দ্বিতীয় ঢেউ: জীবন-জীবিকা দুটোই বাঁচুক
অর্থনীতিতে করোনার প্রথম ধাক্কার ক্ষত এখনো সামলে উঠতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয় ঢেউ: জীবন-জীবিকা দুটোই বাঁচুক

ইমিগ্রেশন নিউজ :
অর্থনীতিতে করোনার প্রথম ধাক্কার ক্ষত এখনো সামলে উঠতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে ৭ দিনের লকডাউন দিয়েছে সরকার। আর এমন এক সময় লকডাউনের ঘোষণা এল, যখন পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে ব্যবসায়ীদের।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামষ্টিক অর্থনীতি, মানুষের কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর করোনার প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বলা কঠিন। এই মুহূর্তে লকডাউনের সিদ্ধান্তটি সঠিক। তবে এই লকডাউনকে ছুটি মনে করে, মানুষ যেন বাইরে না যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদনও চালু রাখা উচিত। অন্যদিকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসাবে আবারও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। সামগ্রিকভাবে করোনা মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এরপর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ওই বছরের ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল সরকার। বাজেটে স্বাস্থ্য খাতসহ সুনির্দিষ্ট দশ পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু বিপর্যস্ত অর্থনীতি এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বিশেষ করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মানুষের আয় এখনো আগের জায়গা ফিরে যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করবে, কতদিন লকডাউন দীর্ঘ হয় তার ওপর। এ অবস্থায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা ও বণ্টন ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে। প্রথম ধাক্কায় নড়বড়ে হয়েছিল দেশের অর্থনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিল গতিহীন। নতুন করে ১০ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে। অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স ছাড়া সবগুলো নিম্নমুখী। করোনা মোকাবিলায় সরকার ৭ দিনের লকডাউন দিয়েছে। এটি সঠিক। কারণ এর বাইরে কিছু করার ছিল না। তবে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুতি জরুরি। বিশেষ করে লকডাউনের কারণে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ এবং দিনমজুরসহ বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক যেসব শ্রমিক রয়েছে, তাদের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। আর মধ্যমেয়াদে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবারও উদ্দীপনামূলক প্যাকেজ ঘোষণা করা উচিত। এতে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা থাকতে হবে।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের কারণে অর্থনীতি খাদে পড়েছিল। সেখান থেকে প্রায় উঠে এসেছিল। এর মধ্যে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এতে অর্থনীতি আরও খাদে পড়েছে। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ, রমজান এবং ঈদকে কেন্দ্র অর্থনীতিতে  যে লেনদেন হতো তাতে বিপর্যয় নেমে এল।

Leave a Reply