মৃত্যুঞ্জয়ী প্রজ্ঞাবান :শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য
১৯৭১সনের ২৫শে মার্চে পাকিস্থানিদের পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের রাতে পাকিস্থানীরা তাঁকে খুন করে।

মৃত্যুঞ্জয়ী প্রজ্ঞাবান :শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য


উজ্জ্বল দাশ :
বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের ঊষালগ্নে হানাদার পাকিস্তানিদের হাতে নিহত স্বপ্নশৌর্যদীপ্ত তরুণ প্রাণ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। জন্ম নবীগঞ্জ উপজেলার জন্তরী গ্রামে। দিগেন্দ্র চন্দ্র ভট্টাচার্য ও রাজলক্ষী ভট্টাচার্যেও প্রথম সন্তান। অত্যন্ত মেধাবী অনুদ্বৈপায়ন ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৭১সনের ২৫শে মার্চে পাকিস্থানিদের পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের রাতে তিনি ছিলেন জগন্নাথ ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষক হিসেবে কর্তব্যরত। ভয়াল সেই রাতে ছাত্রবাস অরক্ষিত রেখে তিনি পলায়নে উদ্যোগী ছিলেন না। রাতশেষের সকালে পাকিস্থানীরা তাঁকে খুন করে। শহীদ বুদ্ধিজীবী অভিধায় জাতীয় সম্মানে অভিষিক্ত অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য বাংলাদেশের জন্মস্মৃতির অংশ।
আজ যারা নবীগঞ্জ যোগল কিশোর (জে.কে)উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে, তারা কি জানে ১৯৬১ সনে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই পাশ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সেরা রেজাল্ট দেখিয়ে পরবর্তীকালে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তাদেরই একজন। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই ঘাতকদের গুলিতে প্রাণ দিয়ে অগ্রজ শহীদের মর্যাদা লাভ করা মানুষটি আমাদেরই স্বজন শতবর্ষী স্কুলের গর্বের ধন শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। নিঃসন্দেহে এ খবর রাখে না কোন শিক্ষার্থী, কারণ পরিচয়ের যোগসূত্রতা কেউ তৈরি করে দেয়নি।
২৬শে মার্চ ১৯৭১। ভোর রাতে পাকিস্থানী সৈন্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মাঠে ধরে এনে গুলি করে হত্যা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকসহ অসংখ্য মানুষকে। আততায়ীদের হাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সম্ভাবনাময় তরুণ শিক্ষক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। পাকিস্থানী বাহিনী হলের প্রতিটি রুম খুঁজে দেখছিল কেউ জীবিত পরে আছে কিনা। অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যকে কিভাবে হত্যা করেছিল তা স্বচক্ষে দেখেছিলেন জগন্নাথ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক পরিমল গুহ, শোভা পাল ও বই বিক্রেতা ইদু মিয়া। অনুদ্বৈপায়ন তখন হল সংসদের রুমে (এসেম্বলী হল) থাকতেন। তাঁকে ধরে নিয়ে হাত দুটি পেছনে মোড়া করে বেঁধে উবু করে বসিয়ে রেখেছিল। সারা শরীরে রাইফেলের বাট ও বুট দিয়ে আঘাত করে তার বোধশক্তি রহিত করে দিয়েছিল। একটা সময় পরনে ছিল তার শুধু একটি অর্ন্তবাস। বিড় বিড় করে তিনি ঠিক কি বলছিলেন তা বুঝা যাচ্ছিল না। যত চিৎকার করছিলেন নরপশুদের অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। অনুদ্বৈপায়ন যখন প্রায় আধমরা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষক গোপাল কৃষ্ণনাথ তার বাসার জানালা দিয়ে হত্যাকান্ড দেখেছিলেন। তিনি দেখেন, হানাদার বাহিনী বিকেলে বুলডোজার দিয়ে গর্ত খুঁড়ে প্রখ্যাত দার্শনিক ড: গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জি.সি) ও অনুদ্বৈপায়নসহ অসংখ্য ছাত্র ও কর্মচারীদের মৃতদেহ মাটিতে চাপা দিয়ে রেখে যায়।
১৯৪৫ সালের ৩১শে জানুয়ারি জন্ম নেয়া সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। তাঁর পিতা দিগেন্দ্রচন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন নামকরা আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। নবীগঞ্জ যোগল কিশোর (জে.কে) হাই স্কুলের কৃতি ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম অনুদ্বৈপায়ন। ১৯৬১ সালে স্কুল থেকে প্রথম শ্রেণীতে অংক ও সংস্কৃত বিষয় দুটিতে লেটার নম্বর পেয়ে ম্যাট্রিকুলেশন (এস.এস.সি) উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৩ সালে এম.সি. কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে মেধা তালিকায় একাদশ স্থান অধিকার করে আই.এস.সি (উচ্চ মাধ্যমিক) পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন।
১৯৬৬ সালে অনুদ্বৈপায়ন পদার্থবিদ্যায় প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান অধিকারে বি.এস.সি সম্মান ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফলিত পদার্থ বিদ্যায় প্রথম শ্রেনীতে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে এম.এস.সি. পাশ করেন। অনুদ্বৈপায়ন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নব প্রতিষ্ঠিত ফলিত পদার্থ বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র। ১৯৬৮ সালের ১৪ই মার্চ ফলিত পদার্থ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন অনুদ্বৈপায়ন আর একই বছরের ১লা জুলাই জগন্নাথ হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিযুক্তি পান।
শহীদ অনুদ্বৈপায়ন শিক্ষকতাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ছাত্র হিসেবে যেমন মেধাবী, শিক্ষক হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। অনুদ্বৈপায়ন গবেষক হিসেবে পরিণত হতেন এতে কোন সন্দেহ ছিলনা এমনটাই আশাবাদ ছিল তাঁর সহকর্মী শিক্ষকদের। কলম্বো প্লানের বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য তার যাবার সব ব্যবস্থা চুড়ান্ত ছিল। ২৬শে মার্চ রাতে তার লন্ডনের উদ্দেশ্যে বিমানে উঠার কথা। ভোর রাতেই নিভে গেল অনুদ্বৈপায়নের জীবন প্রদীপ।
স্কুল ও কলেজ জীবনে তিনি অনেকটাই রক্ষণশীল ছিলেন বলেই জানা যায় তাঁর বন্ধুদের কাছ থেকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সকলের নিকট উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর সহপাঠী নবীগ্ঞ্জ জে.কে.হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ বন্ধু অনুদ্বৈপায়নের পরিবর্তন প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ’ অনুদ্বৈপায়ন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এলো।

কথাপ্রসঙ্গে বলল, কিরে মাংস খাওয়াতে পারবি, তোরা মাংস খুব ভাল রাঁধতে পারিস! তাকে বলি, তুইনা কারো বাড়িতে জলই গ্রহণ করতি না, আর এখন বলছিস মাংস খাবি। প্রত্যুত্তরে অনুদ্বৈপায়ন বলেছিল, বন্ধু, ’আগে ছিলাম ব্রাহ্মণ, এখন হয়েছি মানুষ। ’পাকবাহিনী সেই মানুষ হয়ে উঠা অনুদ্বৈপায়নকে হত্যা করল।
অনুদ্বৈপায়নের সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, ২৫শে মার্চ তিনি ঢাকায় ফিরে সন্ধ্যা বেলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে গিয়েছিলেন বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করে বিদায় নিতে। কেউ কি জানত এটাই হবে তার শেষ বিদায়। রাত ৯.৩০ টায় যখন তিনি ক্লাব থেকে ফিরে তার শিক্ষক জনাব প্রফেসর জালালুর রহমানের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জগন্নাথ হলের দিকে যাচ্ছিলেন তখন নাকি বলেছিলেন, হলে যেতে তার কেমন যেন ভয় করছে।
প্রফেসর জালালুর রহমান তাঁর স্মৃতি সভায় দেয়া বক্তব্যে অনুতাপ করে বলেছিলেন, তিনি যদি ঐ রাতে তাকে জোর করে তার বাসায় নিয়ে যেতেন তার জীবনের এ পরিণতি হয়ত ঘটত না। অনুদ্বৈপায়নের শহীদ হওয়ার খবর খোদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে আমলে নেয়ার পরিবর্তে তাঁকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কাজে যোগদান না করায় নোটিশ দিয়েছিল। ৩১-৮-১৯৭১ তারিখে তৎকালীন রেজিস্টারের দেয়া এক নোটে দেখা যায় ফলিত পদার্থবিদ্যার প্রভাষক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য আরও কয়েকজন বরেণ্য শিক্ষকদের সাথে ২৫শে মার্চের কালোরাতেই যে নিহত হয়েছেন এ নির্মম সত্যটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগোচরে ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার তার ৪-৯-১৯৭১ তারিখের এক চিঠিতে অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় তাকে বরখাস্তের নোটিশ পাঠায়। অনুদ্বৈপায়ন তখন জগন্নাথহলের গণকবরে সমাহিত। বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর এস.এম. ফজলুর রহমান তার ১৬-১০-১৯৭১ তারিখের এক চিঠিতে উপাচার্যকে জানান যে, সহকর্মী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য মুক্তিযুদ্ধের প্রথম রাতেই নিহত হন। বিভাগীয় প্রধানের এই চিঠিটি বলা যায় একটি ব্যতিক্রম যাতে বিলম্বে হলেও বলা হয়েছে তার প্রিয় ছাত্র সহকর্মী নিহত হয়েছেন।

১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি অনুদ্বৈপায়নের বাবার কাছে আসে। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহিবল থেকে সংশ্লিষ্ট মহকুমা প্রশাসকের নিকট থেকে দু হাজার টাকার চেক উত্তোলনের জন্য এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। অনুদ্বৈপায়ন ভট্টচার্যের পরিবারের সদস্যরা তখনই নিশ্চিত হন যে, তাদের প্রিয়জন সত্যি সত্যি একাত্তরে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী কৃর্তক নিহত হন। তখনো তারা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন- হয়তো বা তিনি বেঁচে আছেন এবং লন্ডনে অবস্থান করছেন । হয়তো কোন একদিন বাড়িতে ফিরে আসবে তাদের আদরের বড় ছেলে ঝুনু। পরবর্তীতে অনুদ্বৈপায়নের বাবা দিগেন্দ্র ভট্টাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সাথে দেখা করেছিলেন। রমনা থানা থেকে বড় ছেলে শহীদ অনুদ্বৈপায়নের মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করেছিলেন।
দেশে স্বাধীন হওয়ার পর জগন্নাথ হলের সংসদ ভবনের নাম রাখা হয়েছিল অনুদ্বৈপায়ন ভবন। ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আকস্মিক ভবনটি ভেঙ্গে পড়ার অনেক ছাত্রের মৃত্যু হয়। নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে পুনঃনির্মিত ভবনটির নাম রাখা হয় অক্টোবর ভবন। জগন্নাথ হল কর্তৃপক্ষ বর্তমান অক্টোবর ভবনের একটি কক্ষ অনুদ্বৈপায়ন পাঠাগার হিসেবে তাঁর স্মৃতিকে ধরে রেখেছেন।
২৪ আগষ্ট ২০১৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় ৪৬ নং আবাসিক শিক্ষক ভবনের নাম ’’শহীদ অধ্যাপক অনেৈদ্বপায়ন আবাসিক শিক্ষক ভবন’’ হিসেবে নামকরণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১৯৯২ সনে শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যকে নিয়ে ডাক টিকেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
২০০০ সালে নবীগঞ্জ গণপাঠাগারের উদ্দ্যোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মরহুম হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রব সাদী ও সিলেট মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ এর প্রচেষ্টায় উজ্জ্বল দাশের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ’মৃত্যুঞ্জয়ী প্রজ্ঞাবান’ শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য স্মারক গ্রন্থ। যেখানে অনুদ্বৈপায়নকে নিয়ে লিখেছেন তাঁর শৈশব থেকে মৃত্যুর সময় পর্যন্ত নানা সময়ের কাছের মানুষরা।
স্বাধীনতার পর নবীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তাঁর গ্রাম জন্তরী পর্যন্ত রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল অনুদ্বৈপায়ন সড়ক। কালের গর্ভে সেটি এখন কলেজ রোড নামেই অধিক পরিচিত। এখন আর কোথাও চোখে পরেনা না অনুদ্বৈপায়নের নামে সড়ত ফলক। নতুন প্রজন্ম বঞ্চিত হয়েছে তাদের পূর্বসুরিদের সম্পর্কে জানতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও অনুদ্বৈপায়নের পরিবারের সহযোগিতায় শহীদের নামে মাধ্যমিক স্কুল তৈরীর উদ্দ্যোগ শেষ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।

স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর হলেও বিস্মৃত এই শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।

স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর হলেও বিস্মৃত এই শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬; শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদের নিজগ্রাম জন্তরী ও নবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ত্রিমুখী সংযোগস্থলে নির্মিত এই স্মারকস্তম্ভের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী। উদ্বোধনী আলোচনা অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান স্মারকস্তম্ভের মোড়টি অনুদ্বৈপায়ন চত্ত্বর এবং শহীদের গ্রাম জন্তরী রাস্তটি অনুদ্বৈপায়ন সড়ক হিসেবে ঘোষণা করেন। একই দিনে শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের বাড়ির সম্মুখে রাস্তার পাশে আরও একটি স্মৃতি স্মারক স্তম্ভের উদ্ভোধন করেছেন স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া।
বাড়িতে শহীদ অনুদ্বৈপায়নের স্বজন বলতে ছোটবোন প্রীতিলতা। ভাইয়ের স্মৃতি তাঁকে কুড়ে খায়। অনুদ্বৈপায়ন আত্মীয় পরিজনকে চিঠি লিখতেন বেশি। দাদার চিঠি, ব্যবহৃত জিনিসপত্র স্মৃতির স্মারক। একজন জাতীয় বুদ্ধিজীবীকে রাষ্ট্র না হয় বিস্মৃত হিসেবে আড়াল করে রাখল, শহীদের জন্মস্থানের মানুষ, মাটি তাঁকে কি করে ভুলে থাকে! একবার ভেবে দেখুন, যাঁদের রক্তে স্নাত এই দেশ, তাঁদের ভুলে কি করে আমরা প্রতিটা ভোরের সূর্য দেখি!


লেখক: সম্পাদক, মৃত্যুঞ্জয়ী প্রজ্ঞাবান’ শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য স্মারকগ্রন্থ।

Leave a Reply