যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনে স্বাস্থ্যবিমার শর্ত বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের আসা কঠিন করে তোলা ট্রাম্প জমানার আরেকটি নির্দেশনা বাতিল হয়ে গেল।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনে স্বাস্থ্যবিমার শর্ত বাতিল

ইব্রাহীম চৌধুরীনিউইয়র্ক :

স্বাস্থ্যবিমা ক্রয়ের মতো আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দেওয়া হবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এমন নির্দেশনা বাতিল করে বলেছেন, ওই নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের আসা কঠিন করে তোলা ট্রাম্প জমানার আরেকটি নির্দেশনা বাতিল হয়ে গেল।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৪ মে বলেছেন, তাঁর প্রশাসন জনগণের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যাঁরা আইনসম্মত অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবেন, তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বাদ না দিয়েও এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

২০১৯ সালের অক্টোবরে দেওয়া ট্রাম্পের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্যবিমা ক্রয়ের সক্ষমতা দেখাতে না পারলে অভিবাসন ভিসায় আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এ দেশে প্রবেশের ৩০ দিনের মধ্যেই অনুমোদিত স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণের সক্ষমতা আছে অথবা আগাম জানা যায়, এমন রোগের যুক্তিসংগত চিকিৎসা ব্যয় বহনের যথেষ্ট অর্থ রয়েছে, সেটি প্রমাণ করার নিয়ম চালু করেছিলেন ট্রাম্প। ৩০ দিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিমা ক্রয়ে সক্ষম না হলে তাদের আবার নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথাও বলা হয়েছিল সেই নির্দেশনায়।

ট্রাম্পের এমন নির্দেশনার পর অভিবাসী মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে পারিবারিক অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রে আসা লোকজন সমস্যায় পড়েন। অভিবাসনকে নানা কালাকানুন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে যুক্তরাষ্ট্রে একটি মানবিক অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের সময়ে অভিবাসনবিরোধী বেশ কিছু বৈরী নির্দেশনা তিনি ইতিমধ্যেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাতিল করেছেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বাস্থ্যবিমা ক্রয়ের সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের জারি করা নির্দেশনাই শুধু বাতিল করেছেন, এমন নয়। ‘পাবলিক চার্জ’ নামের আরেকটি নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সুবিধা যেমন স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যনিরাপত্তা, আবাসন নিরাপত্তার মতো সহযোগিতা গ্রহণ করলে গ্রিন কার্ড দেওয়া হবে না।

বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ট্রাম্পের আরোপিত এমন নির্দেশনাটিও আপাতত কার্যকর করা হচ্ছে না। পাবলিক চার্জ কার্যকর করা নিয়ে রক্ষণশীলদের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাকারীরা পাবলিক চার্জ বিধি কার্যকর করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করার পক্ষে।

মার্কিন অভিবাসন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন নানা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাবলিক চার্জ কার্যকর করা বা স্বাস্থ্যবিমা ক্রয়ের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করার মতো বিধিবিধান মার্কিন জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।

নথিপত্রহীন শিক্ষার্থীদের করোনা প্রণোদনাসহ খাদ্য ও আবাসন সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প আরোপিত বাধা দূর করে সম্প্রতি বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

১৪ মে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অল্প বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ছয়জন অভিবাসীর সঙ্গে সভা করেন। ডাকা (ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস) নামের পরিচিত ওই কর্মসূচি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চালু করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে ডাকা কর্মসূচি আবার চালু করেন। ক্ষমতায় আসার পর এ কর্মসূচির আওতায় থাকা অভিবাসীদের মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তিনি সমন্বিত অভিবাসন আইন প্রণয়নের জন্য আবারও আইন প্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বেশ কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও ডাকা কর্মসূচির প্রতি সহানুভূতিশীল।

সমন্বিত অভিবাসন আইন নিয়ে বিতর্কের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত ডাকা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার পৃথক আইন করা হতে পারে। এ নিয়ে রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

Leave a Reply