বিষাক্ত পানি সাগরে ফেলবে জাপান
১০ লাখ টন ‘বিষাক্ত’ পানি সাগরে ফেলবে জাপান

বিষাক্ত পানি সাগরে ফেলবে জাপান

বিধ্বস্ত ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্র থেকে ১০ লাখ টনের বেশি দূষিত পানি সাগরে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা এ বিষয়ে বলেন, ফুকোশিমা এলাকা পুনর্গঠন ও সেখানের দাইচি পরমাণু কেন্দ্রটি বাতিল করা একটি অনিবার্য কাজ। রয়টারের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। 

জাপান সরকার বলছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে সাগরে পানি ফেলার কাজ শুরু হবে এবং এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক দশক সময় লাগবে। পানির সুরক্ষা স্তর নিশ্চিত হলেই কেবল পানি ছাড়া হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানিগুলো এমনভাবে পরিশোধন করা হচ্ছে যাতে বিষাক্ত উপাদানগুলো আর না থাকে। কিন্তু তারপরও ট্রিটিয়ামের মতো কিছু উপাদান থেকে যাবে। ট্রিটিয়াম মানুষের শরীরে অল্প পরিমাণে গেলে ক্ষতিকারক নয় বলে বিবেচিত। 

পানি পরিশোধনের পর সেগুলো বড় বড় ট্যাংকে রাখা হবে। তবে বর্তমানে সেগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলে জানিয়েছে টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি। আগামী বছরের মধ্যে সেগুলোর ব্যবস্থা হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পানি ফেলার বিষয়ে বলা হয়েছে, এর বিকল্প উপায় ও যাবতীয় সব প্রভাব বিচার করা হয়েছে। পানি ছাড়ার বিষয়ে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পারমানবিক সুরক্ষা মান অনুসারে সব ব্যবস্থা নিচ্ছে জাপান।  

তবে আশঙ্কা প্রকাশ করে জাপানের মৎস ব্যবসায়ী ফেডারেশেনের সভাপতি জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে এই্ অঞ্চলের সামুদ্রিক খাবারের প্রতি গ্রাহকের আস্থা কমে যাবে। এমন সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না বলেও জানান। জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে। 

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করলেও পানি ছাড়ার বিষয়টিতে আপত্তি তুলেছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া। পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য এটা ক্ষতিকর। উদ্বেগ প্রকাশ করে দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, এটা আমাদের জনগণ এবং আশেপাশের পরিবেশের সুরক্ষায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলবে।

Leave a Reply