মহামারিতে বিদেশ ভ্রমণ, কী কী করবেন
মহামারিতে বিদেশ গমনে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

মহামারিতে বিদেশ ভ্রমণ, কী কী করবেন

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক:
মহামারি করোনা তছনছ করে দিয়েছে বিশ্ব। আচমকা যেন সব পাল্টে গেল।বিশ্বগ্রামের ধারণা নিয়ে একুশ শতকের এই যুগ যেখানে মানুষে মানুষে সম্পর্ক সুদৃঢ় করে নিচ্ছে, দূরত্ব কমিয়ে যেখানে মানুষ কাছাকাছি আসছে, সে পথে প্রাচীর তৈরি করে দিয়েছে কোভিড-১৯। বলা হলো-সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। কেউ কারো সঙ্গে কর্মদন করবে না। মানুষ থেকে মানুষের দূরত্ব হবে তিন-ছয় ফুট।এক ঘর থেকে আরেক ঘরে, এক শহর থেকে আরেক শহরে, এক দেশ থেকে অপর দেশের সীমানা বন্ধ। বন্ধ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল।

এমন এক দুঃসময় শুরু হয় ২০২০ সালের শুরু থেকে। চীন থেকে কোরিয়া, ইরান,ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা সহ সমগ্র বিশ্ব এখনো অবধি বিচ্ছিন্ন। লকডাউন-কোয়ারেন্টিন-আইসোলেশনের ফাঁদে পড়ে মানুষের ভ্রমণ হয়ে পড়েছে অসাধ্য। যদিও এমন দুঃসময় অতিক্রম করে অনেক দেশ স্বাভাবিকে ফিরতে উদ্যোগ নিচ্ছে। সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে নানা শর্ত। সকল শর্ত মেনেও অনেকে চায় ভ্রমণ করতে। আবার অনেকের অবশ্য প্রয়োজন হয়। যেমন চিকিৎসা বা বাণিজ্য সফর। কিন্তু এই মহামারিতে বিদেশ গমনে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

মানসিক প্রস্তুতি

মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেকোনো উদ্যোগে এটি পূর্বশর্ত। করোনা মহামারি তা আরও বেশি স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে। মহামারির শুরু থেকে দেখা গেছে, মানসিক দৃঢ়তা থাকা মানুষগুলো আক্রান্ত হয়েও নিজের অবস্থানে ফিরে আসতে পেরেছে। আবার অনেক দুর্বলচিত্তের মানুষ সামান্য লক্ষণ নিয়েও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। এ কারণে মহামারির দিনগুলোতে বিদেশ ভ্রমণের জন্য প্রয়োজন সবার আগে মানসিক দৃঢ়তা ও তার প্রস্তুতি। কেউ যদি ভ্রমণে বের হতে চান বা ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে যেতে চান, তবে নিজের আগে শক্ত করুন। তবেই পরবর্তী প্রস্তুতি গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাবেন।

শারীরিক প্রস্তুতি

কথায় আছে ‘শরীর ঠিক তো দুনিয়া ঠিক’। এই প্রবাদটি সম্পূর্ণ সত্য। বর্তমান পরিস্থিতি সেটাকে আরও সত্যে পরিণত করেছে। মানসিক সুস্থতা আপনাকে নতুন কিছুর দিকে তাড়িত করবে। আর শারীরিক সুস্থতা সেটাকে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখবে। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে কেবল বের হবেন বাড়ি থেকে, বের হবেন নতুন কোনো গন্তব্যে। বর্তমান সময়ে বিদেশ গমন করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শারীরিক কোনো জটিল রোগ থাকলে বিদেশ গমনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত হবে না। চিকিৎসার ক্ষেত্রে সেটি ভিন্ন। তবু করোনার বিষয়টা ছাড় নেই। করোনা থাকলে অসম্ভব। সব দেশই এক্ষেত্রে কঠোর। এক্ষেত্রে বর্তমানে কিছু দেশের পরিস্থিতি উল্লেখ করা যেতে পারে যেমন-

বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভারত যায়। লক্ষ্য থাকে ব্যবসা, চিকিৎসা এবং প্রমোদ ভ্রমণ। কিন্তু বর্তমানে ভ্রমণ ভিসা বন্ধ রয়েছে। স্বাস্থ্য ভিসা সহ অন্যান্য ভিসা চালু থাকলেও নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনি করোনা পজিটিভ নন। করোনা নিয়ে কোনোভাবেই ভ্রমণ করতে পারবেন না।
যারা জরুরি ব্যবসা কিংবা অফিসিয়াল কাজে সিঙ্গাপুর যেতে চান তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।এই ব্যবস্থাটিকে বলা হয় গ্রিন/ফাস্ট লেন অ্যারেঞ্জমেন্ট। এর আওতায় একটি সেফ ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে। এটি ছাড়া সিঙ্গাপুরে ঢোকা যাবে না। গত বছরের ১৭ জুন থেকে যাঁরা সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন স্বল্প সময়ের জন্য, তাঁদের জন্য সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ টেস্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সফরকারীকেই টেস্টের খরচ বহন করতে হবে। যারা থাইল্যান্ড যাবেন তাদের ক্ষেত্রে ‘কোভিড-১৯ মুক্ত’ সনদ থাকতে হবে এবং পাশাপাশি তাদের থাইল্যান্ডে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তবে সম্প্রতি ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে অন্য একটি পদক্ষেপ নিয়েছে থাই সরকার।
যারা করোনা টিকা গ্রহণ করে তার সনদপত্র নিয়ে যাবেন তাদের কোনো রকম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। তারা অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এছাড়াও বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ভ্রমণের জন্য লাগবে করোনামুক্ত সনদ। আর সঙ্গে বহু দেশে যুক্ত হচ্ছে টিকার বাধ্যবাধকতা। এমনকি হজযাত্রীদের সৌদি গমনের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কাজেই বিদেশ ভ্রমণে শারীরিক সুস্থতার বিকল্প নেই।

যা যা লাগবে

মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই গুছিয়ে নিতে পারেন। বিদেশ গমনে সচরাচর প্রচলিত ডকুমেন্টস যেমন- পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট কার্ড (যদি থাকে), স্বাস্থ্য বিমা (যদি আবশ্যক হয়) ইত্যাদি। সঙ্গে যুক্ত করতে হবে করোনা টেস্টের সনদ। আর দেশগুলোর শর্ত অনুযায়ী করোনা টিকার প্রমাণপত্র। সর্বশেষ এয়ার টিকিট কেটে বেরিয়ে পড়ুন।
আর হ্যাঁ, সঙ্গে নিতে ভুলবেন না কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস যেমন ল্যাপটপ/নোটপ্যাড, মোবাইল, ক্যামেরা, প্যানড্রাইভ, ওয়ারব্যাংক,
চার্জার, যে দেশে যাবেন সেখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক, সাথে হালকা লাগেজ।

ভ্রমণকারীকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, সময় এখন মহামারির। তাই যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েই কেবল ভ্রমণে বের হতে হবে।

Leave a Reply