ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা লক্ষ্য করে গুলি
লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের সদস্যরা গুলি ছুড়ছে এমন একটি দৃশ্য ধরা পড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে কাজ করা জার্মানির এক বেসরকারি সংস্থার ক্যামেরায়।

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা লক্ষ্য করে গুলি

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা লক্ষ্য করে লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের সদস্যরা গুলি ছুড়ছে এমন একটি দৃশ্য ধরা পড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে কাজ করা জার্মানির এক বেসরকারি সংস্থার ক্যামেরায়। সি-ওয়াচ নামে জার্মানির এ বেসরকারি সংস্থার সদস্যরা গত বুধবার এই দৃশ্য ধারণ করে। ফলে, তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।

ধারণকৃত ভিডিওটি প্রকাশ করে জার্মান সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির সদস্য ফেলিক্স ভাইস বলেন, “যারা গুলি ছুড়ছিল ও নৌকাটি ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল তারা আসলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বাঁচানোর জন্য এমনটা করেনি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে অব্যশই লিবিয়ার কোস্টগার্ডের সাথে সব ধরনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এখনই থামাতে হবে।” সি-ওয়াচের একটি এয়ারক্রাফট আকাশে টহল দিচ্ছিল। সেসময় তাদের ক্যামেরায় ভিডিওটি ধরা পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমধ্যসাগরে নীল রংয়ের একটি কাঠের নৌকায় থাকা অন্তত দুই ডজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে লিবিয়ার কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাড়া করছে। এসময় কোস্টগার্ডের নৌকা থেকে ইউনিফর্ম পড়া এক লোক অন্তত দুইবার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে। তাছাড়া, কোস্টর্গাডের যানটি বেশ কয়েকবার খুব দ্রুত গতিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকার কাছে যায়। তাদের চালানো গুলি পানিতে পড়তে দেখা যায়। ভূম্যধসাগরে ইউরোপের দেশ মালটার অধিনস্ত আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানায় এ ঘটনা ঘটে।

সি-ওয়াচ জানায় তারা এ সময় লিবিয়ার কোস্টগার্ডের সাথে রেডিওর মাধ্যমে যোগযোগ করলে কোস্টগার্ডের সদস্যরা ভাঙ্গা ইংরেজিতে তাদের জানায় যে, তারা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারে কাজ করছে। এরপর তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় সি-ওয়াচের বিমানটি ফিরে আসে। ততক্ষণ পর্যন্ত লিবিয়ার কোস্টগার্ডের সদস্যরা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ধাওয়া করছিল। সি-ওয়াচের দাবি, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাটি ইটালির লাম্পেদুসায় পৌঁছেছে বলে তারা জানতে পেরেছে।

তবে এ বিষয়ে লিবিয়া, মালটা বা লাম্পেদুসার পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে লিবিয়ান কোস্ট গার্ডের তরফে একটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে বিবৃতি প্রকাশ করেছে তারা।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টার ঘটনা বাড়ছে। বিপজ্জনক এ যাত্রাপথে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং নিহতের খবর পাওয়া যায়। চলতি বছর অন্তত ৭২৩জন নিখোঁজ ও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে ২০হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

(সূত্র : ইন‌ফোমাই‌গ্রেন্টস)

Leave a Reply