প্রবাসী কর্মীরা টিকা পা‌চ্ছেন ক‌বে?
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধনসহ প্রবাসীদের করোনা টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

প্রবাসী কর্মীরা টিকা পা‌চ্ছেন ক‌বে?

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক:

বিশ্বের বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রবাসীরা অবস্থান করছেন। যাদের অনেকে করোনা মহামারীতে দেশে ফিরেছেন বা ফিরতে হয়েছে। কিন্তু পুনরায় সে সব দেশে ফিরতে হলে লাগবে করোনা ভ্যাকসিন। কিন্তু কবে শুরু হবে প্রবাসীদের ভ্যাকসিন কর্মসূচি?

এই বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ দিলেন সুখবর। তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রবাসী কর্মীদের ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য নিবন্ধন শুরু হবে। বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ভবনের বিজয় ৭১ মিলনায়তনে সৌদি আরবগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচের ভর্তুকির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের করোনার ভ্যাকসিনের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে বলায় সিভিল সার্জনদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, লকডাউনের মধ্যে হাজার হাজার বিদেশগামী শ্রমিকদের কষ্ট করে ঢাকায় আসার প্রশ্নের জবাব সিভিল সার্জনদের দেয়া উচিত। এর দায় তাদের নিতে হবে।

ইমরান আহমদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের নীচে শত শত মানুষ ভ্যাকসিনের জন্য ভিড় করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে এলাম। তারা অনেকেই লকডাউনের মধ্যে নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কষ্ট করে এসেছেন। তাদের তো এখানে আসার কথা ছিলো না।

মন্ত্রী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন সার্কুলার দিয়েছেন যে ভ্যাকসিনের জন্য মন্ত্রণালয় যেতে। অথচ মন্ত্রণালয় এই ধরনের কোনও সার্কুলার দেয়নি। উনি সেটা কীভাবে দেন? আর এটার ভিত্তিতে সবদিকে ছড়িয়ে গেছে টিকার জন্য মন্ত্রণালয় আসতে হবে। এটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার। আমি জানি না ওইখানে সিভিল সার্জন সাহেব কীভাবে থাকেন। গতকাল ইস্যু করা সেই সার্কুলার প্রত্যাহার করে নেয়া উচিত ছিল।

তিনি বলেন, সিভিল সার্জনদের কারণে হাজার হাজার মানুষ লকডাউনের মধ্যেও এসে হাজির হয়েছেন। এই কষ্টের জবাব কে দেবে? সিভিল সার্জন সাহেবকেই দেয়া উচিত। শুনলাম আরও দুই একজন সিভিল সার্জনও নাকি একই সার্কুলার দিয়েছে। ভ্যাকসিনের বিষয়টা হাতে নেই। ভ্যাকসিন যা আসবে প্রথমেই তারা পাবে, যারা প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে পারেননি।

এর আগে সকালে টিকার দাবিতে প্রবাসী কল‌্যাণ মন্ত্রণাল‌য়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শত শত প্রবাসী শ্রমিক। তাদের দাবি, সরকার টিকার রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করলেও মন্ত্রণালয়ে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ, সরকার ঘোষণা দিলেও রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে কিছুই জানেন না মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এরপর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধনসহ প্রবাসীদের করোনা টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

ভ্যাকসিন নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদিতে সমস্যা আছে, ওনারা চীনের ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে রাজি না। আমরা কিন্তু এর মধ্যেই কূটনৈতিক চ্যানেলে আলাপ করছি। সৌদি সরকারকে বলেছি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন যেটা আগে করেনি এখন অন্যান্যরা করেছে। যখন দিয়েছে তাহলে উনারা এটা গ্রহণ করতে পারে। দেখা যাক এই কূটনৈতিক অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মূল যে সমস্যা দুই মাসের সেটা কিন্তু থেকে যায়। এটার সমাধান হচ্ছে এক টিকা। সেই ব্যাপারে সরকারকে বলেছি, জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে। প্রয়োজনীয় খরচ যদি মন্ত্রণালয় থেকে দিতে হয় সেটাও দিতে রাজি আছি।

উল্লেখ্য, ভ্যাকসিনের জন্য এনআইডি কার্ড না থাকলেও পাসপোর্ট নং বা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে পাওয়া স্মার্ট কার্ড দিয়ে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে।

Leave a Reply