে পড়েছে। ২০১৬ সালে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে গবেষণা অনুযায়ী, ১৯ শতাংশ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন দেশে অবৈধ অভিবাসী হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একইভাবে ৫২ শতাংশ শ্রমিক দালালের মাধ্যমে বিদেশ গমন করে থাকে। এমনকি বৈধ এজেন্সির দালালদের দ্বারা অভিবাসীরা বিভিন্ন ভাবে প্রতারণার শিকার হয়। এই অবস্থায় অভিবাসী প্রত্যাশারীরাও পথ খুঁজে পাননা যে, তাদের করূণীয় কী। যদিও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও নিয়ম বলা আছে। একটু সচেতন হয়ে সেসব অনুসরণ করলেই নিরাপদে বিদেশ গমন করা সম্ভব।

 বৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত

আপনাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, আপনি বৈধভাবে ও নিরাপদে বিদেশে যেতে চান। যাওয়ার আগে লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে হবে। যাবতীয় খরচ কত। ব্যয় করা অর্থ সংগ্রহ করতে কত সময় লাগবে বিদেশে গিয়ে। চাকরির ধরন কেমন। সে চাকরি সম্পর্কে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কেমন-ইত্যাদি সব বিবেচনা করা পূর্বশর্ত। যদি মনে হয় যে, সবকিছু নিজের সঙ্গে যাচ্ছে তাহলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করুন।

নাম রেজিস্ট্রেশন

দ্বিতীয়ত আপনার সামনে আসছে সরকারি ও বৈধভাবে যাওয়ার বিষয়ে নাম নিবন্ধনকরণ। এক্ষেত্রে ঢাকার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কিংবা নিজ জেলার জনশক্তি কার্যালয়ে গিয়ে নাম নিবন্ধন করে নিন।

প্রস্তুতি গ্রহণ

এবার শুরু করুন প্রস্তুতি। গন্তব্য দেশের ভাষা সম্পর্কে ধারণা রাখার কাজটি সবার আগে দেখতে হবে। ধারণা রাখা মানে ওই ভাষার বেসিক জানা, সে দেশে গেলে যেন আপনি সমস্যায় না পড়েন তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং আপনার কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।

বিভিন্ন যোগাযোগ স্থাপন ও কর্মতৎপরতা

প্রশিক্ষণ শেষে আপনি প্রস্তুত। তাহলে সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট এর মাধ্যমে বিদেশ গমনের কাজটি শুরু করুন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও নিজের পছন্দের দেশ ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করুন। খোঁজ নিন গন্তব্র দেশ ও চাকরির বিষযে। কত বেতন,মোট ব্যয় কত হবে-ইত্যাদি সব জেনে নিন। আর অর্থ লেনদেনের সময় ব্যাংক বা কোনো ডকুমেন্ট অবশ্যই রাখতে হবে। সম্ভব হলে সাক্ষীও রাখবেন। কোনো রকম ঝুঁকি রাখা যাবে না। খুঁটিনাটি সব দেখে কাজ করাটা বুদ্ধিমানের কাজ।

পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ

পঞ্চমত, নিজ দেশ থেকে যেকোনো যেতে প্রথমে দরকার পাসপোর্ট। নিজের পাসপোর্ট সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নিজেই করান। দালাল ধরে পাসপোর্ট করা যায় না। নিজের পাসপোর্ট সব সময় নিজের কাছে রাখবেন। মনে করুন, আপনার সমস্ত কাগজপত্র প্রস্তুত। ভিসার আবেদনও করা হলো। ভিসা পাওয়ার পর তা যাচাই করুন। নিজে বুঝতে না পারলে, জানাশোনা আছে এমন বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে যাচাই করান। একইভাবে যে দেশে ও যে চাকরিতে যাবেন  তা ভালোভাবে পড়ে ও বুঝে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করবেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ষষ্ঠত, বিদেশে যাওয়ার আগেই নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে তথা মেডিকেল টেস্ট। এক্ষেত্রে যে দেশে যাবেন সেই দেশের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করুন।

Leave a Reply