মা নেই, ঢাকার  বস্তিতে লেবাননের জয়নবা
মা নেই, ঢাকার বস্তিতে লেবাননের জয়নবা

মা নেই, ঢাকার বস্তিতে লেবাননের জয়নবা

আল আমিন নয়ন, অভিবাসন কর্মী :

লেবাননে জন্ম সাত বছরের শিশু জয়নাবা। মা বাংলাদেশি ডলি বেগম, লেবানেনে দীর্ঘদিন গৃহকর্মীর কাজ করতেন। বাবা পাকিস্তানি, জয়নবা জন্মের পরেই নিরুদ্দেশ। ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর করোনা আক্রান্ত হয়ে লেবাননেই মারা যান। মায়ের মৃত্যুর সময়ও কাছে ছিল জয়নবা। নানা কাঠখড় পুড়িয়ে ছোট্ট জয়নবার ঠাঁয় হয়েছে এখন ঢাকার বস্তিতে।

কীভাবে জয়নবা বাংলাদেশে?

ডলি বেগমের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস মরদেহ ও শিশুটিকে উদ্ধার করে। এরপর বাংলাদেশ দূতাবাস ডলির পরিবারের সন্ধানে সহায়তা চায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও ব্র্যাকের কাছে। পরিবার খুঁজে ডলির স্থানীয় দাফন ও জয়নবাকে দেশে আনতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে স্বজনদের নিয়ে আবেদনে সহায়তা করে ব্র্যাক। সেসময় জয়নবাকে সেদেশে থাকা এক বাংলাদেশি নারীর কাছে দেওয়া হয় লালন পালনের জন্য। এর কিছুদিন পরই শিশুটিকে সেই নারী তার কাছে রাখতে অপারগতা জানালে জয়নবাকে পাঠানো হয় লেবানন ডির্পোটেশন ক্যাম্পে। এরপর টাভেল পাস দিয়ে চলতি বছরের ১৯ মার্চ এক বাংলাদেশি সঙ্গে জয়নবাকে দেশে পাঠায়ে দূতাবাস। জয়নবা এখন ঢাকার সায়দাবাদে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ খালার কাছে আছে। পরিবারটির আয়ের উৎস স্বামী পরিত্যক্তা খালাতো বোন শিল্পীর রোজগারে। শিল্পী আবার সায়দাবাদ বস্তিতে শিশুদের বাইসাইকেল মেরামত ও ভাড়া দিয়ে দিনে দুই থেকে আড়াইশ টাকা আয় করে সংসার চালান। তার এই অভাবের সংসারে জয়নবার এখন শুধুই যন্ত্রণা।

শিল্পী বলেন, ‘জয়নবা লেবাননে বড় হয়েছে, শিশুটি জানে না যে তার চাওয়া-পাওয়া আমার পক্ষে মেটানো সম্ভব না। কোনো কিছুর বায়না করলে তো আমি তা দিতে পারিনা । আবার জয়নবার মা নেই বাবাও পাকিস্তানি, আমি এখন তাকে নিয়ে কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। যদি সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা এতিম জয়নবার পাশে দাঁড়ায় তাহলে সেই হয়তো সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখবে।’

Leave a Reply