পর্তুগালের কভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম ইইউকে অতিক্রম করেছে

পর্তুগালের কভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম ইইউকে অতিক্রম করেছে

ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল  
পর্তুগাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভ্যাকসিন প্রোগ্রামের আওতায় আছেন অর্থাৎ ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তি করেছিল এবং সে অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তারা সরবরাহ করছে। পর্তুগাল গত ২৭ শে ডিসেম্বর/২০২০ শুরু হওয়া করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রমে ২৭ শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮৭৮ জনকে কমপক্ষে একটি ডোজ করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন যা তাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ । তবে পর্তুগালের এই সংখ্যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় হিসেবে প্রতি ১০০ জনের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ৬ দশমিক ৮৩ অন্যদিকে পর্তুগালের গড় ৭ দশমিক ৫, যাতে বুঝা যায় পর্তুগাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের টিকা কার্যক্রমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ রয়েছে।

এ পর্যন্ত পর্তুগাল ১০ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯৭০ ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে। গত ২৭ শে ডিসেম্বর ২০২০ সালে শুরু হয় কভিড-১৯ ভেকসিন কার্যক্রম একটু ধীর গতি লক্ষ্য করা গেছে,  তবে ইদানিং  তার গতি পেয়েছে অনেক গুণ যেমন গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্য ২৭ এ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একদিনে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন প্রায় ৪০ হাজার ৮৭৬ জন মানুষ।

পর্তুগাল সরকার আগামী গ্রীষ্মের প্রথমার্ধে মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০% জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন প্রদান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, অপরদিকে যদি ভ্যাকসিন সরবরাহ বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রতিদিন ভ্যাকসিন প্রদানের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী চার মাসের মধ্যে সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সক্ষম হবে। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনে পুর্নডোজ(২য় ডোজ) ভ্যাকসিন গ্রহণের হার হিসেবে পর্তুগাল বিশ্বের মাঝে ১৮ তম অবস্থানে রয়েছে , অর্থাৎ পর্তুগাল এ পর্যন্ত তাদের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন শতাংশের উপরে পুর্নডোজ(২য় ডোজ) দিতে সমর্থ হয়েছে। তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর ক্ষেত্রে পর্তুগালের অবস্থান ৯ নম্বরে। পর্তুগালের ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাজানো হয়েছে তিনটি ধাপে।

প্রথম ধাপে- দেশের সেবা কার্যক্রমের সামনের সারিতে যারা কাজ করেন অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, বিভিন্ন সেবাদনকারী ব্যক্তিবর্গ, ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ। দ্বিতীয় ধাপে- ৬৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে এবং 50 থেকে 65 বছর বয়সের যাদের কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা এবং শ্বাসজনিত যেকোনো রোগের সমস্যায় যাদের অক্সিজেন নিতে হয় তাদের ক্ষেত্রে। তৃতীয় ধাপ- সর্বশেষে এই ধাপে ক্রমান্বয়ে বয়স ভিত্তিক গ্রুপ যেমন ৫০ থেকে ৬৫, ২৪ থেকে ৪৯, ১৮ থেকে ২৪ এবং সর্বশেষ ০ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত । ক্রমান্বয়ে দেরকে যোগাযোগ করে ভ্যাকসিন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী অন্তনিও কস্তা জরুরি অবস্থা এবং লকডাউন বর্ধিত করেছেন। এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রমের প্রতি জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তাই আশা করা যাচ্ছে সরকারের ঘোষিত ৭ই জুলাই ২০২১ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীকে  ভ্যাকসিন প্রদান করতে সক্ষম হবেন।

Leave a Reply