নিশ্চিত করি প্রবাসীদের মর্যাদা!

নিশ্চিত করি প্রবাসীদের মর্যাদা!

প্রবাসীর জীবন হলো মোমবাতির মত “নিজে পুড়ে অন্যকে আলো দেয় আর যখন নিভে যায় তখন তার অস্তিত্ব থাকেনা”। প্রবাসীর কথা শুনলেই অনেকের মনে হয় তারা শুধু টাকা কামানোর মেশিন, মানুষ না। কিন্তু তারা আমার আপনার পরিবারেরই একজন, একটা মায়ের কলিজার ধন, একটি পরিবারের রত্ন, দেশের একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। যে মানুষটি আজ প্রবাসী সেতো এক সময়ে সবার প্রিয় ছিলো, অন্য দশজন ছেলের মত তারও জীবণ ছিলো আনন্দময়।

পরিবারের চাপ অথবা পরিবার, ভাই-বোনদের কথা চিন্তা করে, সেই ছেলেটি পরিবারের মায়া ত্যাগ করে সংসারের হালধরার জন্য প্রবাস জীবন বেছে নিতে হয়েছে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি একজন প্রবাসী বিদেশে পাড়ি জমায় তার পরিবারের জন্যই কখনও তার সুখের জন্য নয়। এই পরিবারের সুখের জন্য অনেক প্রবাসী আছে ঠিক সময়ে বিয়েটা পর্যন্ত করতে পারে না। কারণ একজন প্রবাসী সকল সুখই বিসর্জন করতে হয়, যখন যে প্রবাসের মাটিতে পা রাখে এবং তা চলতে থাকে নিজ দেশে স্থানী ভাবে না আসা পর্যন্ত। তাকে চিন্তা করতে হয় ভাই-বোনের পড়া শোনার খরচ, বাবা-মার চিকিৎসার খরচ, যার কারনে একজন প্রবাসী তার নিজের জন্য চিন্তা করার সুযোগ পাই না।

সারা পৃথিবীতে ১ কোটি ৩০ লাখ প্রবাসী আছে। অনেক প্রবাসী বিদেশ যাওয়ার পূর্বে অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে ভরসা করতে হয় রিক্রুটিং এজেন্সি বা দালালদের উপর আর এসকল অনেক প্রবাসীকে বিদেশ যাওয়ার পর পড়তে হয় নানা সমস্যায়। একবুক আশা নিয়ে একটি মানুষ প্রবাসে পাড়ি জমায় আর এজেন্সি ও দালালরা তাদের রঙিন রঙিন স্বপ্ন দেখায় আর সেই স্বপ্নে মুখরিত হয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে অনেক আবার পাড়ি জমাচ্ছে প্রবাসে।

একজন মানুষ তার গৃহপালিত পশু, জমি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমায়। বিদেশ যাওয়ার পর পরিবার, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন মনে করেন বিদেশ মানেই ডলার বা গাদা গাদা টাকা পয়সা ইনকামের রাস্তা। কিন্তু একজন প্রবাসী যে কত কষ্ট করে টাকা ইনকাম করে সেটা কেউ যদি স্বচক্ষে দেখে তাহলে প্রবাসীদের পাঠানো টাকা খরচ করতে হৃদয় নাড়া দিতো। এতো কষ্টের পরও একজন প্রবাসী বছরকে বছর কাজ করে চলছে। যখন বিদেশ যায় তখন তার বয়স ছিলো ২০/২২ বছর, এরমধ্যে কবে যে ৩০/৩৫ এর বেশি হয়ে যায় তাদের হিসাবও নেই। তার জীবন যৌবন সবটুকু পার করে দিতে থাকে এই প্রবাস জীবনে। শুধু তার পরিবার পরিজনের কথা চিন্তা করে।

প্রবাসী ঈদের দিনে মা-বাবাকে ফোন দিয়ে খোঁজ খবর নেয় মিষ্টান্ন, হালুয়া রুটি, বিরিয়ানি খেয়েছে কি? নতুন জামাকাপড় কিনেছে কি না? কিন্তু দেশে তার পরিবার ঠিকই জাক জমক লাগিয়ে পালিত করছে ঈদ কিন্তু একজন প্রবাসীকে ঈদের দিনও যে তাকে ডিউটি করতে হয় এটার খবর কি কেউ রাখে? শুধুমাত্র পরিবার ভালো থাকুক মা-বাবা ভালো থাকুক, ভাই-বোন ভালো থাকুক এটাই একজন প্রবাসীর কাম্য থাকে। ডিউটি করতে করতে কাজের ফাঁকে এভাবেই বলে, আমার তো একসপ্তাহ ছুটি বাসা বসে বিরিয়ানি খাচ্ছি, পরিবার তাকে নিয়ে যাতে চিন্তা না করে, এজন্যই এমন মিথ্যা বলার আশ্রয় নিতে হয় তাকে। ভাবছেন প্রবাসীরা মিথ্যা বাদি, এছাড়াও অনেক নাটক করে চলতে হয় একজন প্রবাসীকে।

একজন প্রবাসী চাই আর জীবনের বিনিময়ে ভালো থাকুক তার পরিবার পরিজন। কবে শেষ হবে প্রবাসীদের দূর্দশা? কবে পাবে প্রবাসী তার ন্যায্য সম্মান? আর কবে নিশ্চিত হবে প্রবাসীর মর্যাদা?

আল আমিন নয়ন, অভিবাসী কর্মী

Leave a Reply