ভ্রমণ কর কী, আপনি কেন দেবেন
ভ্রমণ কর কী, আপনি কেন দেবেন

ভ্রমণ কর কী, আপনি কেন দেবেন

ইমিগ্রেশন নিউজ :

প্রতিটি মানুষের মনে ভ্রমণের নেশা থাকে। কাছে কিংবা দূরে; যে যেমন সুযোগ পায় ভ্রমণ করে থাকেন। তবে বিদেশ ভ্রমণ একটু অন্য রকম অনুভূতির। বিদেশ ভ্রমণে অনেকগুলো নিয়ম ও শর্ত পূরণ করতে হয়। যার মধ্যে যাত্রার মুহূর্তের একটি বাধ্যতামূলক কাজ হলো ভ্রমণ কর পরিশোধ করা।


ভ্রমণ কর কী?

নিজ দেশ থেকে অন্য দেশে যাত্রার সময় সরকার নির্ধারিত যে কর প্রদান করতে হয় , তা হলো ভ্রমণ কর বা ট্রাভেল ট্যাক্স। সাধারণত যেকোনো উদ্দেশে (ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও প্রমোদ ভ্রমণ) নিজ দেশ থেকে বিদেশে গেলে এই কর প্রদান করতে হয়। স্থল, জল ও আকাশ; যে পথেই ভ্রমণ করুন না কেন, যাত্রীকে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার নির্ধারিত কর প্রদান করেই ভ্রমণ করতে হবে।

ভ্রমণ করের ধরন

ভ্রমণ পথের ওপর নির্ভর করে ভ্রমণ করের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। সাধারণত বিমান ও নৌপথে ভ্রমণ কর টিকেট কাটার সঙ্গে নিয়ে নেওয়া হয়। ভারতসহ সার্কভুক্ত দেশসমূহে আকাশপথে গেলে এখন সাধারণত গুণতে হয় ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। জলপথে  ৫০০/ ৮০০ টাকা কর প্রদান করতে হয়। এছাড়া দক্ষিণ অথবা উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং দূরপ্রাচ্য  দেশসমূহ ভ্রমণে যেতে আগ্রহীদের  ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। টিকেট কাটার সময়ই এই কর কেটে নেওয়া হয়।

তবে স্থলপথে ভ্রমণের সময় আলাদা করেই প্রদান করতে হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর ক্ষেত্রে স্থলপথে ভ্রমণের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারত, ভুটান, নেপালে স্থলে ভ্রমণের সময় ভ্রমণ কর পরিশোধ করে যেতে হয়। ভারতে ভ্রমণের সময় স্থলপথে প্রাপ্ত বয়স্কদের ৫০০ টাকা ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক (শিশুদের) ২৫০ টাকা কর প্রদান করতে হয়।

কোথায় ভ্রমণ কর প্রদান করতে হয়

ভ্রমণ করার আগেই সাধারণত ভ্রমণ কর প্রদান করতে হয়। সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভ্রমণের ১/২ দিন আগে থেকে এই কর প্রদান করা যায়। বর্ডারে থাকা সোনালী ব্যাংকের শাখাতেও ভ্রমণ কর প্রদানের সুযোগ আছে। তবে বর্ডারে সময় ক্ষেপণ না করে আগে থেকে ভ্রমণ কর প্রদান করে দিলে ভালো। তাছাড়া বর্ডারে অতিরিক্ত একটা ফি প্রদান করতে হয়। ভ্রমণ কর প্রদান করে ব্যাংক থেকে একটা রশিদ ভ্রমণকারীকে প্রদান করবে। সেটা প্রদর্শন করতে হয় বর্ডার পার হওয়ার সময় কাস্টমসে।

ভ্রমণ কর দেওয়া যায় অনলাইনেও।  ২৬ জানুয়ারি ২০২০ থেকে শুধু বেনাপোল, দর্শনা এবং ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে ভ্রমণকারীরা এই সেবা পেয়ে থাকেন। অনলাইনে ভ্রমণ কর দিতে ভিজিট করুন এই লিংক http://sbl.com.bd:7070/nbrTravelTax/Collection/Create.  এররপর তথ্যগুলো পূরণ করে পরের ধাপে গেলে ভ্রমণকারী পেমেন্ট মেথডে পে করতে পারেবেন। বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের এই গেটওয়েতে মাস্টারকার্ড, ভিসা, কিউ ক্যাশ ও রকেট দিয়ে পে করা সম্ভব। এই পদ্ধতির সার্ভিস চার্জ হলো ১০ টাকা। পেমেন্ট হলে পিডিএফ আকারে একটা রশিদ পাবেন যে টা প্রিন্ট করে বর্ডার পার হওয়ার সময় সঙ্গে নিতে হবে।

Leave a Reply