রাজধানীসহ কিছু এলাকা বাদে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে পর্তুগাল
স্টেট অ্যান্ড প্রেসিডেন্সি মন্ত্রী মারিয়ানা ভিয়েরা সিলভা

রাজধানীসহ কিছু এলাকা বাদে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে পর্তুগাল

ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, পর্তুগাল :

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের নাগরিকরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ১৪ জুনের পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার (৯ জুন) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে স্টেট অ্যান্ড প্রেসিডেন্সি মন্ত্রী মারিয়ানা ভিয়েরা সিলভা লিসবনে এখনই স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় না ফেরার বিষয়টি তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তিনটি মিউনিসিপ্যালিটি- ব্রাগা, অদিমেরা এবং ভাল দে কামব্রাতেও আগের নিয়ম বহাল থাকছে।

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আগের নিয়মেই রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে রেস্টুরেন্ট এবং এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে, মিনি মার্কেট-সুপার মার্কেট, টুরিস্ট দোকান এবং খুচরা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যেমন- মিউজিয়াম, থিয়েটার ইত্যাদি রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এছাড়া টেলি ওয়ার্ক বাধ্যতামূলক থাকছে।

অন্যদিকে ১০টি মিউনিসিপ্যালিটি- আলবুফেরা, আলকান্ট্রা, আরোদা দা ভিনোস, কাসকাইস, ল‌ওলি, পারেন দে কৌরা, সানতারাই, সেরতা, সিসিমব্রা ও সিনট্রা এলাকাকে সতর্ক করা হয়েছে, পরিস্থিতি এরকম থাকলে হয়ত সেখানেও পরবর্তী পর্যায়ে বর্তমান পরিস্থিতি ফিরে আসবে।

দেশের অন্যান্য প্রান্তে আগামী ১৪ জুন যেসব বিধিনিষেধ লাঘব করা হচ্ছে:

রেস্টুরেন্টে একই টেবিলে ৬ জন এবং বাইরে ১০ জন বসার ব্যবস্থা বজায় রেখে রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রাহক গ্রহণ এবং রাত ১টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সুপার মার্কেট, মিনি মার্কেট, টুরিস্ট শপসহ সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ১৪ জুন থেকে মহামারির পূর্বে যে নিয়মে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা-বন্ধ করতেন সেই নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারবেন।

মিউজিয়াম, সিনেমা হল, থিয়েটার, সার্কাস এবং বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে পরিচালনা করা যাবে। তবে তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলতে হবে।

পারিবারিক আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা থাকছে। বিয়ে বা অন্য যেকোনো আয়োজনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ধারণক্ষমতায় জনসমাগম করা যাবে। তবে সংক্রমণ সংখ্যা যদি গড়ে ১৪ দিনে ১ লাখ জনগোষ্ঠীতে ৪৮০ জন ছাড়িয়ে যায় তাহলে ২৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। দর্শক সমাগম যুক্ত খেলাধুলা আয়োজনের ক্ষেত্রে খেলার মাঠের দর্শক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ নিয়ে খেলা পরিচালনা করা যাবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৮ জুন থেকে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সেবা দেবে। গণপরিবহন ধারণক্ষমতার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে চলাচল করতে পারবে।

পর্তুগালে ৯ জুন পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৫২২ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ হাজার ৩৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৯ জন। বর্তমানে ২৩ হাজার ৯৬৬ জন আক্রান্ত অবস্থায় আছেন।

সর্বশেষ গত ৬ জুন পর্যন্ত ভ্যাকসিন বুলেটিন অনুযায়ী, মোট ৬৩ লাখ ১ হাজার ৫৮৫ জন করোনার টিকা নিয়েছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি। এরইমধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৫ জন ও পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন ২৩ লাখ ১৫ হাজার নাগরিক।

বর্তমানে চল্লিশ এবং এর বেশি বয়সের নাগরিকদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০ জুন থেকে ত্রিশোর্ধ্ব নাগরিকরা করোনার টিকার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন। পর্তুগাল সরকার আশা করছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে ৭০ শতাংশ নাগরিককে করোনা টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারবে।

Leave a Reply