নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে অজ্ঞতা : বঞ্চিত প্রবাসী কর্মীরা

নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে অজ্ঞতা : বঞ্চিত প্রবাসী কর্মীরা

দেশ থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ নারী-পুরুষ কাজের জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অভিবাসী এসব শ্রমিকের বেশিরভাগই নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না। তারা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন, বঞ্চিত হচ্ছেন নিজেদের অধিকার থেকে।

অভিবাসন বিষয়ক নীতি-দলিলাদির একটি পর্যালোচনা : ‘প্রেক্ষিত শ্রমিক অধিকার, মানবিক অধিকার এবং নারী অধিকার’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। মঙ্গলবার দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) উদ্যোগে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপিত হয়।

বিলস’র উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. ইসরাফিল আলম এমপির সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম-সমন্বয়কারী নইমুল আহসান জুয়েল, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার লাতেশিয়া উইবেল রবার্টস, ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আবুল হোসাইন, বিলস’র নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ, শাকিল আখতার চৌধুরী, উম্মে হাসান ঝলমল, পুলক রঞ্জন ধর, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) উপ-পরিচালক অ্যাডভোকেট বরকত আলী, সলিডারিটি সেন্টার বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম প্রমুখ। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিলস’র উপ-পরিচালক (গবেষণা) মো. মনিরুল ইসলাম।

বিলস’র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসী বিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতি-দলিলাদি বেশ ব্যাপক ও বিশদ। পরিষ্কার করে বললে, আন্তর্জাতিক নীতি-দলিলাদিতে অভিবাসী শ্রমিকদের শ্রম অধিকার, মানবিক অধিকার ও নারী অধিকারসমূহ সুরক্ষায় বিস্তারিতভাবে নীতি-নির্দেশিকা আছে। যে ১০টি আন্তর্জাতিক নীতি-দলিলাদি পর্যালোচনা করা হয়েছে তার অন্তত আটটিতে ন্যায্য ও উপযুক্ত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অন্তত পাঁচটি নীতি-দলিলে অভিবাসী শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বীকৃতি রয়েছে। এমনকি অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় সুস্পষ্ট নীতি-নির্দেশনার উল্লেখ আছে।

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়সমূহ কার্যকর সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিকভাবে সম্মত একটি বৈশ্বিক প্রক্রিয়া ও শাসন কাঠামো, যেখানে ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিক অভিবাসন বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে অসংখ্য সনদ ও প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে, কিন্তু কোনোটিরই আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। অভিবাসী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ ও চুক্তিসমূহ অনুমোদনকারী দেশের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশ কম। মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসী গ্রহণকারী দেশসমূহে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রমিক অধিকার ও মানবাধিকার বাস্তবায়নের বিষয়সমূহ সমধিক করুণ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়সমূহের বিপরীতে এসব দেশে ’কাফালা সিস্টেম’র মত নিজস্ব অভিবাসী ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে মালিক ও রিক্রুটিং এজেন্টের সর্বাত্মক কর্তৃত্বাধীনে অভিবাসী শ্রমিককে অনেকটা বাধ্যতামূলক শ্রমে অংশগ্রহণ করতে হয়। এভাবেই অভিবাসী শ্রমিকদের শ্রমিক অধিকারের বিষয়সমূহ অনেকটা শৃঙ্খলিত হয়ে পড়েছে।

অভিবাসী শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার শুধু কাগজেই বিদ্যমান, বাস্তবিকভাবে এর কোনো প্রয়োগ নেই- বলা হয় প্রতিবেদনে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একেকজন শ্রমিক ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেও ন্যূনতম মজুরি পান না। তার ওপর শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন তো রয়েছেই।

আহমেদ জোয়ার্দার 

Leave a Reply