যুক্তরাজ্যের দেড়শ অবাঙালি শিশু-কিশোরেরা গাইবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’
সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরালয় এবং লন্ডনের অন্যতম সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান নিউহাম মিউজিকের যৌথ প্রযোজনায় ‘ভাষার গান’

যুক্তরাজ্যের দেড়শ অবাঙালি শিশু-কিশোরেরা গাইবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’

ইমিগ্রেশন নিউজ : গৌরী চৌধুরী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলা গানের শিল্পী। ৩১ বছর ধরে তিনি বিলেতে বাংলা গানের সুর ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁর পরিচালনায় এবার ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানখানা যুক্তরাজ্যের পঞ্চাশজনেরও বেশি মিউজিশিয়ান এবং প্রায় দেড়শ অবাঙালি শিশু-কিশোরেরা পরিবেশন করবে।

পুরো বিষয়টি পরিচালনা করেছেন গৌরী চৌধুরী।এবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে লন্ডন বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে প্রচারিত হবে গানটি, তাঁর সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরালয় এবং লন্ডনের অন্যতম সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান নিউহাম মিউজিকের যৌথ প্রযোজনায় ‘ভাষার গান’ শিরোনামে।

গৌরী চৌধুরী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলা গানের শিল্পী।

গৌরী চৌধুরী জানান, জয় বাংলা গানের মাঝে মাঝে চোখের জল ধরে রাখতে পারি না। এক আধটু গান করতে না করতেই এত ভালোবাসা মানুষ দিয়েছে, ভাবি পূনর্জন্ম যদি পাই, তা যেন এই সংগীতের মধ্যেই কাটিয়ে দিতে পারি। এদেশে (যুক্তরাজ্য) এসে প্রথমেই স্বপ্ন দেখতাম, যদি আমার প্রিয় বাংলা ভাষার গান ছড়িয়ে দিতে পারতাম এখানকার অবাঙালি শিশু-কিশোরদের মাঝেও! বুঝি ঈশ্বর কোনো মানুষের পরম কোনো মনোবাসনাকেই অপুর্ণ রাখেন না। ভূল-ভাল যা-ই গেয়েছি, মানুষ ভালোবেসে তাতেই সাড়া দিয়েছে। এই সীমাহীন কৃতজ্ঞতা আমি কীভাবেই বা প্রকাশ করি!

এবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে লন্ডন বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে প্রচারিত হবে আমার সুরালয় আর লন্ডনের অন্যতম সংগীত প্রতিষ্ঠান নিউহাম মিউজিকের যৌথ প্রযোজনায় ‘ভাষার গান’ -আমার দীর্ঘদিন লালিত এক সংগীত-উদ্যোগ। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানখানা এদেশের পঞ্চাশজনেরও বেশি মিউজিশিয়ান এবং প্রায় দেড় শ অবাঙালি শিশু-কিশোরেরা পরিবেশন করবে । এমন একখানা ঐতিহাসিক সংগীত অর্কেস্ট্রেশন ফলত পরিচালনা করেছি এই করোনাকালে, এমন ক্রান্তিকালে, শত দুখের মাঝেও, ঘরে বসে বসে।

লন্ডনের অন্যতম সংগীত প্রতিষ্ঠান নিউহাম মিউজিক

ইতিপূর্বে রয়েল ফেস্টিভ্যাল হলে প্রায় সাত শ অবাঙালি শিশু কিশোরকে দিয়ে বাংলা গানের এক ঐতিহাসিক অর্কেস্ট্রেশন পরিচালনা করেছি। তাতে বাংলা গান নিয়ে বাঙালি-অবাঙালি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের গভীর ভালোবাসা মর্মে মর্মে টের পেয়েছি। আমাদের মধুর বাংলা ভাষা আর এই ভাষার বিস্ময়কর সব গান দিয়েও আমরা বিশ্ব জয় করতে পারি অনায়াসে। রবীন্দ্রনাথ যেমন আমাদের এই ভাষাকে এক সীমাহীন গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করে গেছেন। সব প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে বাংলা গানকে বিশ্বব্যাপী সব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাকি জীবনটুকু উৎসর্গ করতে চাই। যাঁরা ভালবেসেছেন, আশীর্বাদ করেছেন – আপনাদের গৌরীর জন্যে এই ভালোবাসা আর আশীর্বাদ অব্যাহত রাখবেন। দিকে দিকে বাংলা গানের জয় হোক। বাংলা ভাষারও।

Leave a Reply