পুলিশ ভেরিফিকেশন কি এবং কেন

পুলিশ ভেরিফিকেশন কি এবং কেন

সাধারণত চাকুরী, পাসপোর্ট, লাইসেন্স বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আবেদনকারী কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যাদি নির্ভরযোগ্য কিনা তা পুলিশ কর্তৃক যাচাই করা হয়। আর এই যাচাই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় পুলিশ ভেরিফিকেশন বা সত্যতা প্রতিপাদন।এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। যদিও এ নিয়ে অনেক সময় মানুষের ভোগান্তি থাকে। এরপরও এটির গুরুত্ব হ্রাস পায় না।  

যেসব ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন করা হয়

ভেরিফিকেশনকালে প্রার্থীর তথ্যাদির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর চারিত্রিক ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হয়।সরকারি,আধা-সরকারি,স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি (ঐচ্ছিক) প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পাসপোর্ট প্রাপ্তি, বিভিন্ন ধরণের লাইসেন্স প্রাপ্তি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যবহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। ভেরিফিকেশনে নির্ভরযোগ্য প্রমান হলে কেবল গুরুত্বপূর্ণ এই কাজগুলো নিয়ে সামনে আগানো হয়।

কোন বিষয়গুলো যাচাই করা হয়?

পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় একজন প্রার্থীর বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করা হয়। যেমন- প্রার্থীর পুরো নাম, জাতীয়তা, প্রার্থীর পিতার পুরো নামও জাতীয়তা, প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা ( এটার সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে বাড়ির দলিল বা বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা ওয়াসার বিল কপি চাওয়া হতে পারে), প্রার্থীর বর্তমান ঠিকানা, বৈবাহিক অবস্থা, প্রার্থী বিগত ৫ বছর যেসব ঠিকানায় অবস্থান করেছেন সেগুলোর ঠিকানা, প্রার্থীর জন্ম তারিখ(এক্ষেত্রে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা জন্ম সনদ চাওয়া হয়), প্রার্থীর জন্মস্থান, প্রার্থী পনের বছর বয়স পর্যন্ত যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেছেন সেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য, প্রার্থীর পূর্ববতী চাকুরীর তথ্য ,প্রার্থী কোন কোটাধারী কিনা (যেমন মুক্তিযুদ্ধ কোটা), প্রার্থীর প্রতিবন্ধীর কোনো চিহ্ন আছে কিনা, কোন মামলায় যুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত কিনা ও কোন প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত কিনা, কোন নিকট আত্মীয় বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত থাকলে সেগুলোর তথ্য, প্রার্থীর কোন নৈতিক স্খলনের রেকর্ড আছে কিনা, কোন চাকুরী থেকে বরখাস্ত প্রাপ্ত কিনা, কোন রাষ্ট্রদ্রোহী বা নাশকতামূলক কাজে যুক্ত আছেন/ছিলেন কিনা, প্রার্থীর চারিত্রিক ও সামাজিক অবস্থান, এছাড়াও আবেদনের ধরণ অনুযায়ী অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় যাচাই করা হয়।

এসব বিষয় যাচাই করার জন্যে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সম্পর্কিত বিষয়ে ডকুমেন্টস জমা দিতে হতে পারে।পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় প্রার্থীকে থানায় যেতে হয়না।কারণ,তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রার্থীর উল্লিখিত ঠিকানাসমূহে সরেজমিনে তদন্ত করে থাকেন।তবে তদন্ত কালে প্রার্থী যদি তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদা মতে কোনো ডকুমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন না করতে পারেন, তাহলে সেটা প্রদান করতে আলোচনা সাপেক্ষে যেতে হতে পারে।

কতটা সময় সাপেক্ষ?

পুলিশ ভেরিফিকেশন কখনো অধিক সময় কখনো কম সময়ে সম্পন্ন হতে পারে।এটা মূলত নির্ভর করে কতগুলো বিষয় যাচাই করতে চাওয়া হয়েছে তার উপরে।যদি একটিমাত্র পুলিশ ইউনিটের অধিক ক্ষেত্রের মধ্যে ভেরিফিকেশন করতে হয়, তাহলে সাধারণত ৩ দিনের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করতে হয়।তবে যদি প্রার্থীর স্থায়ী, বর্তমান সহ চাকুরীর ঠিকানা ভিন্ন ভিন্ন হয় তাহলে পনেরো দিনও লাগতে পারে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন চলাকালে কোনো প্রার্থী হয়রানির শিকাত হলে তদন্ত কর্মকর্তার সিনিয়র অফিসার বা বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার কাছে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ জানাতে পারেন।এছাড়াও পুলিশ সুপার,স্পেশাল ব্রাঞ্চ,বাংলাদেশ পুলিশ,রাজারবাগ,ঢাকা বরাবর আবেদনকরে বা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন।

এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন-বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে

Leave a Reply