ফ্লাইট বন্ধে দু‌শ্চিন্তায় প্রবাসীরা,  বিকল্প উপায় কী
ফ্লাইট চালু রাখতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী শ্রমিকদের মানবিক আবেদন, বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

ফ্লাইট বন্ধে দু‌শ্চিন্তায় প্রবাসীরা, বিকল্প উপায় কী

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক:

মহামারি করোনার প্রকোপ ভয়ংকরভাবে বেড়ে গেছে দেশে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ‌্যা। গত একদিনে সর্বোচ্চ ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মহামারি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। দেশের দূরপাল্লার বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে আগেই। এরই মধ্যে ১৪ প্রিল থেকে শুরু হচ্ছে কঠোর লকডাউন। আর লকডাউনের আওতায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল। আগামী এক সপ্তাহ কোনো আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল করবে না বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন প্রবাসী অনেক শ্রমিক। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম ও বিভিন্ন উপায়ে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে যারা বিদেশের ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন, তাদের জীবন নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। অনেক দেশের প্রবাসী শ্রমিক ৫ থেকে ৬ মাস চেষ্টার মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। শিগগিরই হয়তো বিমান ধরতেন তারা। লকডাউনে বিমান চলাচল বন্ধ করায় তাদের সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রাখার বা অন্তত দেশ থেকে উড্ডয়নের সুযোগ চালু রাখার মানবিক আবেদন জানিয়ে পত্র লিখেছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা। আমরা সবাই সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি-নামের একটি‌ ফেসবুক গ্রুপে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

আবেদনে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ, আগামী ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে উড্ডয়নের ফ্লাইটগুলো বন্ধ করবেন না। তাহলে কপাল পুড়বে শত শত প্রবাসীর। প্রয়োজনে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ বন্ধ করতে পারেন। বিশেষ করে যারা সিঙ্গাপুরের যাত্রী তাদের অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এন্টি এপ্রুভাল পেতে হয়েছে। ১৪-২০ এপ্রিলের মধ্যে যাদের ফ্লাইট আছে তারা যদি সে সময়ে যেতে না পারে, তাহলে হয়তো বা আর যাবার সুযোগ হবে না অন্তত ৬ মাস। তাই এদের মধ্য থেকে অনেকে আত্মহত্যা করবে, আবার কেউ না খেয়ে মরবে। তাই দয়া করে সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইট গুলো চালু রাখবেন, হাজারো প্রবাসীকে বাঁচান। তাদের পরিবারকে বাঁচান। আমরা সংখ্যায় অনেক কম, শান্তি প্রিয় রেমিট্যান্স যোদ্ধা, হয়তো আমরা আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে পারবো না, কিন্তু আপনি মমতাময়ী মা হিসেবে আমাদের বাঁচান, আমরা কখনো লকডাউনে আপনার কাছে খাবার চাইনি, সব সময় সব আইন কানুন মেনে চলেছি। আজ আমাদের এই আবদারটুকু রক্ষা করে হাজারো মানুষের জীবনকে বাঁচান’।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা এই মানবিক আবেদনপত্রটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাঁরা বিনীতভাবে আবেদন জাানাচ্ছেন যেন, অন্তত সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইট বন্ধ করা না হয়। এই বিষয়ে ‘সিঙ্গাপুরে আমরা প্রবাসী বাংলাদেশী’ গ্রুপের পরিচালক ওমর ফারুকী শিপন ব‌লেন, সত্যি বলতে এরা দীর্ঘ ৫ থে‌কে ৬ মাস চেষ্টা করে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অনেকে বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে বিমানে ওঠার ব্যবস্থা করেছেন। যদি তারা এসময় না যেতে পারেন, তাহলে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যাবেন। সে কারণে আমাকে অনেকে ফোন করে বলেছেন যেন, আমি এ ধরনের আবেদনপত্রটি প্রচার করি ও সংবাদ প্রকাশের ব্যবস্থা করি। আমার মনে হয়, অন্তত বিদেশগামী ফ্লাইট চালু রাখা যেতে পারে।’
এই বিষয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাকের কর্মকর্তা শরিফুল হাসানও মনে করেন, বিদেশগামী ফ্লাইট বন্ধ করা উচিত হবে না। ইমিগ্রেশন নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। আমি ফেসবুকেও লিখেছি। তারপরও আপনাকে বলছি। যেখানে আমাদের প্রচুর লোক যাচ্ছে। এ সময় ফ্লাইট বন্ধ করলে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাঁরা।’

শরিফুল হাসান আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রুটে তাই বিমান চলাচল বন্ধ না করার অনুরোধ করছি আমি। অন্তত বাংলাদেশ নিজে থেকে যেন এই সিদ্ধান্ত না নেয়। গত তিন মাসে প্রায় দেড় লাখ কর্মী বিদেশে গেছেন। এখনো রোজ যাচ্ছেন। বিদেশে গেলে করোনা ছড়ায় না। আর নেগেটিভ সনদ নিয়েই এরা যাচ্ছেন। প্রয়োজনে বিশেষ বিমান দেন। কারণ একবার যাওয়া পিছিয়ে গেলে পরে নানা সংকট তৈরি হয়। টিকেটের দামও বাড়ে। মনে রাখবেন কোভিডের মধ্যেও রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। কাজেই বৈদেশিক এই কর্মসংস্থানটা যেন কোনোভাবেই বন্ধ না হয়।’

বিদেশ থেকে আসা ফ্লাইটও বন্ধ না করার পক্ষে শরিফুল হাসান। তার মতে, বিশ্বের প্রায় সব দেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু আছে। তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখছেন যাত্রীদের। আমরাও সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে ফ্লাইট বন্ধ করার প্রযোজন পড়ে না।

Leave a Reply