মীরাক্কেলে পশ্চিমবঙ্গ মাতাচ্ছেন বাংলাদেশের রাশেদ

মীরাক্কেলে পশ্চিমবঙ্গ মাতাচ্ছেন বাংলাদেশের রাশেদ

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক : একদিন হঠাৎ জি বাংলার টিভি স্ক্রিন থেকে রাশেদ জানতে পারেন বাংলাদেশে মীরাক্কেলের অডিশন নেওয়ার কথা। দিনটি ছিলো,২৭ ডিসেম্বর ২০১৯। যেহেতু আগে থেকে টুকটাক রম্য লেখালেখি আর স্ট্যান্ডআপ কমেডি চর্চা করতেন,তাই খুব আগ্রহী হয়ে উঠেন অডিশনে যাওয়ার জন্য। একসময় অডিশন নিতে মীরাক্কেল টীম
বাংলাদেশে আসে।সারা বাংলাদেশে শুধু ঢাকাতেই এবার অডিশন হয়। ভারত থেকে অডিশন নিতে আসেন অনুষ্ঠানটির পরিচালক শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, জি বাংলার নির্বাহী প্রযোজক মীর ফালাক, মীরাক্কেল টিম এর সংগীত তিয়ারীসহ আরো অনেক। সেখানেই কয়েকটি ধাপে দুই দিন শত শত প্রতিযোগীর মাঝেই অংশ নেন রাশেদ। শেষ পর্যন্ত  চারজন বাংলাদেশী প্রতিযোগী টিকে যান। এর মধ্যেই মীরাক্কেল সিজন ১০ এর জন্য জায়গা করে নেন আফনান আহমেদ রাশেদ।

রাশেদ বর্তমানে পড়ালেখা করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব থিয়েটারে,২০১৯-২০ বর্ষে। ইমিগ্রেশন নিউজকে মীরাক্কেল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলছিলেন রাশেদ।

অডিশনে টেকার পর প্রথম বিভিন্ন ভিসা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে পাড়ি জমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। সেই থেকে শুরু। প্রস্তুতি, শেখা, সবার সঙ্গে মেলামেশা-সাক্ষাত। আড্ডা-গল্পের মাঝে বিভিন্ন সময় শো। শুরু থেকে দারুণ মীরাক্কেলে দুর্দান্ত করছেন রাশেদ।

‘আমাদের মেন্টররা প্রচুর সাপোর্টিভ।উনাদের সাথে ক্রিকেট খেলাটা বেশি আনন্দের।শুটিং এর মজার ঘটনা ঘটে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক মীর দা’র সাথে। প্রথম দিন শুটিং উনি আমার সাথে মঞ্চে দারুণ মজা করেন।পরবর্তীতে এটা টিভিতেও দেখানো হয়।ওই মুহুর্তটা ছিলো আমার সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা’। এখন অবধি বিভিন্ন শো হয়েছে। প্রতিটি শোতে প্রাঞ্চল ভাষায় মাতিয়ে দিয়েছেন রাশেদ। হাসি-মজা-গল্পে  জমিয়ে তুলেছেন ওপার বাংলার দর্শকদের মঞ্চ। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, মীরাক্কেলে বাংলাদেশি তরুণরা কীভাবে অংশ নিতে পারেন? জানালেন, অডিশন  ছাড়া অংশগ্রহণ করার বিকল্প কোনো পথ নেই। অবশ্যই যে কাউকে তার স্ট্যান্ডআপ কমেডির যোগ্যতা প্রমাণসহ জোকস এর উপর দক্ষতা থাকতে হবে।বাকিটা বিজ্ঞ বিচারক যারা থাকেন, অডিশনে তাদের বিবেচ্য বিষয়। তবে চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

রাশেদ বলছিলেন,.স্ট্যান্ডআপ কমেডির মূলমন্ত্র বা ভালো করার নির্দিষ্ট কোনো কৌশন আছে কিনা আমি জানি না, তবে,হ্যাঁ জোকস এবং কমেডি স্ক্রিপ্ট এর ওপর ভালো ধারনা থাকাটা জরুরী এবং প্রেজেন্টেশন এর চর্চাটাও মাথায় রাখলে ভালো হয়। আগামীতে রাশেদের লক্ষ্য কি-এমন প্রশ্নে আপাতত  মীরাক্কেল  জার্নি শেষ করে দেশে ফিরে পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে চান বলে জানালেন তিনি। ‘তবে হ্যাঁ, লক্ষ্য বলতে আমি মিডিয়াতে স্থায়ী হতে চাই। ইচ্ছা আছে একদিন আন্তর্জাতিক মানের ফিল্ম তৈরি করার। সে কারণে এখন থেকে নিজেকে দক্ষ করে তোলায় মনোযোগ দিতে চাই’।  ভবিষ্যতে মান সম্মত সিনেমা দিয়ে বিশ্বের কাছে নিজ দেশকে তুলে ধরতে চান ঢাকার ছেলে রাশেদ।

Leave a Reply