যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সময়োপযোগী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা

ইমিগ্রেশন নিউজ ডেস্ক :
একদিকে মহামারির আঘাত। অন্যদিকে লকডাউন। সমাজের প্রতিটি স্তরেই যেন স্থবিরতা। এই দুর্যোগের কারণে এখন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা মেধাবী এবং উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভিসা জটিলতার কারণে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।

প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক-স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষা কিংবা উন্নত গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবৃত্তি, ফেলোশিপ নিয়ে পড়তে যান।

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের পূর্বনির্ধারিত সকল ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল করে দেয়। একই ভাবে নতুন প্রজ্ঞাপনে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিলের সর্বাত্মক লকডাউনেও তারা সকল ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল করে দিয়েছে। নতুন করে কোন আবেদনও গ্রহণ করছে না।

এদিকে যেসব শিক্ষার্থী গ্রীষ্মকালীন (সামার) সেশন ২০২১ সুযোগ পেয়েছেন তাদের ক্লাস শুরু হবে মে মাসের মাঝামাঝি থেকে। আর যারা ফল ২০২১ সেশনে সুযোগ পেয়েছেন তাদের ক্লাস শুরু হবে জুলাই ২০২১ এর শেষভাগ থেকে। যার জন্য কমপক্ষে ১ মাস থেকে ১৫ দিন আগে ভিসা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, শ্রীলংকা, এমনকি চীনেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের ভিসা কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে এফ ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট ভিসা প্রদানে দূতাবাস এখনও পর্যন্ত কোন বিশেষায়িত কর্মসূচি হাতে নেয়নি।
গত বছর ফল ২০২০ সেশনের অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ভিসা না পাওয়ার কারণে তাদের নির্ধারিত সেশনে অংশ নিতে পারেননি। অনেকের ভর্তি প্রস্তাব এবং স্কলারশিপ/ফেলোশিপ বাতিল হয়ে যায়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভর্তি ও স্কলারশিপ এ বছর স্প্রিং সেশন (জানুয়ারি ২০২১) ও ফল ২০২১ সেশনে পেছানো হয়। এবার তারা আবারও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানই পর পর দুই বছর একই কারণে একই শিক্ষার্থীর জন্য সেশন পেছাবে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের বহুল আরাধ্য স্কলারশিপ ও ছাত্রত্ব বাতিল হবার পাশাপাশি ক্ষুণ্ণ হবে উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশের সুনাম। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে নতুন ভাবে শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। আর এ সুযোগে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে যাবে কয়েক গুন।

সংকট নিরসনে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের একটি দল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাষ্ট্র উঈং-এর পরিচালক তৌফিক ইসলামের সাথে যোগাযোগ করন। তিনি তাদের আশ্বাস দিলেও এখনো এ বিষয়ে কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি। আর আমেরিকান দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, সরকার থেকে কোনো ধরণের অনুমতি না পেলে তারা এ ব্যাপারে সমাধান করতে অপারগ।

এমন পরিস্থিতিতে চরম ক্ষতি আর ধ্বংসের মুখে পড়ছে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমি দেশের একটি স্বনামধন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম। কিন্তু তা ছেড়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করি। গত বছর একাধিক আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও সময়মত ভিসা না পাওয়ায় আমার স্কলারশিপ বাতিল হয়ে যায়। হতাশা ভুলে এ বছর আবার আবেদন করি এবং এবারও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেয়েছি। কিন্তু এবারও কি আমাকে একই পরিণতির শিকার হতে হবে!

জানা যায়, প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে আবেদন ফি এবং স্কোর সাবমিশন বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়, দিতে হয় জি আর ই, টোফেল, আইইলটিএস এর মত পরীক্ষা যেগুলোর প্রত্যেকটির ফি ১৭ হাজার টাকা করে এবং এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবছরই। এবারও যদি সব ভেস্তে যায় তাহলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার, স্বপ্ন, জীবন সবই ব্যর্থ হয়ে যাবে।।

এমন অবস্থায় সময়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সময়োপযোগী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply