বিমানবন্দরে লাগেজ হারালে ক্ষতিপূরণ পাবেন কীভাবে
বিমানবন্দরে লাগেজ হারালে ক্ষতিপূরণ পাবেন কীভাবে

বিমানবন্দরে লাগেজ হারালে ক্ষতিপূরণ পাবেন কীভাবে

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :
নামী ফ্লাইটে কাতার থেকে ফিরেছেন আসিফ আহমেদ। দীর্ঘ আটটি বছর পর দেশে আসছেন তিনি। ঠিকঠাক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছেন আসিফ। এরপর লাগেজ সংগ্রহ এরিয়া থেকে কাতার থেকে বুকিং করা লাগেজ খুঁজতে গিয়ে দেখেন, সেটি নেই। লাগেজ না পেয়ে আসিফ প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিকেলের অন্য একটি ফ্লাইটে লাগেজ আসবে এবং সন্ধ্যার পর বিমানবন্দরের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগে থেকে লাগেজ নিয়ে যেতে পারবেন বলে জানানো হয়। কথা মতো আসিফ সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে গেলে তাঁকে জানানো হয়, ‘লাগেজ স্টোর বন্ধ হয়ে গেছে, পর দিন সকাল ৯টার পরে লাগেজ পাওয়া যাবে। কিন্তু পরদিন গিয়েও দেখেন, আসিফের লাগেজটি নেই। তার মানে, তিনি মূল্যবান ব্যাগ হারিয়ে ফেলেছেন।

আসিফ একটি ছদ্মনাম মাত্র! প্রতিদিনই বিমানবন্দরে এমন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়ে যাচ্ছে বা যায়। দীর্ঘ বিমান যাত্রায় দেশে নেমে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসের লাগেজ যখন হারিয়ে যায়, এর চেয়ে কষ্টের ও দুঃখের ব্যাপার আর হয় না। অনেক প্রবাসী আগে থেকে টাকা-পয়সা বাড়িতে পৌঁছে দেন। তারপর গুরুত্বপূর্ণ লাগেজ নিয়ে বিমানে করে আসেন। অনেক সময় পকেটে অর্থ থাকে না। আর ব্যাগে থাকে সব জিনিসপত্র। আর বিমান থেকে নেমে নিজের লাগেজ না পাওয়ার দুঃসহ বেদনার ঘটনায় যেন যাত্রীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে! তাদের অসহায়ত্বের সীমা থাকে না তখন।

প্রশ্ন হলো, এভাবে লাগেজ হারিয়ে গেলে বা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে কী পাওয়া যায়? এভাবে ফ্লাইটে লাগেজ হারালে ক্ষতিপূরণের একটি নিয়ম আছে কর্তৃপক্ষের।
প্রথম দিকে লাগাজে হারালে কেজি প্রতি প্রদান করা হতো ২০ ডলার বা ১ হাজার ৭০০ টাকার মতো। তবে এখন নতুন নিয়মে তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফ্লাইটে লাগেজ হারালে এখন থেকে প্রতি কেজির জন্য ১ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা করে জরিমানা পাবেন একজন যাত্রী! এছাড়াও বিমান দুর্ঘটনায় কোন যাত্রীর মৃত্যু বা ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের পরিমান বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা! যা আগে ছিলো ২০ লাখ টাকা।

সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়েছে এমন নতুন আইন। নতুন আইন অনুসারে, ব্যাগেজ হারানো বা বিনষ্টের ক্ষতিপূরণ প্রতি কেজি ২০ মার্কিন ডলার (১ হাজার ৭০০ টাকা) থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৮১ ডলার হবে (১ লাখ ১৭ হাজার ২৪১ টাকা)। আর কার্গো বিনষ্ট বা হারানোর জন্য কেজি প্রতি ২০ ডলার থেকে নতুন আইনে ক্ষতিপূরণের অংশ বেড়ে ২৪ ডলার হয়েছে। এছাড়াও ফ্লাইট বিলম্বিত হলে জরিমানা হবে ৫ হাজার ৭৩৪ মার্কিন ডলার (৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা), যা আগে ২০ডলার (প্রায় ১ হাজার ৭০০ টাকা) ছিলো।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিমান দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৪ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। এই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, যাত্রীরমৃত্যুর ক্ষেত্রে, যাত্রীর সম্পত্তির বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে এই আইনের বিধান মোতাবেক ক্ষতিপূরণের অর্থ ভাগ করে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজের পক্ষ বা বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অথবা আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে।

Leave a Reply