নির্মাণশ্রমিক থেকে ‘মাস্টারশেফ’
শরিফের এই ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী উঠে এসেছে সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইটস টাইমস এর প্রতিবেদনে।

নির্মাণশ্রমিক থেকে ‘মাস্টারশেফ’

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে সিঙ্গাপুর যাত্রা শরীফের। সেটা ৮ বছর আগের কথা। ছয়টি বছর কেটেছে ইট রড সিমেন্ট আর বালুর সঙ্গে। সোজা কথায় হাড়ভাঙা খাটুনির নির্মাণশ্রমিকের কাজ। রাত-দিন কঠোর পরিশ্রম করেও ভাগ্যের চাকা ঘোরানো অসাধ্য হয়ে উঠছিল। নিরূপায় হয়ে ছেড়ে দিলেন কাজ। ভিন্ন কিছুতে দক্ষতা নিতে হবে। প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে ফিরে এলেন দেশে। প্রশিক্ষণও নিয়েছেন কিছুদিন। এরই মধ্যে দারুণ এক সুযোগ ধরা দিল। জনশক্তি মন্ত্রণালয় তাঁকে সুযোগ করে দেয় একটি খাবার কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার। সেই শুরু। এরপর পরের পথ নিজেই গড়ে নিয়েছেন শরীফ।

দিনে দিনে চওড়া হয়েছে সাফল্যের পথ। মাত্র দুই বছরের মাথায় তিনি এখন সিঙ্গাপুরের বাঙালি বিরিয়ানি রেস্টুরেন্টের মাস্টারসেফ। শুধু তাই নয়, সিঙ্গাপুরের যিশুন এভিনিউতে অবস্থিত বিরিয়ানি-৪৭ এর অন্যতম অংশীদারও তিনি। বলতে গেলে তিনি একাই চালিয়ে নিচ্ছেন বাঙালি স্বাদের বিরিয়ানি রেস্টুরেন্টটি। এই রেস্টুরেন্টের দম বিরিয়ানি আর চিকেন কারি শেষ হয়ে যায় বেলা সাড়ে তিনটার মধ্যেই।

সম্প্রতি শরিফের এই ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী উঠে এসেছে সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইটস টাইমস এর প্রতিবেদনে। ওই রেস্টেুরেন্টের মূল মালিক রুবেন শরিফের রান্নার হাতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর সুস্বাদু রান্নার কারণে সাফল্য আসছে বহুগুণে। সেই কল্যাণে বিরিয়ানি ৪৭ এখন একটি আউটলেট থেকে দ্বিতীয় আউটলেটে প্রবেশে করতে যাচ্ছে। শিগগিরই খুলতে যাচ্ছে নতুন আউটলেটটি। নিজেদের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এমনটাই জানিয়েছে তাঁরা।

শরিফ দুই বছর ধরে বিরিয়ানি ৪৭ পরিচালনা করে আসছেন। রেস্টুরেন্টটির ফেসবুক পেজে বলা হয়, মাস্টারসেফ শরিফ, আমাদের একক খোলোয়াড়, যিনি তাঁর সর্বোচ্চ ভালোবাসা ও আবেগ দিয়ে বিরিয়ানি তৈরিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।শরিফ অল্প বয়সেই মায়ের কাছ থেকে রান্না শিখেছিলেন। মাঝখানে সিঙ্গাপুরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে এলেও তাঁর মন স্থির ছিল না। পরে নিজের জায়গা ঠিক করে নিতে পেরেছেন।

সিঙ্গাপুরকে তিনি নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই বিরিয়ানি ৪৭ কে নিয়েছেন জীবনের ধ্যানজ্ঞান হিসেবে । প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে শরিফ ব্যস্ত হয়ে পড়েন বিরিয়ানি তৈরির কাজে। সিঙ্গাপুরে বাঙালি খাবার প্রস্তুত করে খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে জীবনের আনন্দ খুঁজে পান শরিফ।

Leave a Reply