বিদেশে যাত্রায় যা করবেন, করবেন না

বিদেশে যাত্রায় যা করবেন, করবেন না

অনেকেরই বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। আবার অনেকে হরহামেশাই যাওয়া- আসা করেন। ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা ঘোরাঘুরি যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজেই সাধারণত বিদেশে যাতায়াত করতে হয়। তাই বিদেশ যাত্রায় করণীয় নিয়ে অনেকেই জানতে ইচ্ছুক। অবশ্য গুগল করলেই জেনে নেওয়া যায়, বিদেশ যাওয়ার সময় কী কী করণীয় রয়েছে। কিন্তু এ লেখা একেবারেই ভিন্ন। যাত্রা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব তথ্যই এ লেখায় পাওয়া যাবে।
 করোনার এ ঘোরলাগা সময়ে ভ্রমণ অন্যরকম মাত্রা যোগ করেছে। এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে। তাই কোনো দেশ ভ্রমণে প্রথমেই একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। কোন কোন জায়গায় যাবেন, কোথায় উঠবেন, যাতায়াত মাধ্যম কী হবে এসবের বিস্তারিত তালিকায় লিখে ফেলুন। যে জায়গায় গন্তব্য, সে জায়গা সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া-ই উত্তম। অবশ্যই ওই জায়গার করোনার পরিস্থিতি নিয়ে জেনে নিতে হবে। ভিসা সংগ্রহ এবং বিমানের টিকিট কাটার পর ওই জায়গার তাপমাত্রা দেখে নিন। এরপর ইমিগ্রেশন পর্ব।


ইমিগ্রেশন
কাউন্টারে প্রার্থীর পাসপোর্ট, ভিসা, জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। ধৈর্য করে এসব পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। সব কাগজ ঠিক থাকলে পাসপোর্টে সিলমোহর করে প্রার্থীকে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে বিমানের আহরণের পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তাই ইমিগ্রেশনের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়ান এবং আপনার পাসপোর্ট, ভিসা, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ফরম সহ তৈরি থাকুন। কর্মকর্তা সবকিছু দেখে ওই দেশে যাওয়ার তারিখসহ সিল দিয়ে দেবেন।

বিমান পর্ব
বিমানে চড়া অনেকের শখ। তাই বিমানের প্রত্যেকটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই বাড়তি সতর্কতা। যে ব্যাগটি বিমানে নিজের সঙ্গে রাখবেন সেখানে টাকা-পয়সা, গয়না, ভ্রমণ ও চাকরি সংক্রান্ত কাগজপত্র রাখুন। আর যে ব্যাগটি বিমানের লকারে দেবেন, সেটির ওজন পরীক্ষা করে নিন। ওজন ২০ কেজির মধ্যে রাখবেন। ব্যাগটি দড়ি বা প্যাকিং টেপ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে নিতে হবে, যাতে যাত্রার সময় ব্যাগ ছিঁড়ে না যায়। ভ্রমণের জন্য হালকা কিন্তু শক্ত উপাদান দিয়ে তৈরি এবং ভালো তালার ব্যবস্থাসহ ব্যাগ কিনবেন। অবশ্যই প্রতিটি ব্যাগে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে রাখতে হবে।

ব্যাগে যা রাখবেন না
ব্যাগে কখনো ধারালো বস্তু রাখা যাবে না। অর্থাৎ নিষিদ্ধ কোনো জিনিস নিয়ে যাত্রা করা যাবে না। বেড, কাঁচি, ছুরি ইত্যাদি সিকিউরিটি চেকের সময় ধরা পড়ে এবং ফেলে দেওয়া হয়। তাই নিষিদ্ধ কোনো জিনিস যেমন; আশোয়াস ও বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থ, নিষিদ্ধ মাদক, ড্রাগ, আগুন ধরে এমন তরল পদার্থ (লাইটার), দুর্গন্ধ বের হয় এমন পদার্থ, মাংস, দুধ, ডিম ও অন্যান্য পোল্ট্রিজাতীয় খাবার , ফুল, ফল, সবজি, পান, গুল, সাদাপাতা ইত্যাদি ব্যাগে নেওয়া যাবে না।

বিমানে যা করবেন
বিমানে আরোহণের পূর্বে ইংরেজি ও বাংলায় মাইক্রোফোনে ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ডিসপ্লে বোর্ড এবং মনিটরে দেখানো হবে। প্রয়োজনে বিমান ছাড়ার সময় ও পৌঁছানোর সময় নোট করে রাখুন। ঘোষণার পরই বোর্ডিং-কার্ড হাতে নিয়ে বিমানের দিকে অগ্রসর হতে হয়। বিমানের ওঠার পর নিজের আসনটি ভালো মতো দেখে নিন। অবশ্যই মাস্ক পরিধান করবেন। সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে সুরক্ষা চশমাও পড়তে পারেন। এতে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। মোবাইল ফোন নীরব রাখুন। অথবা অ্যারোপ্লেন মুডে রাখুন।

বিদেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে করণীয়
সব ঝক্কি পার করে বিদেশ পৌঁছানোর পর বেশ কিছু কাজ থাকে। মূলত বিমানবন্দরে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হয়। বিদেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে করতে হবে যেসব কাজ;

১) ব্যাগ সংগ্রহ
ব্যাগ সংগ্রহের জন্য কনভেয়ার বেল্টের সামনে দাঁড়াতে হবে। কনভেয়ার বেল্টের ওপর আপনার ফ্লাইট নম্বর দেওয়া থাকবে, সেটা খেয়াল করতে হবে।

২) কাস্টমস
আপনার কাস্টমস ডিক্লারেশন ফরম সঙ্গে রাখুন এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে সহায়তা করুন। ফরম দেখতে চাইলে তা দেখান।

৩) হারানো ব্যাগ খোঁজা
বেল্টে ব্যাগ পাওয়া না গেলে বা ব্যাগ হারিয়ে গেলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্লেইম ফরম পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনে তথ্যকেন্দ্রের সহায়তা নিতে হবে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ হারানো ব্যাগ খুঁজে আপনার ঠিকানায় পৌঁছে দেবে। এরপরও পাওয়া না গেলে টিকিটে উল্লিখিত নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেবে।

Leave a Reply