বাংলাদেশও চালু করছে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট?
ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশও চালু করছে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট?

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

করোনা মহামারির ফলে বিদেশ ভ্রমণে যুক্ত হচ্ছে নতুন শর্ত। এর মধ্যে অন্যতম হলো, করোনা নেগেটিভ এবং ভ্যাকসিন প্রয়োগের সনদ। ইউরোপ সহ বিশ্বের বহু দেশ করোনা নেগেটিভ সনদের সঙ্গে যুক্ত করছে ভ্যাকসিন সনদ বা পাসপোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও ভ্যাকসিন পাসপোর্টের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে।
৮ এপ্রিল সাংবাদিকদের এমনই তথ্য জানালেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন পাসপোর্ট দেওয়ার প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর ‘ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট’ অটোমেটিক জেনারেটেড হবে।
এসময় পলক বলেন, শুরুতে ভ্যাকসিন নিতে নিবন্ধনে সমস্যা দেখা দিলেও তা পওে কেটে যায়। হয়ত তথ্য দেওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। প্রথম ডোজ নিতে প্রায় ৬৯ লাখ নিবন্ধন হয়েছে। আর প্রায় ৫২ লাখ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এভাবে ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট প্রদান সহজতর হয়ে যাবে-এমনটাই মনে করছে সরকার।

ভ্যাকসিন পাসপোর্ট কী
করোনাভাইরাস এর জন্য তৈরিকৃত ভ্যাকিসন প্রদান করার পর একটি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এই সার্টিফিকেটকে বলা হচ্ছে, ডিজিটাল গ্রিন পাস বা ভ্যাকসিন পাসপোর্ট। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার ভ্যাকসিন প্রয়োগ হচ্ছে যেমন-ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা প্রভূতির তৈরি ভ্যাকসিন। বাংলাদেশে প্রয়োগ হচ্ছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিন।
ভ্যাকসিন পাসপোর্ট প্রসঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন টুইট করে বলেছেন, ডিজিটাল গ্রিন পাস ইউরোপীয়দের জীবনকে সহজ করবে। গ্রিন পাস থাকলে ইউরোপের ভিতর ও বাইরে বেড়াতে যাওয়া সহজ হবে। ভ্যাকসি পাসপোর্ট প্রদানে ইউরোপীয় কমিশনকে বেশি চাপ দিয়েছে গ্রিস, সাইপ্রাসের মতো দেশগুলো, যাদের অর্থনীতি মূলত অনেকটাই পর্যটকদের উপর নির্ভরশীল। এই সার্টিফিকেট দেয়া হলে পর্যটন ব্যবসা চাঙা হয়ে উঠবে।

যুক্তরাজ্যে কনসার্ট বা খেলার ম্যাচে ‘কোভিড স্ট্যাটাস সার্টিফিকেশন’ নামে এক বিশেষ নিয়ম চালু করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ভ্যাকসিন সার্টিফিকেটের জন্য কাজ করছে। ইসরায়েলে ইতোমধ্যেই ‘সবুজ পাস’ চালু করা হয়েছে। কেউ দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়ে থাকলে অথবা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে থাকলে তাদেরকে হোটেল, জিম বা থিয়েটারে প্রবেশের সময় এই পাস দেখাতে হবে। এই পাস যাদের নেই তারা এসব জায়গায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
ভ্যাকসিন পাসপোর্টে কী থাকবে :
এর আওয়তায় থাকবে কোনো ব্যক্তি ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিনা, সম্প্রতি পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ ফলাফল এসেছে কিনা অথবা ইতোম্যধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন কিনা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকবে।

ভ্যাকসিন পাসপোর্টের সমালোচনা
ভ্যাকসিন পাসপোর্ট নিয়ে সমালোচনা আছে। অক্সফোর্ডের সেন্টার ফর ডেমোগ্রাফিক সায়েন্সের ডিরেক্টর মেলিন্দা মিলস মনে করেন, ‘এই ডিজিটাল গ্রিন পাস বা ভ্যাকসিন পাসপোর্ট তখনই দেয়া যাবে, যখন অনেককে ভ্যাকসিন দেয়া হয়ে গিয়েছে এবং অনেকের ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। ইউরোপের পরিকল্পনা ছিল, গরমের আগে ৭০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার। এখনো সে টার্গেট পূরণ করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করবে না
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করেনি না করবে না। দেশটি বলছে, এমন কোনো নিয়ম তারা চালু করেনি বা করবে না যার ফলে আমেরিকানদের একটি সার্টিফিকেট বহন করতে হবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেন, কোনো ‘কেন্দ্রীয় ভ্যাকসিনেশন ডাটাবেজ’ অথবা
‘কেন্দ্রীয়ভাবে প্রত্যেকের জন্য কোনো ভ্যাকসিন নথি বহনের বাধ্যবাধ্যকতা’ থাকবে না’। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সাধারণ, আর তা হলো আমেরিকানদের গোপনীয়তা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে, এজন্য অন্যাভাবে জনগণের ওপর এ ধরণের নিয়ম ব্যবহার করা হবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য স্ংস্থা কী বলছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভ্যাকসিন নিলে সংক্রমণ কমে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যে তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা এ মুহূর্তে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি সমর্থন করছে না।

Leave a Reply