দে‌শের বাই‌রে অর্থ পরিশোধ করতে রে‌মিট‌্যান্স কার্ডের অনুমতি
বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে অর্থ পরিশোধ সহজ করতে পদক্ষেপ নিয়েছে।

দে‌শের বাই‌রে অর্থ পরিশোধ করতে রে‌মিট‌্যান্স কার্ডের অনুমতি

ইমি‌গ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এক সার্কুলারে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনকারী ব্যাংকের শাখাকে (এডি শাখা) ‘আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স কার্ড’ খোলার অনুমোদন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক কার্ড নেই এমন ব্যক্তিও এখন ব্যাংকের সহায়তায় সহজে বিদেশে কোনো সেবার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে অর্থ পরিশোধ সহজ করতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এতে কোনো এডি শাখা নিজের নামে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স কার্ড ইস্যু করে যাদের আন্তর্জাতিক কার্ড নেই এমন ব্যক্তিদের কার্ডভিত্তিক ‘পেমেন্ট’ করতে পারবে। এই কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনকে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘অলটারনেটিভ পেমেন্ট চ্যানেল’ হিসেবে সার্কুলারে উল্লেখ করেছে।সার্কুলারে কোন কোন সেবা ও খাতে এই কার্ডে অর্থ পরিশোধ করা যাবে এবং ব্যবহারের শর্ত উল্লেখ করে দিয়েছে।

সার্কুলারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যয়, কোনো সদস্য ফি, ভর্তি, পরীক্ষা, আবেদন ও রেজিস্ট্রেশেন ফি, বিদেশে পড়াশোনার ফি, চিকিৎসা ব্যয়, টিকেটের টাকা, ভিসা ও ল্যান্ডিং ফি, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারসহ ১১ খাতের ফি পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে পেমেন্ট নেয় না, শুধু এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।একই সঙ্গে যাদের আন্তর্জাতিক কার্ড নেই শুধু তারাই ব্যাংকের মাধ্যমে এমন লেনদেন করতে পারবেন।ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে বাইরে এমন কিছু লেনদেন আছে যেগুলো শুধু কার্ডের মাধ্যমে করতে হয়।অনেক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে করা যায় না।কারণ ক্রেডিট কার্ডে একটা সর্বোচ্চ সীমা দেয়া থাকে আবার সেই লেনদেনগুলো ব্যাংকের মাধ্যমেও করা যায় না ।কারণ যেখানে টাকা পাঠানো হবে তারা ব্যাংক চেক গ্রহণ করেন না। তারা তাদের ওয়েবসাইটে কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট নেন।

এই সমস্যার সমাধান করতে কৌশল খুঁজে বের করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকের নিজের নামে ইন্টারন্যাশনাল রেমিটেন্স কার্ড করার সুযোগ দিয়েছে।তিনি জানান, এখন গ্রাহকরা ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংকের কাছে টাকা জমা দিয়ে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাঠাতে পারবেন।এই সমস্যাটা বেশি দেখা দেয় যখন বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তির জন্য টাকা পাঠাতে চান তখন।

এক্ষেত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে একবারে ৩০০ ডলারের বেশি পাঠানো যায় না।আবার সেখানে ব্যাংকের চেক এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায় না। এই সমস্যার সমাধানে এখন নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করার পরে ছাত্ররা ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা পাঠাতে পারবেন।এছাড়া দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার টাকা পাঠানো যাবে রেমিটেন্স কার্ডের মাধ্যমে।

পাশাপাশি বিদেশের গবেষণা প্রতিবেদন পড়ার জন্য এবং এরকম আরো কয়েকটি প্রয়োজনে টাকা রেমিটেন্স কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া যাবে, যা আগে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া যেত না । 

Leave a Reply