প্রবাসী অ্যাপ’ কী এবং কোন কোন কাজে আসবে?
প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সঠিক তথ্য দিতে চালু হলো ‘প্রবাসী’ অ্যাপ ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী অ্যাপ’ কী এবং কোন কোন কাজে আসবে?

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ কাজ ও উন্নত জীবনমানের উদ্দেশে বিদেশে পাড়ি জমান। প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থী যান বিশ্বেরবিভিন্ন প্রান্তে। এ ছাড়া প্রায় ৭৫ লাখেরও বেশি প্রবাসী তো রয়েছেনই পৃথিবীজুড়ে। বিদেশযাত্রার এই পুরো প্রক্রিয়ায় আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা এজেন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন সহায়তা করে, আবার অনেক সময় তৈরি করে বিড়ম্বনা, বয়ে আনে ক্ষতি। ডিজিটাল মাধ্যমে অসংখ্য তথ্যের ভিড়ে আসল তথ্য যাচাই করাও একটা কঠিন কাজ। প্রতিদিনের বিড়ম্বনা থেকে রেহায় পেতে ও সঠিক তথ্য পাওয়ার কঠিন কাজটিকে সহজতর করার লক্ষ্যেই চালু হয়েছে প্রবাসী অ্যাপ।
প্রবাসী অ্যাপ?
অ্যাপ বলতে আসলে অ্যাপ্লিকেশন এর সংক্ষিপ্ত রুপ। এটি এক ধরণের সফটওয়্যার। যেটা পৃথক প্ল্যাটফর্মে চালু করা যায়। অ্যাপ এবং সফটওয়্যার একই জিনিস। তবে এখন মডার্ন ধরনের টাইপের সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম গুলোকে অ্যাপ বলা হয়। এটি অনেক টাইপের হতে পারে, হতে পারে মোবাইলে চলছে, কম্পিউটারে চলছে, আবার যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইজেও কাজ করছে। কিছু অ্যাপ্লিকেশন ওয়েব ব্রাউজারেও চলে। আবার কিছু অ্যাপ্লিকেশন অফলাইন চলতে পারে এবং কিছু অ্যাপ্লিকেশন অনলাইন চালানো হয়। প্রবাসী অ্যাপ তেমনই একটি অ্যাপ, যেটি মূলত বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছে। শুরুতে অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত স্মার্টফোনে চলবে। গুগল অ্যাপস্টোরে ‘ঢ়ৎড়নধংযর’ লিখে খোঁজ করলে অ্যাপটি পাওয়া যাবে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে অ্যাপলের আইফোনের জন্যও অ্যাপটি ছাড়া হবে।

প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সঠিক তথ্য দিতে চালু হলো ‘প্রবাসী’ অ্যাপ
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী অ্যাপের যাত্রা কবে শুরু হয়?

গত বছরের শেষের দিক থেকে প্রবাসী অ্যাপটি নিয়ে কাজ শুরু হলেও মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ৩১ মার্চ, ২০২১ এর মঙ্গলবার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এটি মূলত একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি অ্যাপ, যেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসৗ কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এক্ষেত্রে তারা অনেকগুলো বিষয় নতুন নতুন সংযোজনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অ্যাপটি প্রতিনিয়ত আপগ্রেডের কাজ চলছে। বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তন হচ্ছে। মূলত প্রবাসীদের কানেক্ট করার কাজটি শুরু করা হয় গত বছরের শেষের দিক থেকে। প্রথম দিকে ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করা হচ্ছিলো। তখন প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অ্যাপের কর্তৃপক্ষের কাছ সহযোগিতা চান। সেই থেকে এই অ্যাপটা চালু করার চিন্তাটা মাথায় আসে বলে জানালেন মূল উদ্যোক্তা ও প্রধান নির্বাহী কানিজ ফাতিমা।
তিনি বলেন, করোনা মহামারীর সময় ট্যুরিজমের ভাবনার বাইরে এসে আমরা প্রবাসীদের তথ্য-যোগাযোগের বিষয়ে কাজ করার জন্য পুরোপুরি বিজনেস মোরালে কাজ শুরু করেছি। দেশের জন্য অনেকেই কিছু করতে চান। কথা বলতে চান। বাংলাদেশিদের জন্য কোনো সুযোগ থাকলে সেটা জানাতে চান। কিন্তু কোথায় বলবেন, সেই জায়গাটা নেই। সবাই তো সবার পার্সোনাল প্রোফাইলে কানেক্টেড না। সে কারণেই একটা প্লাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করেছি আমরা।

অ্যাপ থেকে কী কী জানা যাবে?
প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সঠিক তথ্য দিতে চালু হয়েছে এই অ্যাপ। স্মার্টফোনে এই অ্যাপ নামিয়ে প্রবাসী এবং প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সব ধরনের তথ্য পেতে পারেন। এর মধ্যে বিভিন্ন তথ্য ছাড়াও আরও যেসব বিষয় জানা ও করা সম্ভব, সেগুলো হলো-
১. প্রবাসীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। যাতে অন্যরা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে কিছুটা ধারণা পায়।
২. কেউ যদি মনে করে তার আশেপাশে চাকরি বা অন্যান্য সুবিধা আছে, তাহলে সেই ব্যক্তি এ প্লাটফর্মে সেসব তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন। এখানে একই সঙ্গে সেসব বিষয়ে ব্লগ লেখার সুবিধা থাকবে। বিভিন্ন সময় দেশগুলোতে প্রবাসীদের জন্য নানা রকম নিয়ম কানুন শেয়ার হয়, সেগুলো এই অ্যাপসে শেয়ার করা যাবে। অন্যদেরকে জানানো যাবে।
৩. কেউ চাইলে ফ্রি অফ কস্টে কনসালটেন্সি শেয়ার করতে পারেন। প্রফেশনালভাবে কেউ আয়ের উদ্দেশে কনসালটেন্সি করতে চাইলেও সুযোগ থাকবে।
৪. অসহায় প্রবাসীদের কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এই অ্যাপ।
৫. প্রাইমারি মেডিকেল সার্ভিসের সহযোগিতা পাওয়া যাবে এর মাধ্যমে।

প্রবাসীরা এর ব্যবহার কেমন করছেন?

এই বিষয়ে উদ্যোক্তা কানিজ ফাতিমা বলেন, আমরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপগুলোতে এটি প্রচার করছি। এরই মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড একটা অ্যাপ লঞ্চ করেছি। এই মুহুর্তে বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। আরো একমাস সময় লাগবে সবকিছু নিশ্চিত হতে। এ পর্যন্ত কত মানুষ ইউজ করেছে এবং কতজন ডাউনলোড করেছে বলাটা অনেকটা দ্রুত হয়ে যাবে। মূলত আমরা আটটা দেশের সাথে কাজ করা শুরু করছি।
এর মধ্যে দুবাই হচ্ছে সবার আগে। কারণ দুবাই থেকে রেসপন্স সবচেয়ে বেশি ছিলো।এছাড়াও সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার। ওদিকে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং সুইডেন। আর অন্যান্য দেশের জন্যও কথা চলছে। চীনের সঙ্গেও হয়ে যাবে। প্রথম বছর আমাদের ইচ্ছা আছে পাঁচ লাখ মানুষকে যুক্ত করার। ৫ লাখ মানুষকে করার জন্য ২৫টা দেশকে সিলেক্ট করা হয়েছে। প্রথম বছরে বলতে জুন থেকে ডিসেম্বর, সময়টাকে এভাবে হিসেব করেছি। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি আমরা।
তিনি বলেন, বিশ্বের যে কোন প্রান্তে থাকা স্থায়ী বা অস্থায়ী প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক, ছাত্র , চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, প্রবাস জীবনের যেকোনো জিজ্ঞাসা অথবা সরাসরি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রবাসীদের কাছ থেকে সেবা নেয়ার এক অনন্য মাধ্যম “প্রবাসী” অ্যাপ।
প্রবাসী অ্যাপ সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কী বলছেন ?
মূলত অ্যাপটির উদ্বোধনীতে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অ্যাপটি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর জন্য সহজে, স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তিকে হাতিয়ার বানাতে হবে। কারণ, প্রযুক্তি শুধু স্বচ্ছতাই নিশ্চিত করে না, সময় ও অর্থেরও সাশ্রয় ঘটায়। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী অ্যাপ প্রবাসীদের জন্য নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে।

Leave a Reply