ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের সব সেবা এক অ্যাপসে
ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের সব সেবা এক অ্যাপসে

ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের সব সেবা এক অ্যাপসে

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :
ভিনদেশে প্রথমে গিয়ে পড়তে হয়ে ভাষা সমস্যায়। তার ওপর যেসব দেশে ইংরেজির চল কম সেখানে বিপাকে পড়তে হয় বেশি। সব সমস্যা সমাধানে নতুন এক অ্যাপস নিয়ে এসেছে ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠান।

ফ্রান্সের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত ‘ভার’ প্রেফেকচুর আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তায় নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালুর ঘোষণা দিয়েছে। অ্যাপসটি আপাতত ছয়টি ভাষায় পাওয়া যাবে। আশ্রয়প্রার্থীদের প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য, আবাসন এবং দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘ভার’ প্রেফেকচুর।

ফ্রান্সের প্রশাসনিক কাজগুলো বেশ জটিল এবং ভাষাগত সমস্যাসহ নানা কারণে আশ্রয়প্রার্থীরা এ প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়েন। এসব সমস্যার সমাধানে ফ্রান্সের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত ভার ডিপার্টমেন্ট ফিনদাওয়ে নামক একটি মোবাইল অ্যাপস চালু করেছে। ১৯ মে এ ঘোষণাটি দেয় ভার প্রেফেকচুর কর্তৃপক্ষ।

অ্যাপসটি আপাতত ছয়টি ভাষায় এবং আইওস ও অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে। অ্যাপসটির সাহায্য সব প্রশাসনিক কাজে সহায়তা এবং তাৎক্ষণিক পরামর্শ পাওয়া যাবে। যেমন, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন এনজিও যেসব জায়গায় খাবার বিতরণ করে সেগুলোর ঠিকানা, শিশুদের জন্য নির্ধারিত ডে কেয়ার সেন্টারগুলির অবস্থান, ডাক্তার এবং হাসপাতালের ঠিকানা বা এমনকি একজন আশ্রয়প্রার্থী যেখানে আছেন তার আশেপাশে কোন লন্ড্রি সার্ভিস আছে কিনা সেটিও জানা যাবে।

অ্যাপসটির আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হচ্ছে, এটির সাহায্যে অভিবাসন বিষয়ক বিভিন্ন পেশাদার যেমন এনজিও, আইনজীবী, অনুবাদকেন্দ্র, সংস্থা এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে একজন আশ্রয়প্রার্থীর আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে এ বছর আশ্রয় আবেদনের হার অনেক কমে এসেছে। ২০২০ সালে শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য কাজ করা ফরাসি দপ্তর (অফপ্রা)-এ প্রায় ৯৫,০০০ আশ্রয় আবেদন (৮৬,০০০ প্রথম অনুরোধসহ) জমা পড়েছে, যেটি ২০১৯ সালের তুলানায় ২৮ ভাগ কম।

ইতালি সীমান্তের কাছে অবস্থিত ‘ভার’ ডিপার্টমেন্টে ২০২১ সালের ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ১,০৮৮ টি বিশেষ আবাসনের বরাদ্দ রয়েছে। প্রেফেকচুর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে তারা আশ্রয়প্রার্থীদের অভ্যর্থনা সক্ষমতা বা আবাসনের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি করেছে।
সূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস

Leave a Reply