মেক্সিকো সীমান্তে নির্মমভাবে অভিবাসী হত্যা, ১২ মেক্সিকান পুলিশ আটক

মেক্সিকো সীমান্তে নির্মমভাবে অভিবাসী হত্যা, ১২ মেক্সিকান পুলিশ আটক

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :

তাদেরও হয়তো স্বপ্ন ছিলো একটি উন্নত জীবনের। মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্মম হত্যার শিকার হন ১৯ জন অভিবাসী। তাদের দেহ পোড়া ছিলো। শরীরে ছিলো গুলির চিহ্ন। এদের ১৯ জনের মধ্যে মাত্র ৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে তখন। যাদের মধ্যে দুজন গুয়েতেমালার ও বাকি দুজন মেক্সিকোর।  দেহ পুড়ে যাওয়ায় অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি সে সময়।

রয়টার্স বলছে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সম্প্রতি আটক করা হয়েছে মেক্সিকোর ১২ জন পুলিশ সদস্যকে। দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য তামাউলিপাসে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিলেন তারা।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তামাউলিপাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ইরভিং ব্যারিওস জানান, কামারগোর ওই হত্যাকাণ্ডে রাজ্য পুলিশের অন্তত ১২ সদস্য সম্ভবত জড়িত ছিলেন,তদন্ত থেকে এটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তামাউলিপাস রাজ্য পুলিশের একজন মুখপাত্র পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নিহতদের আগুনে পোড়া গুলিবিদ্ধ লাশগুলো একটি অগ্নিদগ্ধ গাড়িতে পাওয়া যায়।গাড়িটির গায়েও ছিলো অনেকগুলো গুলির চিহ্ন। নিহতদের মধ্যে তাদের আরও লোকজন
থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে গুয়াতেমালার বেশ কয়েকটি পরিবার।  যারা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। ঘটনাস্থলে পাওয়া আগুনে পোড়া গাড়িটির মেক্সিকান মালিকও নিহতদের মধ্যে আছেন বলে কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন। এ ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে তামাউলিপাসের প্রতিবেশী রাজ্য নুভো লিওনে ৬৬ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে আটকের সময় তার পিক আপ ট্রাকটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

কিন্তু পরে গাড়িটি ছেড়ে দিয়ে মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যাকে জেসান এম নামে শনাক্ত করা হয়েছে। নিহত অপর মেক্সিকানকে ড্যানিয়েল পি বলে শনাক্ত করা হয়েছে।  এই লোক মানবপাচারকারী ছিলেন বলে কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন। মূলত গাড়িটি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য নিকটবর্তী একটি গ্রামীণ এলাকায় অপেক্ষা করার সময় হামলার শিকার হয়।
প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত নিয়মিতই অভিবাসীদের ভিড় লেগে থাকে।  এই সীমান্ত দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসী প্রত্যাশীরা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেষ্টের চেষ্টা করে েএবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকে। আর প্রায় সময় ঘটে নির্মম ঘটনা, ঘটে হত্যাযজ্ঞ ও অমানবিক কর্মকাণ্ড। ১৯ জন অভিবাসী হত্যা ছিলো তেমনই একটি অমানবিক ও নৃশংস ঘটনা।

Leave a Reply