বিশ্বের সাথে তুলনা ক্রমে কোভিড-১৯ পর্তুগালের ভ্যাকসিন কার্যক্রম

বিশ্বের সাথে তুলনা ক্রমে কোভিড-১৯ পর্তুগালের ভ্যাকসিন কার্যক্রম

ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল,
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে দুই মাস যাবত কভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হলেও অগ্রগতি হয়নি ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে কার্যক্রমটি এক মাসের হলেও তাও আলোর মুখ দেখেনি বলতে গেলে খুবই ধীর গতি এবং পর্তুগাল এর ব্যতিক্রম নয় তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব বেশী পিছিয়ে নেই।
পর্তুগাল এক মাসেরও বেশি সময় আগে এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালু হলেও বলতে গেলে এক ধরনের স্থবির হয়েছিল, তবে তার জন্য পর্তুগাল  সরকারের  করনীয় তেমন একটা ছিল না, ফাইজার এর ভ্যাকসিন সরবরাহের স্থিরতা এবং নতুন ভ্যাকসিন অনুমোদনের ধীরগতি। তবে এই পরিসংখ্যানে পর্তুগাল খুব বেশি পিছিয়ে নেই কেননা পুরো বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনে প্রদানের ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বের রেংকিংএ করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে জনসংখ্যার দিক থেকে হিসেবে পর্তুগাল ১৪ তম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ স্পেন রয়েছে ঠিক পর্তুগালের নিচে অর্থাৎ ১৫ তম অবস্থানে।
এ পর্যন্ত পর্তুগালে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৯৪৫ জন কে ভেকসিন প্রদান করা হয়েছে যা দেশের মোট জনসংখ্যা ২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং মাত্র শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ মানুষ কে দুইটি ডোজ সম্পন্ন করা হয়েছে অর্থাৎ খুবই সামান্য সংখ্যক মানুষ এই পূর্ণ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন।
পর্তুগাল সরকার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছেন দেশের ৭০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কে করোনা ভ্যাকসিন এর আওতায় নিয়ে আসার জন্য এবং তা গ্রীস্মের শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করতে চাচ্ছেন, বর্তমানে প্রতিদিন ১০ হাজার ৩৬২ জন কে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে তবে এটি চলতে থাকলে সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রা পৌঁছানো সম্ভব হবে না ইতিমধ্যে সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যদিও শুরুতে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের টাস্কফোর্সের প্রধান ফ্রান্সিসকো রামোস বলেছিলেন প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ হাজার ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।
গত ৩রা ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী  মার্তা টেমিদো জানিয়েছেন অদ্য হতে ৮০ বছরের বেশি বয়স্কদের এবং ৫০ থেকে ৭৯ বছর বয়সের যাদের অন্য কোন প্রকার মরণঘাতী অসুখ রয়েছে তাদেরকে ভেকসিন প্রদান করা শুরু হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এই গ্রুপের লোকের সংখ্যা প্রায় ৯ লক্ষের মতো । এর পাশাপাশি যারা ইতিমধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন তাদের কে দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে  ধৈর্য ধারণ করতে এবং  আশ্বস্ত করে বলেছেন  খুব শিগগিরই সরকার দৈনিক ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষ্য মাত্রা বাড়িয়ে খুব দ্রুতই কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সকলকে ভ্যাকসিনের কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ইউরোপিীয় ইউনিয়ন  গত ২৯ শে জানুয়ারি তৃতীয় নিরাপদ ভ্যাকসিন হিসেবে অক্সফোর্ড এর অ্যাস্ট্রাজেনেকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে পর্তুগাল ইউরোপিীয় ইউনিয়নের প্রথম অনুমোদিত ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে গত ২৭ শে ডিসেম্বর পর্তুগাল  এই  ভাক্সিন কার্যক্রমের শুরু হয়।

Leave a Reply