বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নে‌বেন কীভাবে?

বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নে‌বেন কীভাবে?

কর্মব্যস্ত জীবনে একটুখানি অবসর কে না চায়! অনেক হলো কাজ। এবার একটু ঘুরে আসা যাক। ইচ্ছে করে বেরিয়ে পড়তে দূর অজানায়। কেউ যায় দেশে। কারো বা মন
চায় দেশান্তরে। কিন্তু অনেকে সঠিক গাইডলাইনের অভাবে বিদেশ ভ্রমণের সাহস করে উঠতে পারেন না। অনেকে বুঝে উঠতে পারেন না যে, কোন দেশে যাওয়া যাবে, ভ্রমণের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে, কী কী লাগবে, কেমন খরচ, পড়বে ইত্যাদি। বিদেশ ভ্রমণের সময় মৌলিক কিছু প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে নিই চলুন-

পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ:

পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ যেকোনো কাজ শুরুর পূর্বশর্ত। আপনি অবসর কাটাবেন। ভ্রমণ করবেন। তার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। স্থির করতে হবে যে, আপনি বিদেশে ভ্রমণে যাবেন। এরপর বাকি কাজ শুরু করতে হবে।

তথ্য-সংগ্রহ:

কোন দেশে যাবেন/কোথায় যাবেন তা ঠিক করতে হবে।  এই বিষয়ে ভ্রমণে অভিজ্ঞ কারো সঙ্গে নিজের চিন্তা শেয়ার করতে পারেন। জানতে চাইতে পারেন যে, আপনি কোন দেশে, কীভাবে যেতে পারেন। অনভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নেওয়া বোকামি হবে।
বিশ্ব এখন অনেক বেশি উন্মুক্ত। ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রায় সব দেশের তথ্য মেলে। একটু সচেতন হলেই নিজের চেষ্টায় সবকিছু বের করে জেনে নেওয়া যায়। যে দেশে যাবেন সে দেশের মুদ্রা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, থাকা-খাওয়ার পরিবেশ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পার্শ্ববর্তী জায়গায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি জেনে নিতে হবে। নিরাপত্তার দিকটাও খোঁজ নিতে হবে। যুদ্ধবিদ্ধস্ত কোনো দেশে অবশ্যই আপনি পরিবার নিয়ে যেতে চাইবেন না। অথবা দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চলে। তবে যদি আপনি মানবিক কাজ আর ভ্রমণ একত্রে করতে চান, সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:

বিদেশে ভ্রমণে যাচ্ছেন এটা নিশ্চিত। এবার সংগ্রহ করুন জরুরি ডকুমেন্টস। এর মধ্যে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র, জব আইডি, পাসপোর্ট নিশ্চিত করে নিন। পাসপোর্টের কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে। এর কম হলে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে।

ভিসা সংগ্রহ:

এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবেশের অনুমতিপত্র বা টিকিট হলো ভিসা। আপনার সকল কাগজপত্র ম্যানেজ করার পর ভিসা আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা
সেন্টারে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করে নিতে পারেন।

ব্যাগ প্যাকিং:

ভিসা হাতে পাওয়ার পর আপনাকে ব্যাগ প্যাকিং করতে হবে। সঙ্গে কি কি নিবেন তা নির্ভর করবে আপনি কোথায় বেড়াতে যাচ্ছেন, কতদিন থাকবেন তার ওপর। যেমন
পাহাড়ী কোনো দেশে বেড়াতে গেলে অবশ্যই ব্যাগের ওজন যত কম রাখা সম্ভব তার
দিকে মন দিতে হবে। তবে যেখানেই যান না কেন, ব্যাগ ভর্তি জিনিস না নিয়ে দেখেশুনে দরকারি জিনিস নিতে হবে। আপনার একান্ত কি কি জামাকাপড় লাগতে পারে তা নিতে হবে।আর হ্যাঁ সাথে করে টুথপেস্ট, ব্রাশ, আন্ডারওয়ার, জরুরি গামছা বা তোয়ালে, ক্যাপ, জুতা, বেল্ট, চাঁদর, জ্যাকেটের সাথে জরুরি ওষুধপত্র নিতে ভুল করবেন না।

ভ্রমণে যাওয়ার আগে একজন ট্যুরিস্টের উচিত হলো, কি কি প্রয়োজন হতে পারে তার একটা লিস্ট তৈরি করা। লিস্ট ধরে ঠিক চিহ্ন দিয়ে একটা একটা জিনিস ব্যাগে নিতে হবে।এতে করে দরকারি কোনো কিছু ভুলে ফেলে যাবেন না।

সর্বপরি প্রয়োজনীয় মুদ্রা সংগ্রহে নেওয়া। সাধারণত বিদেশে টাকা চলবে না। মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক মুদ্রা। টাকাকে ডলার করে নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড থাকে তবে সেটি ভিন্ন কথা। আর হ্যাঁ,ভ্রমণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো ভালো, চার্জ দীর্ঘ সময় থাকে
এমন ও ভালো ক্যামেরা আর মেমোরির মোবাইল ফোন, যেটি আপনাকে দীর্ঘ সময়
সার্ভিস দেবে। যদি ভালো ক্যামেরা থাকে তো কথাই নেই। সেলফি স্ট্যান্ডও নিতে পারেন সাথে করে। আর সাথে একটি নোটবুক বা ল্যাপটপ থাকা তো স্বাভাবিক ব্যাপার!

Leave a Reply